ঢাকা ০৯:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে: জাইমা রহমান চাকরির ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখা উচিত : আমীর খসরু ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রেকেও খেসারত দিতে হবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ভুয়া জরিপ ও মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে রাজনৈতিক ইতিহাস বদলানো যাবে না : দুদু গণ-অভ্যুত্থানের নিষ্ঠুরতম খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে : তাজুল ইসলাম এক্সপেকটেশন যদি ১০ থাকে, অন্তত চার তো অর্জন করতে পেরেছি : আসিফ নজরুল

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে দীর্ঘ অবস্থানের সুযোগ নেই: প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও গণহত্যার মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে দীর্ঘ অবস্থানের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত পাঠাতে সরকারের দৃঢ়প্রত্যয়ের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্থায়ীভাবে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে। তাদের বাংলাদেশে দীর্ঘ অবস্থানের কোনো সুযোগ নেই।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মিলনের এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে বড় আকারের রোহিঙ্গা নিধন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। সেসময় প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা। সবমিলিয়ে আগে থেকে থাকা রোহিঙ্গাসহ ১১ লাখের মতো শরণার্থীর ঠাঁই হয় কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থায়ী-অস্থায়ী ক্যাম্পে।

এসব রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরাতে গেল নভেম্বরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে মিয়ানমার-বাংলাদেশের মধ্যে ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’সই হওয়ার পর কেটে গেছে ১০ মাস। এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের নানা তালবাহানায় কার্যত আলোর মুখ দেখেনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া।

সংসদ নেতা বলেন, তাঁর সরকার রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে স্থায়ীভাবে ফেরত পাঠানোর সর্বময় কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল দেশের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

জাতীয় সংসদে এমপি নুরুল ইসলাম মিলনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কেবল মানবিক কারণে প্রায় ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ায় আমাদের প্রশংসা করেছে এবং এই বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের জন্য যে বড় একটি বোঝা তাও তারা স্বীকার করেছে।’

‘এসব রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগের বিষয়েও বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থন পাচ্ছে।’

বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ বিষয়ে ইতোমধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তি বাস্তবায়নে মিয়ানমারের ওপর অব্যাহত চাপ প্রয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোন কোন দেশ প্রত্যক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করছে আবার কোন কোন দেশ পরোক্ষভাবে বা গোপনে চাপ সৃষ্টি করছে। এমনকি চীন এবং ভারত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য রাখাইন রাজ্যে ঘরবাড়ি তৈরি করছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরায় নিরাপত্তাকর্মীকে পিটিয়ে অস্ত্র ছিনতাই-অপহরণ

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে দীর্ঘ অবস্থানের সুযোগ নেই: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:০৪:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও গণহত্যার মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে দীর্ঘ অবস্থানের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত পাঠাতে সরকারের দৃঢ়প্রত্যয়ের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্থায়ীভাবে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে। তাদের বাংলাদেশে দীর্ঘ অবস্থানের কোনো সুযোগ নেই।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মিলনের এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে বড় আকারের রোহিঙ্গা নিধন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। সেসময় প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা। সবমিলিয়ে আগে থেকে থাকা রোহিঙ্গাসহ ১১ লাখের মতো শরণার্থীর ঠাঁই হয় কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থায়ী-অস্থায়ী ক্যাম্পে।

এসব রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরাতে গেল নভেম্বরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে মিয়ানমার-বাংলাদেশের মধ্যে ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’সই হওয়ার পর কেটে গেছে ১০ মাস। এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের নানা তালবাহানায় কার্যত আলোর মুখ দেখেনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া।

সংসদ নেতা বলেন, তাঁর সরকার রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে স্থায়ীভাবে ফেরত পাঠানোর সর্বময় কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল দেশের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

জাতীয় সংসদে এমপি নুরুল ইসলাম মিলনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কেবল মানবিক কারণে প্রায় ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ায় আমাদের প্রশংসা করেছে এবং এই বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের জন্য যে বড় একটি বোঝা তাও তারা স্বীকার করেছে।’

‘এসব রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগের বিষয়েও বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থন পাচ্ছে।’

বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ বিষয়ে ইতোমধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তি বাস্তবায়নে মিয়ানমারের ওপর অব্যাহত চাপ প্রয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোন কোন দেশ প্রত্যক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করছে আবার কোন কোন দেশ পরোক্ষভাবে বা গোপনে চাপ সৃষ্টি করছে। এমনকি চীন এবং ভারত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য রাখাইন রাজ্যে ঘরবাড়ি তৈরি করছে।’