ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

নাসিরকে আর উপেক্ষা করা গেল না

অাকাশ স্পোর্টস ডেস্ক: 

বাংলাদেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে আলোচিত এবং সমালোচিত নামটি হলো নাসির হোসেন। সবচেয়ে বড় আক্ষেপের নামও নাসির। একসময় ‘দ্য ফিনিশার’ খেতাব পাওয়া নাসির ব্রাত্য হয়ে পড়েছিলেন জাতীয় দলে। তাকে কেন নেওয়া হচ্ছে না তা একটা রহস্য। হঠাৎ দুই-একটা ওয়ানডেতে সুযোগ পেলেও সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তবু জায়গা পাকা হচ্ছিল না। এবার যোগ্যতা প্রমাণ করেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দলে ফিরলেন এই অল-রাউন্ডার।

সর্বশেষ ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিলেন ২৫ বছর বয়সী নাসির। তারপর থেকেই বাদ। এর মধ্যে ইংল্যান্ড সিরিজ, নিউজিল্যান্ড সিরিজ, শ্রীলঙ্কা সিরিজ, ভারতে একমাত্র টেস্ট- কোনোটাতেই নাসিরের জায়গা হয়নি। কেন হয়নি? তার কোনো গ্রহণযোগ্য জবাব ছিল না।

মাঠের বাইরে তার আচরণগত কিছু সমস্যার কথা ওই সময়ে মিডিয়ায় এসেছিল। তবে এসবের কোনটারই কোনো জবাব দেননি সবসময় সতীর্থদের আনন্দে মাতিয়ে রাখা আমুদে ক্রিকেটার নাসির।
তবে, মাঠের বাইরে থাকার এই কঠিন সময়ে হতাশ হয়ে পড়েননি নাসির। নিয়মিত খেলেছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তার উজ্জ্বল পারফরমেন্স নজর কাড়ে সবার। ঘরোয়া এই লিগে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের হয়ে তিনি এতটাই ভালো করছিলেন যে একসময় প্রতিপক্ষ ক্রিকেটাররা মজা করে বলতেন, ‘নাসির প্লিজ আউট হয়ে যা’। ৮ ম্যাচ খেলে ২ সেঞ্চুরি, ৩ হাফ সেঞ্চুরিসহ অবিশ্বাস্য ২৪০.০০ গড়ে করেন ৪৮০ রান। স্ট্রাইক রেট ছিল ৯৪.৮৬।

ডিপিএল চলাকালীন সময়েই আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের একমাত্র ম্যাচে সুযোগ পান নাসির। সেই ম্যাচে বল হাতে ২ উইকেট নেন। ব্যাটিংয়ে নামার প্রয়োজন হয়নি। তারপরও ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলে সুযোগ পাননি তিনি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শেষে জাতীয় দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্পে ডাক পড়ে তার। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডে। চট্টগ্রামে ৩ দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ৩টি করে চার-ছক্কায় ৬২ রানের ঝকঝকে একটি ইনিংস উপহার দেন। সেদিনই সবাই মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে যায় নাসির দলে ফিরছেন।

ওই ইনিংস খেলে নাসির বলেছিলেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করে নজর কাড়তে হবে, এরকম কিছু ছিল না ভাবনা। আমি স্রেফ উপভোগ করছি। অনেক দিন পর লাল বলে ব্যাট করেছি। ভালো লাগছিল খুব। ‘ তিনি আরও বলেছিলেন, তিনি মানসিকভাবে শক্ত আছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, পারফর্মেন্স দেখালে জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়ার কোনো কারণ নেই।

এদিকে বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে নাসিরের তুমুল জনপ্রিয়তা। তার ভক্তরা সোশ্যাল সাইটে দিনের পর দিন নাসিরকে দলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এবার নাসির ২ বছর পর টেস্ট দলে ফিরলেন, একাদশে থাকবেন কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

নাসিরকে আর উপেক্ষা করা গেল না

আপডেট সময় ০৬:১৫:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ স্পোর্টস ডেস্ক: 

বাংলাদেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে আলোচিত এবং সমালোচিত নামটি হলো নাসির হোসেন। সবচেয়ে বড় আক্ষেপের নামও নাসির। একসময় ‘দ্য ফিনিশার’ খেতাব পাওয়া নাসির ব্রাত্য হয়ে পড়েছিলেন জাতীয় দলে। তাকে কেন নেওয়া হচ্ছে না তা একটা রহস্য। হঠাৎ দুই-একটা ওয়ানডেতে সুযোগ পেলেও সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তবু জায়গা পাকা হচ্ছিল না। এবার যোগ্যতা প্রমাণ করেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দলে ফিরলেন এই অল-রাউন্ডার।

সর্বশেষ ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিলেন ২৫ বছর বয়সী নাসির। তারপর থেকেই বাদ। এর মধ্যে ইংল্যান্ড সিরিজ, নিউজিল্যান্ড সিরিজ, শ্রীলঙ্কা সিরিজ, ভারতে একমাত্র টেস্ট- কোনোটাতেই নাসিরের জায়গা হয়নি। কেন হয়নি? তার কোনো গ্রহণযোগ্য জবাব ছিল না।

মাঠের বাইরে তার আচরণগত কিছু সমস্যার কথা ওই সময়ে মিডিয়ায় এসেছিল। তবে এসবের কোনটারই কোনো জবাব দেননি সবসময় সতীর্থদের আনন্দে মাতিয়ে রাখা আমুদে ক্রিকেটার নাসির।
তবে, মাঠের বাইরে থাকার এই কঠিন সময়ে হতাশ হয়ে পড়েননি নাসির। নিয়মিত খেলেছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তার উজ্জ্বল পারফরমেন্স নজর কাড়ে সবার। ঘরোয়া এই লিগে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের হয়ে তিনি এতটাই ভালো করছিলেন যে একসময় প্রতিপক্ষ ক্রিকেটাররা মজা করে বলতেন, ‘নাসির প্লিজ আউট হয়ে যা’। ৮ ম্যাচ খেলে ২ সেঞ্চুরি, ৩ হাফ সেঞ্চুরিসহ অবিশ্বাস্য ২৪০.০০ গড়ে করেন ৪৮০ রান। স্ট্রাইক রেট ছিল ৯৪.৮৬।

ডিপিএল চলাকালীন সময়েই আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের একমাত্র ম্যাচে সুযোগ পান নাসির। সেই ম্যাচে বল হাতে ২ উইকেট নেন। ব্যাটিংয়ে নামার প্রয়োজন হয়নি। তারপরও ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলে সুযোগ পাননি তিনি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শেষে জাতীয় দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্পে ডাক পড়ে তার। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডে। চট্টগ্রামে ৩ দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ৩টি করে চার-ছক্কায় ৬২ রানের ঝকঝকে একটি ইনিংস উপহার দেন। সেদিনই সবাই মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে যায় নাসির দলে ফিরছেন।

ওই ইনিংস খেলে নাসির বলেছিলেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করে নজর কাড়তে হবে, এরকম কিছু ছিল না ভাবনা। আমি স্রেফ উপভোগ করছি। অনেক দিন পর লাল বলে ব্যাট করেছি। ভালো লাগছিল খুব। ‘ তিনি আরও বলেছিলেন, তিনি মানসিকভাবে শক্ত আছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, পারফর্মেন্স দেখালে জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়ার কোনো কারণ নেই।

এদিকে বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে নাসিরের তুমুল জনপ্রিয়তা। তার ভক্তরা সোশ্যাল সাইটে দিনের পর দিন নাসিরকে দলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এবার নাসির ২ বছর পর টেস্ট দলে ফিরলেন, একাদশে থাকবেন কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।