আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
প্রাণসংহারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে আসন্ন রমজান মাসে মসজিদে না গিয়ে ঘরে বসে তারাবির নামাজ আদায় করতে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার সকালে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা বিভাগের নয় জেলার মাঠ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। সকাল ১০টায় সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন সরকারপ্রধান।
শেখ হাসিনা বলেন, সৌদি আরবেও মসজিদে জমায়েতের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আছে। সেখানে রমজানের তারাবির নামাজ মসজিদে না পড়ার বিষয়ে বলা হয়েছে। সবাই ঘরে বসে পড়বে৷ খুব সীমিত আকারে তারা নামাজ পড়ছে। আমাদের এখানেও সামনে রমজান মাসে ঘরে বসে তারাবি পড়ার জন্য অনুরোধ করছি।
‘ঠিক এভাবে মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, এমনকি ভ্যাটিকান সিটি পর্যন্ত সবাই নিজেকে সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করেছে। কাজেই এ বিষয়গুলো থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়ার আছে। আমরা ইতিমধ্যে মসজিদে না গিয়ে নিজের ঘরে বসে নামাজ পড়ছি। কারণ আল্লাহর ইবাদত, সেটা আপনি যেকোনো জায়গায় করতে পারেন। এটাতো আল্লাহর কাছে সরাসরি আপনি করবেন। ঘরে ইবাদত করার সুযোগ আছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, তারাবির নামাজ যেহেতু সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশে হচ্ছে না৷ আমাদের এখানেও ইসলামিক ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যে কতগুলো নির্দেশনা দিয়েছেন, তাই ঘরে বসে তারাবি পড়েন। নিজের মনমতো করে পড়েন। আল্লাহকে ডাকতে হবে, ঘরে বসে ইবাদত করতে হবে। আপনি আপনার মতো করে যতবেশি করতে পারেন আল্লাহ সেটাই কবুল করবেন। কাজেই সেইভাবে আপনারা করবেন। অযথা মসজিদে গিয়ে নিজে সংক্রমিত হয়ে অন্যকে সংক্রামিত করবেন না। এ বিষয়টা সকলেই মেনে চলবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাহির থেকে মানুষ আসছে বলেই তার দ্বারা সংক্রামিত হচ্ছে। যাদের মধ্যে এতটুকু সন্দেহ আছে, অথবা কেউ কোথাও এই ভাইরাসে আক্রান্ত এমন পরিবার থেকে অন্য কোথাও কেউ যাবেন না। গেলে পরে আপনি অন্যকে সংক্রামিত করতে পারেন। সেই জন্য সবাইকে যাতায়াতটা বন্ধ করতে হবে। আমরা দেখেছি বিভিন্ন জায়গায় সংক্রমিত ছিলো না। নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, শিবচর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর থেকে কেউ কোন জায়গায় চলে গেলো কিংবা ইতালি থেকে কোন জায়গায় চলে গেলো সেখান থেকেই এই প্রাদুর্ভাব দেখা দিলো।
চিকিৎসক-নার্সদের সুরক্ষা সামগ্রী থাকার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ডাক্তার, নার্স, সকলের জন্য সুরক্ষা সামগ্রী আছে। রোগীর জন্য বেডের ব্যবস্থা যথাযথভাবে করা হচ্ছে। যেহেতু আমাদের রোগী বৃদ্ধি পেয়েছে, আমাদের এখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ১২৩১। যার মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ৫০ জন। আর ৫০ জনের বেশি রোগী সুস্থ হয়েছে। আমরা তাদেরও কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করেছি।
সরকারপ্রধান বলেন, বিশ্বের অবস্থা আরও ভয়াবহ। বিশ্বব্যাপী যে হিসাব তাতে দেখা যাচ্ছে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সারাবিশ্বে ১৮ লাখ ৪৪ হাজার ৮৬৩ রোগী শনাক্ত হয়েছে। তার মধ্যে মারা গেছে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১ জন। কাজেই বিশ্বের অবস্থা আরও ভয়াবহ। সেক্ষেত্রে আমরা আগে থেকে ব্যবস্থা নিয়েছি বলেই আমরা এখনও যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। কিন্তু একটা লোক মারা যাক সেটা আমরা চাই না। সবাই সুস্থ থাকুক সেটাই আমরা চাই।
শেখ হাসিনা বলেন, এইযে ভাইরাসটা দেখা দিলো। এভাবে যে একটা ভাইরাস এসে সারা বিশ্বকে ঘরবন্দী করে ফেলবে এটা কেউ কি ভেবেছে? সারাবিশ্বে অনেক শক্তিশালী দেশ, তাদের শক্তির দাপটে বিশ্ব আজকে অস্থির। আবার শক্তিশালী এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের যুদ্ধ, লড়াই, সংঘাত আমরা দেখেছি। অস্ত্রের মহড়া আমরা দেখেছি। সেই অর্থ, সম্পদ কোনো কাজেই আসেনি, কোন কাজে লাগবে না৷ সেটাই প্রমাণ করে দিলো এই করোনাভাইরাস। কাজেই সবাইকে সুরক্ষিত ও সাবধানে থাকতে হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















