ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

মন্ত্রীকে রেখেই লাঠিসোঁটা নিয়ে মাঠে ঢুকে ফুটবলারকে মারধর!

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মন্ত্রী ও পুলিশ কর্মকর্তার সামনেই লাঠিসোঁটা নিয়ে মাঠে প্রবেশ করে এক ফুটবলারকে মারধর করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার হাওড়া কর্পোরেশন স্টেডিয়ামে।

কলকাতা প্রিমিয়ার লিগের ‘বি’ডিভিশনে ভবানীপুর ও সাদার্ন সমিতির মধ্যে খেলা চলাকালে মাঠে ঢুকে সাদার্নের অধিনায়ক শ্যাম মণ্ডলকে মারধর করেছেন আইএফএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হাওড়া কর্পোরেশনের মেয়র ইন কাউন্সিল এবং হাওড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রেসিডেন্ট শ্যামল মিত্র।

এ ঘটনার প্রতিবাদে মানবাধিকার কমিশনের কাছে শ্যামল মিত্রের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সুব্রত ভট্টাচার্য ও হেমন্ত ডোরার ভবানীপুর ও সার্দানের ম্যাচটি শুরু থেকেই উত্তেজনার ছিল। বিরতি পর্যন্ত কোনো দলই গোল করতে পারেনি। তবে রেফারি প্রবীর ধরের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে অখুশি ছিলেন সাদার্ন ফুটবলাররা। গ্যালারি থেকেও সমর্থকরা পানির বোতল ও ঢিল ছুড়ছিলেন বলে অভিযোগ। এ অবস্থায় রেফারি নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ম্যাচ শুরু করতে চাচ্ছিলেন না। ফুটবলাররাও তাকে ঘিরে বিক্ষোভ করছিল।

এ সময় দুজন লাঠিধারীকে নিয়ে সটান মাঠের মধ্যে প্রবেশ করেন আইএফএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট শ্যামল মিত্র। সেই সময় সাদার্ন ফুটবলাররা আপত্তি জানালে উত্তেজিত হয়ে দলটির অধিনায়ক শ্যাম মণ্ডলের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ান শ্যামল মিত্র।

মানবাধিকার কমিশনকে পাঠানো সেই ইমেলে এপিডিআরের পক্ষে অভিযোগ করা হয়, হাওড়া কর্পোরেশনের মেয়র ইন কাউন্সিল শ্যামল মিত্র এবং পুলিশ যেভাবে অনৈতিকভাবে মাঠে প্রবেশ করে ফুটবলারদের মারধর করেছেন, তা রীতিমতো অস্বাভাবিক এবং সংশ্লিষ্ট ফুটবলারদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এমনকি সেই সময় মাঠে একজন মন্ত্রী ও সিনিয়র পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলেও তারা আইন ভঙ্গকারীদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করেননি।

এপিডিআরের সহসভাপতি রণজিৎ শূর জানান, পুলিশ এবং আইএফএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাঠে ঢুকে মারধর করেছেন। শ্যামল মিত্র আবার হাওড়া কর্পোরেশনের মেয়র ইন কাউন্সিল এবং হাওড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রেসিডেন্ট। পুলিশ, মন্ত্রীর উপস্থিতি থাকলেও কোনো রকম বাধা দেয়া হয়নি। এতে ফুটবলারদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। তাই এপিডিআরের পক্ষ থেকে মানবাধিকার কমিশনে আবেদন জানানো হয়েছে, তারা যেন এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে।

আইএফএ’র সচিব বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা বিষয়টি দেখব। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ঘটনা নিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর সিএফএল সাব-কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে এই বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

অবশ্য, চলতি মৌসুমে এই প্রথমবার নয়, একের পর এক নেতিবাচক কাণ্ডে শিরোনামে এসেছে কলকাতা লিগ। মোহনবাগান বনাম রেনবো ম্যাচে বিপক্ষ কোচ তড়িৎ ঘোষের মেয়ে ও তার বন্ধুদের শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল মোহনবাগানের সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

এছাড়া জর্জ টেলিগ্রাফ বনাম ইস্টবেঙ্গল ম্যাচে আবার সমর্থকদের উগ্রতা মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হন এক সাংবাদিক।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্ত্রীকে রেখেই লাঠিসোঁটা নিয়ে মাঠে ঢুকে ফুটবলারকে মারধর!

আপডেট সময় ১০:১২:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মন্ত্রী ও পুলিশ কর্মকর্তার সামনেই লাঠিসোঁটা নিয়ে মাঠে প্রবেশ করে এক ফুটবলারকে মারধর করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার হাওড়া কর্পোরেশন স্টেডিয়ামে।

কলকাতা প্রিমিয়ার লিগের ‘বি’ডিভিশনে ভবানীপুর ও সাদার্ন সমিতির মধ্যে খেলা চলাকালে মাঠে ঢুকে সাদার্নের অধিনায়ক শ্যাম মণ্ডলকে মারধর করেছেন আইএফএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হাওড়া কর্পোরেশনের মেয়র ইন কাউন্সিল এবং হাওড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রেসিডেন্ট শ্যামল মিত্র।

এ ঘটনার প্রতিবাদে মানবাধিকার কমিশনের কাছে শ্যামল মিত্রের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সুব্রত ভট্টাচার্য ও হেমন্ত ডোরার ভবানীপুর ও সার্দানের ম্যাচটি শুরু থেকেই উত্তেজনার ছিল। বিরতি পর্যন্ত কোনো দলই গোল করতে পারেনি। তবে রেফারি প্রবীর ধরের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে অখুশি ছিলেন সাদার্ন ফুটবলাররা। গ্যালারি থেকেও সমর্থকরা পানির বোতল ও ঢিল ছুড়ছিলেন বলে অভিযোগ। এ অবস্থায় রেফারি নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ম্যাচ শুরু করতে চাচ্ছিলেন না। ফুটবলাররাও তাকে ঘিরে বিক্ষোভ করছিল।

এ সময় দুজন লাঠিধারীকে নিয়ে সটান মাঠের মধ্যে প্রবেশ করেন আইএফএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট শ্যামল মিত্র। সেই সময় সাদার্ন ফুটবলাররা আপত্তি জানালে উত্তেজিত হয়ে দলটির অধিনায়ক শ্যাম মণ্ডলের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ান শ্যামল মিত্র।

মানবাধিকার কমিশনকে পাঠানো সেই ইমেলে এপিডিআরের পক্ষে অভিযোগ করা হয়, হাওড়া কর্পোরেশনের মেয়র ইন কাউন্সিল শ্যামল মিত্র এবং পুলিশ যেভাবে অনৈতিকভাবে মাঠে প্রবেশ করে ফুটবলারদের মারধর করেছেন, তা রীতিমতো অস্বাভাবিক এবং সংশ্লিষ্ট ফুটবলারদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এমনকি সেই সময় মাঠে একজন মন্ত্রী ও সিনিয়র পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলেও তারা আইন ভঙ্গকারীদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করেননি।

এপিডিআরের সহসভাপতি রণজিৎ শূর জানান, পুলিশ এবং আইএফএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাঠে ঢুকে মারধর করেছেন। শ্যামল মিত্র আবার হাওড়া কর্পোরেশনের মেয়র ইন কাউন্সিল এবং হাওড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রেসিডেন্ট। পুলিশ, মন্ত্রীর উপস্থিতি থাকলেও কোনো রকম বাধা দেয়া হয়নি। এতে ফুটবলারদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। তাই এপিডিআরের পক্ষ থেকে মানবাধিকার কমিশনে আবেদন জানানো হয়েছে, তারা যেন এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে।

আইএফএ’র সচিব বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা বিষয়টি দেখব। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ঘটনা নিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর সিএফএল সাব-কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে এই বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

অবশ্য, চলতি মৌসুমে এই প্রথমবার নয়, একের পর এক নেতিবাচক কাণ্ডে শিরোনামে এসেছে কলকাতা লিগ। মোহনবাগান বনাম রেনবো ম্যাচে বিপক্ষ কোচ তড়িৎ ঘোষের মেয়ে ও তার বন্ধুদের শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল মোহনবাগানের সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

এছাড়া জর্জ টেলিগ্রাফ বনাম ইস্টবেঙ্গল ম্যাচে আবার সমর্থকদের উগ্রতা মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হন এক সাংবাদিক।