অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
লক্ষ্মীপুরে হাসপাতালগুলোতে প্রতিনিয়তই বাড়ছে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। প্রচণ্ড গরমে প্রায় সব বয়সের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে সদর হাসপাতালেই প্রায় ৮শতাধিক শিশু চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে চার শতাধিক শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১০০ শয্যার লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুরা চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ভিড় করছেন। আক্রান্ত হয়ে জরুরি বিভাগে ৭০-৮০জন শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে।
এর মধ্যে গড়ে ৩০-৪৫জন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। প্রতিটি বেডে ২-৩জন রোগী ভর্তি করানো হচ্ছে।
প্রয়োজনের তুলনায় হাসপাতালে বেড না থাকায় হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। এক বেডে এক শিশুকে চিকিৎসা দেয়ার কথা থাকলেও প্রতি বেডে দুই শিশুকে স্থান দেয়া হচ্ছে। এমনকী ফ্লোরেও স্থান সংকুলান হচ্ছে না রোগীদের।
একই অবস্থা জেলার কমলনগর, রামগতি, রায়পুর ও রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও। পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় এসব রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
শুক্রবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায, তিনতলার শিশু ওয়ার্ডে প্রতিটি বেডে ২ শিশু করে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। বেড না পাওয়ায় মেঝেতেও চিকিৎসা নিচ্ছে অনেকেই। পুরুষ, নারী ও শিশু ওয়ার্ডের একই চিত্র।
হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় নারী ওয়ার্ডের ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী হাসনুর বেগম ও তার বড় বোন মাহিনুর বেগম জানায়, ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু বেড না পাওয়ায় মেঝেতে তাদের জায়গায় হয়েছে। এতে করে অসুস্থ রোগীদের সাথে সুস্থরাও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।
রোগীদের অনেকের অভিযোগ, ভর্তির পর হাসপাতাল থেকে তাদের খাবার স্যালাইন ও সামান্য কিছু ওষুধ দেয়া হয়। প্রায় সবধরণের ওষুধ তাদের বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
সদর হাসপাতালের শিশু কনসালটেন্ট ডা. মো. ইছমাইল হাসান ও আবসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, গড়ে ৩৫-৪০জন রোগী ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এছাড়া আউটডোরে গড়ে ১শ থেকে দেড়শ রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়। পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ রয়েছে। জনবল সংকট থাকার পরও সাধ্যমত চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
এসব রোগে আতঙ্কিত না হয়ে বেশি করে স্যালাইন ও ডাবের পানি খাওয়া এবং বাসি খাবার পরিহার করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
জেলা সাভিল সার্জন ডা. মোস্তফা খালেদ আহমদ জানান, প্রতিবছর সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তিনমাস এ সময়ে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্রতিনিয়ত মনিটরিং করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত ঔষধ সরবারহ রয়েছে। ওষুধের কোনো সংকট নেই বলেও জানান তিনি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























