ঢাকা ০৭:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

আমীর খসরুর সম্পদ অনুসন্ধানে হোটেল সারিনায় দুদক

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অবৈধ সম্পদের খোঁজে তার মালিকানাধীন হোটেল সারিনায় অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত হোটেলটিতে মঙ্গলবার সকালে দুদকের পরিচালক কাজী শফিকুল আলমের নেতৃত্বে একটি টিম এ অভিযান পরিচালনা করে। বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে অভিযান শেষ হয়। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের খোঁজে দুদকের একজন পরিচালকের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দুদকের পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা কাজী শফিকুল আলম বলেন, ‘তার (আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী) বিরুদ্ধে আমাদের কাছে কিছু অভিযোগ আছে। সেই অভিযোগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আমরা তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হোটেল সারিনায় গিয়েছি।’ তবে দুদকের অভিযানের কথা অস্বীকার করেছেন হোটেল সারিনার সিকিউরিটি ম্যানেজার আহমেদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এখানে দুদকের কোনো কর্মকর্তা আসেননি। আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই।’

এর আগে আমীর খসরু মাহমুদকে দুদকে হাজির হওয়ার নোটিশের বৈধতা নিয়ে রিট খারিজ করে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেননি চেম্বার আদালত। এর ফলে বিএনপি স্থায়ী কমিটির এই সদস্যকে এখন দুদকে হাজির হতেই হবে। সোমবার চেম্বার বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী ওই আদেশ দেন।

গত ১৬ আগস্ট অবৈধ লেনদেন, মুদ্রা পাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আমীর খসরুকে তলব করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের পরিচালক কাজী শফিকুল আলম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে ২৮ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যকে সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়। উচ্চ আদালতে রিট মামলা বিচারাধীন থাকার কারণ দেখিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ দুদকে হাজির হননি। তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে সময় চান। দুদকের চিঠিতে অভিযোগ আনা হয়, তিনি বেনামে পাঁচ তারকা হোটেল ব্যবসা, ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা অবৈধ লেনদেনসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার এবং নিজ, স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যের নামে শেয়ার ক্রয়সহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।

চট্টগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য আমীর খসরুর বন্দর নগরীর চকবাজার থানার মেহেদীবাগের বাসার ঠিকানায় এ নোটিশ পাঠানো হয়। দুদক পরিচালক কাজী শফিকুল আলম এ অভিযোগের অনুসন্ধান করছেন।
দুদকে হাজির হতে সময় চান মোরশেদ খান : মোবাইল অপারেটর সিটিসেলের নামে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ৩৮৩ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় দুদকের তলবে হাজির না হয়ে সময়ের আবেদন করেছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা এম মোরশেদ খান এবং তার স্ত্রী নাসরিন খান। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. সামছুল আলমের কাছে মঙ্গলবার পাঠানো ওই আবেদনে তারা অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র যুক্ত করেছেন বলে জানা গেছে।

একজন আইনজীবীর মাধ্যমে ওই আবেদন দুদকে পাঠানো হয় জানিয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব যুগান্তরকে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন। এ মামলায় এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর মোরশেদ খান ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল দুদক। সেই নোটিশে ১৮ সেপ্টেম্বর তাদের দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছিল।

গত বছরের ২৮ জুন রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা এ মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোরশেদ খান, তার স্ত্রী, সিটিসেলের এমডি মেহবুব চৌধুরীসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় সিটিসেলের নামে এবি ব্যাংক থেকে অনিয়মের মাধ্যমে সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে।

মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের মূল কোম্পানির নাম প্যাসিফিক টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড (পিবিটিএল)। এম মোরশেদ খান এর চেয়ারম্যান, তার স্ত্রী নাছরিন খানও একজন পরিচালক। মোরশেদ খান এবি ব্যাংকেরও চেয়ারম্যান ছিলেন। বাংলাদেশের প্রথম টেলিকম অপারেটর সিটিসেল ২০১৬ সালে দেনার দায়ে বন্ধ হয়ে যায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

আমীর খসরুর সম্পদ অনুসন্ধানে হোটেল সারিনায় দুদক

আপডেট সময় ১২:৩৫:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অবৈধ সম্পদের খোঁজে তার মালিকানাধীন হোটেল সারিনায় অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত হোটেলটিতে মঙ্গলবার সকালে দুদকের পরিচালক কাজী শফিকুল আলমের নেতৃত্বে একটি টিম এ অভিযান পরিচালনা করে। বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে অভিযান শেষ হয়। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের খোঁজে দুদকের একজন পরিচালকের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দুদকের পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা কাজী শফিকুল আলম বলেন, ‘তার (আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী) বিরুদ্ধে আমাদের কাছে কিছু অভিযোগ আছে। সেই অভিযোগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আমরা তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হোটেল সারিনায় গিয়েছি।’ তবে দুদকের অভিযানের কথা অস্বীকার করেছেন হোটেল সারিনার সিকিউরিটি ম্যানেজার আহমেদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এখানে দুদকের কোনো কর্মকর্তা আসেননি। আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই।’

এর আগে আমীর খসরু মাহমুদকে দুদকে হাজির হওয়ার নোটিশের বৈধতা নিয়ে রিট খারিজ করে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেননি চেম্বার আদালত। এর ফলে বিএনপি স্থায়ী কমিটির এই সদস্যকে এখন দুদকে হাজির হতেই হবে। সোমবার চেম্বার বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী ওই আদেশ দেন।

গত ১৬ আগস্ট অবৈধ লেনদেন, মুদ্রা পাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আমীর খসরুকে তলব করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের পরিচালক কাজী শফিকুল আলম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে ২৮ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যকে সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়। উচ্চ আদালতে রিট মামলা বিচারাধীন থাকার কারণ দেখিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ দুদকে হাজির হননি। তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে সময় চান। দুদকের চিঠিতে অভিযোগ আনা হয়, তিনি বেনামে পাঁচ তারকা হোটেল ব্যবসা, ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা অবৈধ লেনদেনসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার এবং নিজ, স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যের নামে শেয়ার ক্রয়সহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।

চট্টগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য আমীর খসরুর বন্দর নগরীর চকবাজার থানার মেহেদীবাগের বাসার ঠিকানায় এ নোটিশ পাঠানো হয়। দুদক পরিচালক কাজী শফিকুল আলম এ অভিযোগের অনুসন্ধান করছেন।
দুদকে হাজির হতে সময় চান মোরশেদ খান : মোবাইল অপারেটর সিটিসেলের নামে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ৩৮৩ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় দুদকের তলবে হাজির না হয়ে সময়ের আবেদন করেছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা এম মোরশেদ খান এবং তার স্ত্রী নাসরিন খান। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. সামছুল আলমের কাছে মঙ্গলবার পাঠানো ওই আবেদনে তারা অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র যুক্ত করেছেন বলে জানা গেছে।

একজন আইনজীবীর মাধ্যমে ওই আবেদন দুদকে পাঠানো হয় জানিয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব যুগান্তরকে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন। এ মামলায় এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর মোরশেদ খান ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল দুদক। সেই নোটিশে ১৮ সেপ্টেম্বর তাদের দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছিল।

গত বছরের ২৮ জুন রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা এ মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোরশেদ খান, তার স্ত্রী, সিটিসেলের এমডি মেহবুব চৌধুরীসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় সিটিসেলের নামে এবি ব্যাংক থেকে অনিয়মের মাধ্যমে সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে।

মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের মূল কোম্পানির নাম প্যাসিফিক টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড (পিবিটিএল)। এম মোরশেদ খান এর চেয়ারম্যান, তার স্ত্রী নাছরিন খানও একজন পরিচালক। মোরশেদ খান এবি ব্যাংকেরও চেয়ারম্যান ছিলেন। বাংলাদেশের প্রথম টেলিকম অপারেটর সিটিসেল ২০১৬ সালে দেনার দায়ে বন্ধ হয়ে যায়।