ঢাকা ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে খাগড়াছড়ির ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রবল ও মাঝারি বর্ষণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় ইতোমধ্যে ৩টি বিদ্যালয়ে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পাঠদান বন্ধ রাখতে ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মো: শেখ শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পাঠদান বন্ধ থাকা বিদ্যালয়গুলো হলো ক্ষেত্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মায়াফা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চমড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, মায়াফা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১০৫ জন, তন্মধ্যে পিএসসি পরীক্ষার্থী ১৪ জন। চমড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৮২ জন, তন্মধ্যে পিএসসি পরীক্ষার্থী ১৯ জন। সরেজমিনে ৫ জুলাই মায়াফা পাড়া এলাকা গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় ভবনের কয়েক ফুট দূর থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। ভবনের পিলারগুলোও অধিকাংশ ভেঙ্গে গেছে। এতে করে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন। তন্মধ্যে গত কয়েকদিন বর্ষণ অব্যাহত থাকায় বিদ্যালয় ভবনের নিচের অংশের মাটি সরতে শুরু হওয়ায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের নির্দেশে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে। মায়াফা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিএসসি পরীক্ষার্থী ধন্য চরণ ত্রিপুরা জানান, বৃষ্টি পড়ায় গতকাল মঙ্গলবার বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দেয় স্যাররা। কিন্তু আজ বাসা থেকে জোর করে স্কুলে পাঠানো হয়েছে। স্কুলের সামনে বসে থাকা দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী জোবালি ত্রিপুরা, নাইলাটি ত্রিপুরা, নিমান চাকমা জানেনা তাদের বিদ্যালয়ে ক্লাশ হবে না। প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে এসে হাজির হয়েছে তারা। তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী তুরান ত্রিপুরার পিতা তজেন্দ্র ত্রিপুরা জানান, পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় গত মঙ্গলবার থেকে বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করে শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ে উঠার রাস্তা কাঁদাময় হওয়ায় ছেলেমেয়েরা উঠতে অসুবিধা হচ্ছে। তার উপর পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে আমরা শঙ্কিত। ননাইটি ত্রিপুরা নামে আরেক অভিভাবক জানান, ঈদের দীর্ঘ ছুটির পর বিদ্যালয় গুলো খোলার পর শিক্ষার্থীরা ক্লাশ করতে পারছে না। কিছুদিন পর বিদ্যালয়ে পরীক্ষা হবে। পিএসসি পরীক্ষারা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারছে না। মায়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক টিপলু বড়ুয়া জানান, পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত মঙ্গলবার থেকে বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়ে দুপুরে খাবার দেয়ায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসছে। পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় পার্বত্য জেলা পরিষদ গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের নিচে একটি ধারক দেয়াল নির্মাণ করে দেয়। কিন্তু গত কয়েকদিনের বর্ষণে বিদ্যালয়ের নিচের অংশের মাটি সরে যেতে শুরু করেছে। এতে করে পাহাড় ধসের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। চমড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তন্ময়া চাকমা জানান, পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় গত মঙ্গলবার থেকে প্রশাসনকে অবহিত করে বিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মো: শেখ শহিদুল ইসলাম জানান, প্রবল ও মাঝারি বর্ষণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় গত মঙ্গলবার উপজেলার দুইটি বিদ্যালয় ও বুধবার আরেকটি বিদ্যালয়সহ তিনটি বিদ্যালয়ে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময় পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কমিটি সভায় উপজেলার ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে অবগত করা হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশই নির্মাণ ত্রুটির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া দীঘিনালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা ১৫ পরিবারকে রসিকনগর মাদ্রাসায় খোলা অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা হয়েছে বলে জানান ইউএনও। আঞ্চলিক-অভ্যন্তরীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত: কয়েকদিনের টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ির জেলা শহরের সাথে বিভিন্ন উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে ধস ও ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সড়ক বিভাগ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মোছলেম উদ্দিন। তিনি জানান, গত কয়েকদিনের বর্ষণে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি-ঢাকাসহ বিভিন্ন উপজেলার সড়কে ধস ও ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় তাৎক্ষনিক সেগুলো সংস্কারের কাজ চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে খাগড়াছড়ির ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

আপডেট সময় ০৪:২৫:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুলাই ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রবল ও মাঝারি বর্ষণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় ইতোমধ্যে ৩টি বিদ্যালয়ে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পাঠদান বন্ধ রাখতে ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মো: শেখ শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পাঠদান বন্ধ থাকা বিদ্যালয়গুলো হলো ক্ষেত্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মায়াফা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চমড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, মায়াফা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১০৫ জন, তন্মধ্যে পিএসসি পরীক্ষার্থী ১৪ জন। চমড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৮২ জন, তন্মধ্যে পিএসসি পরীক্ষার্থী ১৯ জন। সরেজমিনে ৫ জুলাই মায়াফা পাড়া এলাকা গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় ভবনের কয়েক ফুট দূর থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। ভবনের পিলারগুলোও অধিকাংশ ভেঙ্গে গেছে। এতে করে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন। তন্মধ্যে গত কয়েকদিন বর্ষণ অব্যাহত থাকায় বিদ্যালয় ভবনের নিচের অংশের মাটি সরতে শুরু হওয়ায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের নির্দেশে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে। মায়াফা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিএসসি পরীক্ষার্থী ধন্য চরণ ত্রিপুরা জানান, বৃষ্টি পড়ায় গতকাল মঙ্গলবার বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দেয় স্যাররা। কিন্তু আজ বাসা থেকে জোর করে স্কুলে পাঠানো হয়েছে। স্কুলের সামনে বসে থাকা দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী জোবালি ত্রিপুরা, নাইলাটি ত্রিপুরা, নিমান চাকমা জানেনা তাদের বিদ্যালয়ে ক্লাশ হবে না। প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে এসে হাজির হয়েছে তারা। তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী তুরান ত্রিপুরার পিতা তজেন্দ্র ত্রিপুরা জানান, পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় গত মঙ্গলবার থেকে বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করে শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ে উঠার রাস্তা কাঁদাময় হওয়ায় ছেলেমেয়েরা উঠতে অসুবিধা হচ্ছে। তার উপর পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে আমরা শঙ্কিত। ননাইটি ত্রিপুরা নামে আরেক অভিভাবক জানান, ঈদের দীর্ঘ ছুটির পর বিদ্যালয় গুলো খোলার পর শিক্ষার্থীরা ক্লাশ করতে পারছে না। কিছুদিন পর বিদ্যালয়ে পরীক্ষা হবে। পিএসসি পরীক্ষারা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারছে না। মায়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক টিপলু বড়ুয়া জানান, পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত মঙ্গলবার থেকে বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়ে দুপুরে খাবার দেয়ায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসছে। পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় পার্বত্য জেলা পরিষদ গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের নিচে একটি ধারক দেয়াল নির্মাণ করে দেয়। কিন্তু গত কয়েকদিনের বর্ষণে বিদ্যালয়ের নিচের অংশের মাটি সরে যেতে শুরু করেছে। এতে করে পাহাড় ধসের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। চমড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তন্ময়া চাকমা জানান, পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় গত মঙ্গলবার থেকে প্রশাসনকে অবহিত করে বিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মো: শেখ শহিদুল ইসলাম জানান, প্রবল ও মাঝারি বর্ষণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় গত মঙ্গলবার উপজেলার দুইটি বিদ্যালয় ও বুধবার আরেকটি বিদ্যালয়সহ তিনটি বিদ্যালয়ে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময় পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কমিটি সভায় উপজেলার ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে অবগত করা হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশই নির্মাণ ত্রুটির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া দীঘিনালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা ১৫ পরিবারকে রসিকনগর মাদ্রাসায় খোলা অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা হয়েছে বলে জানান ইউএনও। আঞ্চলিক-অভ্যন্তরীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত: কয়েকদিনের টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ির জেলা শহরের সাথে বিভিন্ন উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে ধস ও ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সড়ক বিভাগ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মোছলেম উদ্দিন। তিনি জানান, গত কয়েকদিনের বর্ষণে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি-ঢাকাসহ বিভিন্ন উপজেলার সড়কে ধস ও ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় তাৎক্ষনিক সেগুলো সংস্কারের কাজ চলছে।