ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী ‘যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে’:মির্জা ফখরুল পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্যেই গড়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ: আমিনুল হক বাধ্যতামূলক অবসরে অতিরিক্ত ডিআইজি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে রাশেদ খাঁনের শ্রদ্ধা নিবেদন মার্কিন সেনা হত্যার জন্য ইরানকে বহুগুণ বেশি মূল্য চোকাতে হবে: ট্রাম্প প্রতিটি কর্মঘণ্টা ও করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে:জনপ্রশাসন উপদেষ্টা জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন ‘জেন্টলম্যান ফর এক্সেলেন্স’: প্রধান বিচারপতি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিমসটেকের সক্রিয় ভূমিকা চায় ঢাকা কাপ্তাই হৃদে নিখোঁজ বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার

হত্যা মামলায় মা গ্রেপ্তার, সন্তানদের খাবার দিলো পুলিশ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় তাহমিনা বেগমকে (৩৮)। স্বামী খোঁজ রাখেন না বলে একাই সন্তানদের মানুষ করছিলেন তিনি। তাহমিনাকে গ্রেপ্তারের পর সন্তানেরা পড়েন বিপদে। তাই তাদের কিছুদিনের খাদ্যসামগ্রী দিয়েছে পুলিশ। রাজশাহীর বাগমারা থানা পুলিশ এই মানবিকতা দেখিয়েছে।

তাহমিনার বাড়ি উপজেলার ধামিন কামনগর গ্রামে। তার স্বামীর নাম আবদুস সাত্তার। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি স্ত্রীর খোঁজ রাখেন না। দশম শ্রেণি পড়ুয়া এক মেয়ে ও ছোট্ট দুই শিশুকে নিয়ে তাহমিনা একাই সংসার টানতেন। এ জন্য গ্রামের দুটি বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতে হতো তাহমিনাকে।

অভিযোগ উঠেছে, পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক এবং পাঁচ হাজার টাকার প্রলোভনে সুখেন কুমার সরকার নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তাহমিনা। তার বাড়ি ধামিন কামনগর গ্রামেই। গত ১৯ এপ্রিল গ্রামের একটি আম গাছের নিচে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় সুখেনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তাহমিনা সুখেন এবং পল্লব নামে দুই ব্যক্তির বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। সুখেনকে খুনে তাহমিনার সঙ্গে পল্লবও জড়িত বলে পুলিশ জানাচ্ছে। ইতোমধ্যে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাহমিনা ও পল্লব দুজনই এখন কারাগারে। গত ২০ এপ্রিল হত্যাকাণ্ডে জড়িত স্বীকার করে তাহমিনা আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, তাহমিনাকে গ্রেপ্তারের পর তার সন্তানগুলো মানবেতর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহিদুল্লাহ তাহমিনার অসহায় সন্তানদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। তিনি বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমানকে সন্তানদের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেয়ার নির্দেশ দেন।

সে অনুযায়ী বুধবার ওসি আতাউর রহমান তাহমিনার তিন সন্তানকে থানায় ডাকেন। এরপর তাদের হাতে কিছু দিনের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।

ইফতেখায়ের আলম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শুধু অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা নয়, সমাজের অসহায় মানুষেরও পাশে রয়েছে জেলা পুলিশ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হত্যা মামলায় মা গ্রেপ্তার, সন্তানদের খাবার দিলো পুলিশ

আপডেট সময় ১১:৩৭:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় তাহমিনা বেগমকে (৩৮)। স্বামী খোঁজ রাখেন না বলে একাই সন্তানদের মানুষ করছিলেন তিনি। তাহমিনাকে গ্রেপ্তারের পর সন্তানেরা পড়েন বিপদে। তাই তাদের কিছুদিনের খাদ্যসামগ্রী দিয়েছে পুলিশ। রাজশাহীর বাগমারা থানা পুলিশ এই মানবিকতা দেখিয়েছে।

তাহমিনার বাড়ি উপজেলার ধামিন কামনগর গ্রামে। তার স্বামীর নাম আবদুস সাত্তার। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি স্ত্রীর খোঁজ রাখেন না। দশম শ্রেণি পড়ুয়া এক মেয়ে ও ছোট্ট দুই শিশুকে নিয়ে তাহমিনা একাই সংসার টানতেন। এ জন্য গ্রামের দুটি বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতে হতো তাহমিনাকে।

অভিযোগ উঠেছে, পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক এবং পাঁচ হাজার টাকার প্রলোভনে সুখেন কুমার সরকার নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তাহমিনা। তার বাড়ি ধামিন কামনগর গ্রামেই। গত ১৯ এপ্রিল গ্রামের একটি আম গাছের নিচে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় সুখেনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তাহমিনা সুখেন এবং পল্লব নামে দুই ব্যক্তির বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। সুখেনকে খুনে তাহমিনার সঙ্গে পল্লবও জড়িত বলে পুলিশ জানাচ্ছে। ইতোমধ্যে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাহমিনা ও পল্লব দুজনই এখন কারাগারে। গত ২০ এপ্রিল হত্যাকাণ্ডে জড়িত স্বীকার করে তাহমিনা আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, তাহমিনাকে গ্রেপ্তারের পর তার সন্তানগুলো মানবেতর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহিদুল্লাহ তাহমিনার অসহায় সন্তানদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। তিনি বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমানকে সন্তানদের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেয়ার নির্দেশ দেন।

সে অনুযায়ী বুধবার ওসি আতাউর রহমান তাহমিনার তিন সন্তানকে থানায় ডাকেন। এরপর তাদের হাতে কিছু দিনের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।

ইফতেখায়ের আলম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শুধু অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা নয়, সমাজের অসহায় মানুষেরও পাশে রয়েছে জেলা পুলিশ।