ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উগ্রবাদ ঠেকাতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে: সিটিটিসি আগামী সপ্তাহ থেকে কিছুটা গ্যাস সংকট কেটে যাবে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলবে চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল : অর্থমন্ত্রী কমিউনিটি এনগেজমেন্টের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়কে শক্তিশালী করতে হবে: ববি হাজ্জাজ এক হাজার ফাউন্ডারকে জমির দলিল দিল সুখের খামার রাবি ছাত্রীকে চাকু-পিস্তলের ভয় দেখানোর অভিযোগ, পদ্মায় ফেলে দেওয়ার হুমকি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট মালদ্বীপের স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান চলছে, তবে আলোচনার পরিস্থিতি নেই: ইরান

মন্ত্রীকে রেখেই লাঠিসোঁটা নিয়ে মাঠে ঢুকে ফুটবলারকে মারধর!

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মন্ত্রী ও পুলিশ কর্মকর্তার সামনেই লাঠিসোঁটা নিয়ে মাঠে প্রবেশ করে এক ফুটবলারকে মারধর করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার হাওড়া কর্পোরেশন স্টেডিয়ামে।

কলকাতা প্রিমিয়ার লিগের ‘বি’ডিভিশনে ভবানীপুর ও সাদার্ন সমিতির মধ্যে খেলা চলাকালে মাঠে ঢুকে সাদার্নের অধিনায়ক শ্যাম মণ্ডলকে মারধর করেছেন আইএফএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হাওড়া কর্পোরেশনের মেয়র ইন কাউন্সিল এবং হাওড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রেসিডেন্ট শ্যামল মিত্র।

এ ঘটনার প্রতিবাদে মানবাধিকার কমিশনের কাছে শ্যামল মিত্রের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সুব্রত ভট্টাচার্য ও হেমন্ত ডোরার ভবানীপুর ও সার্দানের ম্যাচটি শুরু থেকেই উত্তেজনার ছিল। বিরতি পর্যন্ত কোনো দলই গোল করতে পারেনি। তবে রেফারি প্রবীর ধরের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে অখুশি ছিলেন সাদার্ন ফুটবলাররা। গ্যালারি থেকেও সমর্থকরা পানির বোতল ও ঢিল ছুড়ছিলেন বলে অভিযোগ। এ অবস্থায় রেফারি নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ম্যাচ শুরু করতে চাচ্ছিলেন না। ফুটবলাররাও তাকে ঘিরে বিক্ষোভ করছিল।

এ সময় দুজন লাঠিধারীকে নিয়ে সটান মাঠের মধ্যে প্রবেশ করেন আইএফএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট শ্যামল মিত্র। সেই সময় সাদার্ন ফুটবলাররা আপত্তি জানালে উত্তেজিত হয়ে দলটির অধিনায়ক শ্যাম মণ্ডলের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ান শ্যামল মিত্র।

মানবাধিকার কমিশনকে পাঠানো সেই ইমেলে এপিডিআরের পক্ষে অভিযোগ করা হয়, হাওড়া কর্পোরেশনের মেয়র ইন কাউন্সিল শ্যামল মিত্র এবং পুলিশ যেভাবে অনৈতিকভাবে মাঠে প্রবেশ করে ফুটবলারদের মারধর করেছেন, তা রীতিমতো অস্বাভাবিক এবং সংশ্লিষ্ট ফুটবলারদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এমনকি সেই সময় মাঠে একজন মন্ত্রী ও সিনিয়র পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলেও তারা আইন ভঙ্গকারীদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করেননি।

এপিডিআরের সহসভাপতি রণজিৎ শূর জানান, পুলিশ এবং আইএফএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাঠে ঢুকে মারধর করেছেন। শ্যামল মিত্র আবার হাওড়া কর্পোরেশনের মেয়র ইন কাউন্সিল এবং হাওড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রেসিডেন্ট। পুলিশ, মন্ত্রীর উপস্থিতি থাকলেও কোনো রকম বাধা দেয়া হয়নি। এতে ফুটবলারদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। তাই এপিডিআরের পক্ষ থেকে মানবাধিকার কমিশনে আবেদন জানানো হয়েছে, তারা যেন এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে।

আইএফএ’র সচিব বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা বিষয়টি দেখব। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ঘটনা নিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর সিএফএল সাব-কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে এই বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

অবশ্য, চলতি মৌসুমে এই প্রথমবার নয়, একের পর এক নেতিবাচক কাণ্ডে শিরোনামে এসেছে কলকাতা লিগ। মোহনবাগান বনাম রেনবো ম্যাচে বিপক্ষ কোচ তড়িৎ ঘোষের মেয়ে ও তার বন্ধুদের শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল মোহনবাগানের সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

এছাড়া জর্জ টেলিগ্রাফ বনাম ইস্টবেঙ্গল ম্যাচে আবার সমর্থকদের উগ্রতা মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হন এক সাংবাদিক।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উগ্রবাদ ঠেকাতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে: সিটিটিসি

মন্ত্রীকে রেখেই লাঠিসোঁটা নিয়ে মাঠে ঢুকে ফুটবলারকে মারধর!

আপডেট সময় ১০:১২:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মন্ত্রী ও পুলিশ কর্মকর্তার সামনেই লাঠিসোঁটা নিয়ে মাঠে প্রবেশ করে এক ফুটবলারকে মারধর করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার হাওড়া কর্পোরেশন স্টেডিয়ামে।

কলকাতা প্রিমিয়ার লিগের ‘বি’ডিভিশনে ভবানীপুর ও সাদার্ন সমিতির মধ্যে খেলা চলাকালে মাঠে ঢুকে সাদার্নের অধিনায়ক শ্যাম মণ্ডলকে মারধর করেছেন আইএফএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হাওড়া কর্পোরেশনের মেয়র ইন কাউন্সিল এবং হাওড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রেসিডেন্ট শ্যামল মিত্র।

এ ঘটনার প্রতিবাদে মানবাধিকার কমিশনের কাছে শ্যামল মিত্রের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সুব্রত ভট্টাচার্য ও হেমন্ত ডোরার ভবানীপুর ও সার্দানের ম্যাচটি শুরু থেকেই উত্তেজনার ছিল। বিরতি পর্যন্ত কোনো দলই গোল করতে পারেনি। তবে রেফারি প্রবীর ধরের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে অখুশি ছিলেন সাদার্ন ফুটবলাররা। গ্যালারি থেকেও সমর্থকরা পানির বোতল ও ঢিল ছুড়ছিলেন বলে অভিযোগ। এ অবস্থায় রেফারি নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ম্যাচ শুরু করতে চাচ্ছিলেন না। ফুটবলাররাও তাকে ঘিরে বিক্ষোভ করছিল।

এ সময় দুজন লাঠিধারীকে নিয়ে সটান মাঠের মধ্যে প্রবেশ করেন আইএফএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট শ্যামল মিত্র। সেই সময় সাদার্ন ফুটবলাররা আপত্তি জানালে উত্তেজিত হয়ে দলটির অধিনায়ক শ্যাম মণ্ডলের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ান শ্যামল মিত্র।

মানবাধিকার কমিশনকে পাঠানো সেই ইমেলে এপিডিআরের পক্ষে অভিযোগ করা হয়, হাওড়া কর্পোরেশনের মেয়র ইন কাউন্সিল শ্যামল মিত্র এবং পুলিশ যেভাবে অনৈতিকভাবে মাঠে প্রবেশ করে ফুটবলারদের মারধর করেছেন, তা রীতিমতো অস্বাভাবিক এবং সংশ্লিষ্ট ফুটবলারদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এমনকি সেই সময় মাঠে একজন মন্ত্রী ও সিনিয়র পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলেও তারা আইন ভঙ্গকারীদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করেননি।

এপিডিআরের সহসভাপতি রণজিৎ শূর জানান, পুলিশ এবং আইএফএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাঠে ঢুকে মারধর করেছেন। শ্যামল মিত্র আবার হাওড়া কর্পোরেশনের মেয়র ইন কাউন্সিল এবং হাওড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রেসিডেন্ট। পুলিশ, মন্ত্রীর উপস্থিতি থাকলেও কোনো রকম বাধা দেয়া হয়নি। এতে ফুটবলারদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। তাই এপিডিআরের পক্ষ থেকে মানবাধিকার কমিশনে আবেদন জানানো হয়েছে, তারা যেন এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে।

আইএফএ’র সচিব বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা বিষয়টি দেখব। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ঘটনা নিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর সিএফএল সাব-কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে এই বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

অবশ্য, চলতি মৌসুমে এই প্রথমবার নয়, একের পর এক নেতিবাচক কাণ্ডে শিরোনামে এসেছে কলকাতা লিগ। মোহনবাগান বনাম রেনবো ম্যাচে বিপক্ষ কোচ তড়িৎ ঘোষের মেয়ে ও তার বন্ধুদের শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল মোহনবাগানের সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

এছাড়া জর্জ টেলিগ্রাফ বনাম ইস্টবেঙ্গল ম্যাচে আবার সমর্থকদের উগ্রতা মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হন এক সাংবাদিক।