ঢাকা ১২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

হত্যা মামলায় মা গ্রেপ্তার, সন্তানদের খাবার দিলো পুলিশ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় তাহমিনা বেগমকে (৩৮)। স্বামী খোঁজ রাখেন না বলে একাই সন্তানদের মানুষ করছিলেন তিনি। তাহমিনাকে গ্রেপ্তারের পর সন্তানেরা পড়েন বিপদে। তাই তাদের কিছুদিনের খাদ্যসামগ্রী দিয়েছে পুলিশ। রাজশাহীর বাগমারা থানা পুলিশ এই মানবিকতা দেখিয়েছে।

তাহমিনার বাড়ি উপজেলার ধামিন কামনগর গ্রামে। তার স্বামীর নাম আবদুস সাত্তার। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি স্ত্রীর খোঁজ রাখেন না। দশম শ্রেণি পড়ুয়া এক মেয়ে ও ছোট্ট দুই শিশুকে নিয়ে তাহমিনা একাই সংসার টানতেন। এ জন্য গ্রামের দুটি বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতে হতো তাহমিনাকে।

অভিযোগ উঠেছে, পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক এবং পাঁচ হাজার টাকার প্রলোভনে সুখেন কুমার সরকার নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তাহমিনা। তার বাড়ি ধামিন কামনগর গ্রামেই। গত ১৯ এপ্রিল গ্রামের একটি আম গাছের নিচে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় সুখেনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তাহমিনা সুখেন এবং পল্লব নামে দুই ব্যক্তির বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। সুখেনকে খুনে তাহমিনার সঙ্গে পল্লবও জড়িত বলে পুলিশ জানাচ্ছে। ইতোমধ্যে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাহমিনা ও পল্লব দুজনই এখন কারাগারে। গত ২০ এপ্রিল হত্যাকাণ্ডে জড়িত স্বীকার করে তাহমিনা আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, তাহমিনাকে গ্রেপ্তারের পর তার সন্তানগুলো মানবেতর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহিদুল্লাহ তাহমিনার অসহায় সন্তানদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। তিনি বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমানকে সন্তানদের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেয়ার নির্দেশ দেন।

সে অনুযায়ী বুধবার ওসি আতাউর রহমান তাহমিনার তিন সন্তানকে থানায় ডাকেন। এরপর তাদের হাতে কিছু দিনের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।

ইফতেখায়ের আলম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শুধু অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা নয়, সমাজের অসহায় মানুষেরও পাশে রয়েছে জেলা পুলিশ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

হত্যা মামলায় মা গ্রেপ্তার, সন্তানদের খাবার দিলো পুলিশ

আপডেট সময় ১১:৩৭:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় তাহমিনা বেগমকে (৩৮)। স্বামী খোঁজ রাখেন না বলে একাই সন্তানদের মানুষ করছিলেন তিনি। তাহমিনাকে গ্রেপ্তারের পর সন্তানেরা পড়েন বিপদে। তাই তাদের কিছুদিনের খাদ্যসামগ্রী দিয়েছে পুলিশ। রাজশাহীর বাগমারা থানা পুলিশ এই মানবিকতা দেখিয়েছে।

তাহমিনার বাড়ি উপজেলার ধামিন কামনগর গ্রামে। তার স্বামীর নাম আবদুস সাত্তার। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি স্ত্রীর খোঁজ রাখেন না। দশম শ্রেণি পড়ুয়া এক মেয়ে ও ছোট্ট দুই শিশুকে নিয়ে তাহমিনা একাই সংসার টানতেন। এ জন্য গ্রামের দুটি বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতে হতো তাহমিনাকে।

অভিযোগ উঠেছে, পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক এবং পাঁচ হাজার টাকার প্রলোভনে সুখেন কুমার সরকার নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তাহমিনা। তার বাড়ি ধামিন কামনগর গ্রামেই। গত ১৯ এপ্রিল গ্রামের একটি আম গাছের নিচে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় সুখেনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তাহমিনা সুখেন এবং পল্লব নামে দুই ব্যক্তির বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। সুখেনকে খুনে তাহমিনার সঙ্গে পল্লবও জড়িত বলে পুলিশ জানাচ্ছে। ইতোমধ্যে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাহমিনা ও পল্লব দুজনই এখন কারাগারে। গত ২০ এপ্রিল হত্যাকাণ্ডে জড়িত স্বীকার করে তাহমিনা আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, তাহমিনাকে গ্রেপ্তারের পর তার সন্তানগুলো মানবেতর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহিদুল্লাহ তাহমিনার অসহায় সন্তানদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। তিনি বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমানকে সন্তানদের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেয়ার নির্দেশ দেন।

সে অনুযায়ী বুধবার ওসি আতাউর রহমান তাহমিনার তিন সন্তানকে থানায় ডাকেন। এরপর তাদের হাতে কিছু দিনের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।

ইফতেখায়ের আলম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শুধু অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা নয়, সমাজের অসহায় মানুষেরও পাশে রয়েছে জেলা পুলিশ।