ঢাকা ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাষ্ট্র পুনর্গঠনে জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন: আ স ম রব ‘ক্ষমতা সীমিত’ হওয়ায় অনেক কাজ করা সম্ভব হয়নি: সাবেক উপদেষ্টা পাকিস্তানের অনুরোধেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি: ট্রাম্প হাম ও উপসর্গে মৃত্যু:পরিস্থিতির অবনতি হলে হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওমানে গাড়ির ভেতর চার ভাইয়ের মৃত্যু কার্বন মনোক্সাইডে, ধারণা পুলিশের রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই একমাত্র সমাধান : জাতিসংঘে শামা ওবায়েদ তৎকালীন আওয়ামী সরকারের কারণে জনগণ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত: মির্জা ফখরুল সংবিধান সংশোধন: প্রতিশ্রুতি ছাড়া কমিটিতে থাকতে চায় না জামায়াত পশ্চিমবঙ্গে জোট নয়; ‘একলা লড়াই’র ডাক রাহুল গান্ধীর বিশেষায়িত ইউনিটে জনবল বৃদ্ধি চায় পুলিশ

৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্ররোচনার অভিযোগ প্রমাণিত: শিক্ষামন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্কুলে ডেকে বাবা-মাকে অপমান করায় নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচনীকারী হিসেবে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের তিন শিক্ষক জড়িত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তারা হলেন-ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান শিক্ষক জিনাত আরা ও শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনা।

এ তিন শিক্ষকের এমপিও বাতিলের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করাসহ আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ৩ ডিসেম্বর রাতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তিন দিন সময় দেয়া হলেও তার আগেই তারা প্রতিবেদন দিয়েছে।

প্রতিবেদনে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের বিষয় উঠে আসে বলে জানান তিনি।

নাহিদ বলেন, তদন্ত কমিটি তিন শিক্ষককে প্ররোচক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এখন পুলিশও হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারবে না। পরিচালনা কমিটিও বসে থাকতে পারবে না।

এদিকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে অরিত্রির বাবা দিলীপ অধিকারীর করা মামলায় এ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে স্কুলটির আজ ও আগামীকালের সব পরীক্ষা ও ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। ভিকারুননিসা স্কুলের প্রভাতী শাখার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মহসিন বলেন, পরবর্তী পরীক্ষা ও ক্লাস কখন হবে মোবাইলে এসএমএমের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।

অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তাল ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

বুধবার সকাল থেকে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন।

নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা ‘শাসন করুন অপমান নয়,’ ‘কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আর কত শিক্ষার্থী প্রাণ দেবে,’ ‘শিক্ষার্থীদের অপরাধের শাস্তি যদি টিসি হয়, তবে শিক্ষকদের অপরাধের শাস্তি কী হবে?’ বলে স্লোগান দেয়।

অভিভাবকদের অভিযোগ- শিক্ষকরা কখনও শিশুদের সমস্যা নিয়ে গার্ডিয়ানদের সঙ্গে কথা বলতে চান না। এমনকি বাচ্চার কোনো সমস্যা নিয়ে গেলে সমাধান করার চেষ্টা করে না।

বিক্ষোভকারীরা বলছেন, শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস অনুযায়ী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

অরিত্রির বিরুদ্ধে স্কুল কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নকলের অভিযোগ এনেছিল। এ জন্য অরিত্রির মা-বাবাকে ডেকে নেন ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ।

তাদের ডেকে মেয়ের সামনেই অপমান করে বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে অরিত্রিকে নকলের অভিযোগে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেয়া হবে। এ অপমান সইতে না পেরে বাসায় এসে অরিত্রি আত্মহত্যা করে।

পুলিশ ও পরিবারের তথ্যানুযায়ী, সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় রাজধানীর শান্তিনগরে সাততলা ভবনের সপ্তম তলায় নিজ ফ্ল্যাটের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় অরিত্রিকে পাওয়া যায়।

এর পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসকরা অরিত্রিকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই ছাত্রীর গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদরে। অরিত্রির বাবা দিলীপ কুমার একজন সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্র পুনর্গঠনে জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন: আ স ম রব

৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্ররোচনার অভিযোগ প্রমাণিত: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:১৪:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ ডিসেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্কুলে ডেকে বাবা-মাকে অপমান করায় নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচনীকারী হিসেবে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের তিন শিক্ষক জড়িত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তারা হলেন-ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান শিক্ষক জিনাত আরা ও শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনা।

এ তিন শিক্ষকের এমপিও বাতিলের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করাসহ আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ৩ ডিসেম্বর রাতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তিন দিন সময় দেয়া হলেও তার আগেই তারা প্রতিবেদন দিয়েছে।

প্রতিবেদনে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের বিষয় উঠে আসে বলে জানান তিনি।

নাহিদ বলেন, তদন্ত কমিটি তিন শিক্ষককে প্ররোচক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এখন পুলিশও হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারবে না। পরিচালনা কমিটিও বসে থাকতে পারবে না।

এদিকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে অরিত্রির বাবা দিলীপ অধিকারীর করা মামলায় এ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে স্কুলটির আজ ও আগামীকালের সব পরীক্ষা ও ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। ভিকারুননিসা স্কুলের প্রভাতী শাখার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মহসিন বলেন, পরবর্তী পরীক্ষা ও ক্লাস কখন হবে মোবাইলে এসএমএমের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।

অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তাল ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

বুধবার সকাল থেকে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন।

নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা ‘শাসন করুন অপমান নয়,’ ‘কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আর কত শিক্ষার্থী প্রাণ দেবে,’ ‘শিক্ষার্থীদের অপরাধের শাস্তি যদি টিসি হয়, তবে শিক্ষকদের অপরাধের শাস্তি কী হবে?’ বলে স্লোগান দেয়।

অভিভাবকদের অভিযোগ- শিক্ষকরা কখনও শিশুদের সমস্যা নিয়ে গার্ডিয়ানদের সঙ্গে কথা বলতে চান না। এমনকি বাচ্চার কোনো সমস্যা নিয়ে গেলে সমাধান করার চেষ্টা করে না।

বিক্ষোভকারীরা বলছেন, শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস অনুযায়ী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

অরিত্রির বিরুদ্ধে স্কুল কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নকলের অভিযোগ এনেছিল। এ জন্য অরিত্রির মা-বাবাকে ডেকে নেন ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ।

তাদের ডেকে মেয়ের সামনেই অপমান করে বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে অরিত্রিকে নকলের অভিযোগে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেয়া হবে। এ অপমান সইতে না পেরে বাসায় এসে অরিত্রি আত্মহত্যা করে।

পুলিশ ও পরিবারের তথ্যানুযায়ী, সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় রাজধানীর শান্তিনগরে সাততলা ভবনের সপ্তম তলায় নিজ ফ্ল্যাটের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় অরিত্রিকে পাওয়া যায়।

এর পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসকরা অরিত্রিকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই ছাত্রীর গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদরে। অরিত্রির বাবা দিলীপ কুমার একজন সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী।