ঢাকা ০৩:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষা ২৭ জুলাই থেকে শুরু দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী ঠোঁট ও তালুকাটা শিশুদের পুনর্বাসনে জাতীয় কর্মসূচি পালন করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার করলে এমপি পদ যাওয়ার সুযোগ নেই : ইসি মাছউদ বাবাকে হারিয়েও পরীক্ষা, ইকনের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন শিক্ষামন্ত্রী ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর জামায়াতের সৎ এবং চরিত্রবানের লেবাস খসে খসে পড়তেছে: আব্দুল কাদের জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে জামায়াতসহ ১১ দল আগামী ৫ বছরে ছানিজনিত অন্ধত্ব নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন

নাসিরকে আর উপেক্ষা করা গেল না

অাকাশ স্পোর্টস ডেস্ক: 

বাংলাদেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে আলোচিত এবং সমালোচিত নামটি হলো নাসির হোসেন। সবচেয়ে বড় আক্ষেপের নামও নাসির। একসময় ‘দ্য ফিনিশার’ খেতাব পাওয়া নাসির ব্রাত্য হয়ে পড়েছিলেন জাতীয় দলে। তাকে কেন নেওয়া হচ্ছে না তা একটা রহস্য। হঠাৎ দুই-একটা ওয়ানডেতে সুযোগ পেলেও সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তবু জায়গা পাকা হচ্ছিল না। এবার যোগ্যতা প্রমাণ করেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দলে ফিরলেন এই অল-রাউন্ডার।

সর্বশেষ ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিলেন ২৫ বছর বয়সী নাসির। তারপর থেকেই বাদ। এর মধ্যে ইংল্যান্ড সিরিজ, নিউজিল্যান্ড সিরিজ, শ্রীলঙ্কা সিরিজ, ভারতে একমাত্র টেস্ট- কোনোটাতেই নাসিরের জায়গা হয়নি। কেন হয়নি? তার কোনো গ্রহণযোগ্য জবাব ছিল না।

মাঠের বাইরে তার আচরণগত কিছু সমস্যার কথা ওই সময়ে মিডিয়ায় এসেছিল। তবে এসবের কোনটারই কোনো জবাব দেননি সবসময় সতীর্থদের আনন্দে মাতিয়ে রাখা আমুদে ক্রিকেটার নাসির।
তবে, মাঠের বাইরে থাকার এই কঠিন সময়ে হতাশ হয়ে পড়েননি নাসির। নিয়মিত খেলেছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তার উজ্জ্বল পারফরমেন্স নজর কাড়ে সবার। ঘরোয়া এই লিগে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের হয়ে তিনি এতটাই ভালো করছিলেন যে একসময় প্রতিপক্ষ ক্রিকেটাররা মজা করে বলতেন, ‘নাসির প্লিজ আউট হয়ে যা’। ৮ ম্যাচ খেলে ২ সেঞ্চুরি, ৩ হাফ সেঞ্চুরিসহ অবিশ্বাস্য ২৪০.০০ গড়ে করেন ৪৮০ রান। স্ট্রাইক রেট ছিল ৯৪.৮৬।

ডিপিএল চলাকালীন সময়েই আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের একমাত্র ম্যাচে সুযোগ পান নাসির। সেই ম্যাচে বল হাতে ২ উইকেট নেন। ব্যাটিংয়ে নামার প্রয়োজন হয়নি। তারপরও ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলে সুযোগ পাননি তিনি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শেষে জাতীয় দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্পে ডাক পড়ে তার। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডে। চট্টগ্রামে ৩ দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ৩টি করে চার-ছক্কায় ৬২ রানের ঝকঝকে একটি ইনিংস উপহার দেন। সেদিনই সবাই মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে যায় নাসির দলে ফিরছেন।

ওই ইনিংস খেলে নাসির বলেছিলেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করে নজর কাড়তে হবে, এরকম কিছু ছিল না ভাবনা। আমি স্রেফ উপভোগ করছি। অনেক দিন পর লাল বলে ব্যাট করেছি। ভালো লাগছিল খুব। ‘ তিনি আরও বলেছিলেন, তিনি মানসিকভাবে শক্ত আছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, পারফর্মেন্স দেখালে জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়ার কোনো কারণ নেই।

এদিকে বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে নাসিরের তুমুল জনপ্রিয়তা। তার ভক্তরা সোশ্যাল সাইটে দিনের পর দিন নাসিরকে দলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এবার নাসির ২ বছর পর টেস্ট দলে ফিরলেন, একাদশে থাকবেন কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষা ২৭ জুলাই থেকে শুরু

নাসিরকে আর উপেক্ষা করা গেল না

আপডেট সময় ০৬:১৫:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ স্পোর্টস ডেস্ক: 

বাংলাদেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে আলোচিত এবং সমালোচিত নামটি হলো নাসির হোসেন। সবচেয়ে বড় আক্ষেপের নামও নাসির। একসময় ‘দ্য ফিনিশার’ খেতাব পাওয়া নাসির ব্রাত্য হয়ে পড়েছিলেন জাতীয় দলে। তাকে কেন নেওয়া হচ্ছে না তা একটা রহস্য। হঠাৎ দুই-একটা ওয়ানডেতে সুযোগ পেলেও সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তবু জায়গা পাকা হচ্ছিল না। এবার যোগ্যতা প্রমাণ করেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দলে ফিরলেন এই অল-রাউন্ডার।

সর্বশেষ ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিলেন ২৫ বছর বয়সী নাসির। তারপর থেকেই বাদ। এর মধ্যে ইংল্যান্ড সিরিজ, নিউজিল্যান্ড সিরিজ, শ্রীলঙ্কা সিরিজ, ভারতে একমাত্র টেস্ট- কোনোটাতেই নাসিরের জায়গা হয়নি। কেন হয়নি? তার কোনো গ্রহণযোগ্য জবাব ছিল না।

মাঠের বাইরে তার আচরণগত কিছু সমস্যার কথা ওই সময়ে মিডিয়ায় এসেছিল। তবে এসবের কোনটারই কোনো জবাব দেননি সবসময় সতীর্থদের আনন্দে মাতিয়ে রাখা আমুদে ক্রিকেটার নাসির।
তবে, মাঠের বাইরে থাকার এই কঠিন সময়ে হতাশ হয়ে পড়েননি নাসির। নিয়মিত খেলেছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তার উজ্জ্বল পারফরমেন্স নজর কাড়ে সবার। ঘরোয়া এই লিগে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের হয়ে তিনি এতটাই ভালো করছিলেন যে একসময় প্রতিপক্ষ ক্রিকেটাররা মজা করে বলতেন, ‘নাসির প্লিজ আউট হয়ে যা’। ৮ ম্যাচ খেলে ২ সেঞ্চুরি, ৩ হাফ সেঞ্চুরিসহ অবিশ্বাস্য ২৪০.০০ গড়ে করেন ৪৮০ রান। স্ট্রাইক রেট ছিল ৯৪.৮৬।

ডিপিএল চলাকালীন সময়েই আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের একমাত্র ম্যাচে সুযোগ পান নাসির। সেই ম্যাচে বল হাতে ২ উইকেট নেন। ব্যাটিংয়ে নামার প্রয়োজন হয়নি। তারপরও ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলে সুযোগ পাননি তিনি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শেষে জাতীয় দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্পে ডাক পড়ে তার। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডে। চট্টগ্রামে ৩ দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ৩টি করে চার-ছক্কায় ৬২ রানের ঝকঝকে একটি ইনিংস উপহার দেন। সেদিনই সবাই মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে যায় নাসির দলে ফিরছেন।

ওই ইনিংস খেলে নাসির বলেছিলেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করে নজর কাড়তে হবে, এরকম কিছু ছিল না ভাবনা। আমি স্রেফ উপভোগ করছি। অনেক দিন পর লাল বলে ব্যাট করেছি। ভালো লাগছিল খুব। ‘ তিনি আরও বলেছিলেন, তিনি মানসিকভাবে শক্ত আছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, পারফর্মেন্স দেখালে জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়ার কোনো কারণ নেই।

এদিকে বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে নাসিরের তুমুল জনপ্রিয়তা। তার ভক্তরা সোশ্যাল সাইটে দিনের পর দিন নাসিরকে দলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এবার নাসির ২ বছর পর টেস্ট দলে ফিরলেন, একাদশে থাকবেন কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।