ঢাকা ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার এখনই সময়: মান্না

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

অনিরাপদ নেত্রী’র সঙ্গে জোটে মরিয়া নাগরিক ঐক্যের প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদুর রহমান মান্নার ফেসবুক কভার ছবিতে এখনো লেখা ‘দুই নেত্রীর হাতে দেশ নিরাপদ নয়। তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার এখনই সময়।’ অথচ দুই নেত্রীর একজন খালেদা জিয়ার বিএনপির সঙ্গে জোট গঠনে যুক্তফ্রন্টে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী মান্না। ফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে তিনিই সবার আগে মাখামাখি শুরু করছেন বিএনপির সঙ্গে।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় মান্না। ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ) একাধিকবারের ভিপি, চাকসুর (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ) জিএস ছিলেন তিনি।

ছাত্রজীবন শেষ করে মূল ধারার রাজনীতিতে এসেছেন। নিজের এলাকা বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে একাধিকবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে দুইবার। একবার ‘জনতা মুক্তি পার্টি’ থেকে। কোনোবারই জয়ী হতে পারেননি এক সময়ের তুখোর এই ছাত্রনেতা। এর মধ্যে মুক্তি পার্টির হয়ে অংশ নিয়ে জামানতের টাকা উদ্ধার হয়নি।

বগুড়ায় জন্ম নেওয়া মান্না ১৯৬৪ সালে ঢাকায় আসেন। ১৯৬৬ সালে এসএসসি পাস করেন আরমানিটোলা স্কুল থেকে। ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন ১৯৬৮ সালে।

ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন মান্না। স্বাধীনতার পর জাসদ গঠিত হলে চলে আসেন দলটিতে। ১৯৭৩ সালে ২২ বছর বয়সে চলে আসেন জাসদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদেও।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ১৯৭২ সালে জাসদ ছাত্রলীগ থেকে চাকসুর জিএস নির্বাচিত হন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ১৯৭৯ সালে জাসদ ছাত্রলীগ থেকে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। এরপরই জাসদ ভেঙে খালেকুজ্জামান ও আ ফ ম মাহবুবুল হকের নেতৃত্বে বাসদ গঠিত হলে মান্না থাকেন তাদের সঙ্গে। বাসদ ছাত্রলীগ থেকে ১৯৮০ সালে নির্বাচন করে দ্বিতীয় দফায় ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন।

এক সময়ের জাসদ নেতা মির্জা সুলতান রাজার নেতৃত্বে জনতা মুক্তি পার্টি গঠিত হয়। মান্না যোগ দেন তাতে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে নিজ এলাকা বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে জনতা মুক্তি পার্টির প্রার্থী হন। কিন্তু ভরাডুবি ঘটে।

১৯৯২ সালে জনতা মুক্তি পার্টি আওয়ামী লীগে বিলুপ্ত হলে মান্না হয়ে যান আওয়ামী লীগের নেতা। প্রয়াত আবদুল জলিলের কমিটিতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন। ১৯৯৬ সালে বগুড়া-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দেয়। কিন্তু তিনি শেষরক্ষা করতে পারেননি। বহু ভোটে হারেন বিএনপি প্রার্থীর কাছে।

২০০১ সালে আবারও আওয়ামী লীগের টিকিট পান তিনি। এবার ব্যবধান বাড়ে আরও বেশি। সেবারের নির্বাচনে ৪৭ হাজার ভোট পেয়েছিলেন তিনি। আর বিএনপি প্রার্থী রেজাউল বারী ডিনা ১ লাখ ১৬ হাজার ভোট পেয়ে জেতেন। অর্থাৎ ছাত্রজীবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মন জয় করতে পারলেও সাধারণ জনতার মনে জায়গা কখনো হয়নি তার।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সংস্কারবাদীদের সঙ্গে মিশে আওয়ামী লীগে কোণঠাসা হয়ে পড়েন মাহমুদুর রহমান মান্না। দলে তার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তার প্রতিফলন দেখা যায়।

আওয়ামী লীগের আস্থা হারিয়ে মনোনয়ন দৌড় থেকে ছিটকে পড়েন। মনোকষ্টে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দূরে থাকেন সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্ন দেখা মান্না।

২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাংগঠনিক সম্পাদক পদটিও হারান। নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন রাজনীতিতে। তবে টেলিভিশন টক শো-তে সক্রিয় থাকেন। একটা সময় তাকে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা যায়।

এর মধ্যে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। ২০১২ সালে আবারও রাজনীতিতে ফিরে আসার চেষ্টায় নিজেই সংগঠন গড়ে তোলেন। নাম দেন ‘নাগরিক ঐক্য’। ঘোষণা দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তার দলকে দেখতে চান। কিন্তু কেন্দ্রের বাইরে তৃণমূলে নাগরিক ঐক্যের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি কখনোই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বড় নিয়োগ দিচ্ছে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র

তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার এখনই সময়: মান্না

আপডেট সময় ০২:২০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

অনিরাপদ নেত্রী’র সঙ্গে জোটে মরিয়া নাগরিক ঐক্যের প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদুর রহমান মান্নার ফেসবুক কভার ছবিতে এখনো লেখা ‘দুই নেত্রীর হাতে দেশ নিরাপদ নয়। তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার এখনই সময়।’ অথচ দুই নেত্রীর একজন খালেদা জিয়ার বিএনপির সঙ্গে জোট গঠনে যুক্তফ্রন্টে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী মান্না। ফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে তিনিই সবার আগে মাখামাখি শুরু করছেন বিএনপির সঙ্গে।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় মান্না। ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ) একাধিকবারের ভিপি, চাকসুর (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ) জিএস ছিলেন তিনি।

ছাত্রজীবন শেষ করে মূল ধারার রাজনীতিতে এসেছেন। নিজের এলাকা বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে একাধিকবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে দুইবার। একবার ‘জনতা মুক্তি পার্টি’ থেকে। কোনোবারই জয়ী হতে পারেননি এক সময়ের তুখোর এই ছাত্রনেতা। এর মধ্যে মুক্তি পার্টির হয়ে অংশ নিয়ে জামানতের টাকা উদ্ধার হয়নি।

বগুড়ায় জন্ম নেওয়া মান্না ১৯৬৪ সালে ঢাকায় আসেন। ১৯৬৬ সালে এসএসসি পাস করেন আরমানিটোলা স্কুল থেকে। ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন ১৯৬৮ সালে।

ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন মান্না। স্বাধীনতার পর জাসদ গঠিত হলে চলে আসেন দলটিতে। ১৯৭৩ সালে ২২ বছর বয়সে চলে আসেন জাসদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদেও।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ১৯৭২ সালে জাসদ ছাত্রলীগ থেকে চাকসুর জিএস নির্বাচিত হন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ১৯৭৯ সালে জাসদ ছাত্রলীগ থেকে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। এরপরই জাসদ ভেঙে খালেকুজ্জামান ও আ ফ ম মাহবুবুল হকের নেতৃত্বে বাসদ গঠিত হলে মান্না থাকেন তাদের সঙ্গে। বাসদ ছাত্রলীগ থেকে ১৯৮০ সালে নির্বাচন করে দ্বিতীয় দফায় ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন।

এক সময়ের জাসদ নেতা মির্জা সুলতান রাজার নেতৃত্বে জনতা মুক্তি পার্টি গঠিত হয়। মান্না যোগ দেন তাতে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে নিজ এলাকা বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে জনতা মুক্তি পার্টির প্রার্থী হন। কিন্তু ভরাডুবি ঘটে।

১৯৯২ সালে জনতা মুক্তি পার্টি আওয়ামী লীগে বিলুপ্ত হলে মান্না হয়ে যান আওয়ামী লীগের নেতা। প্রয়াত আবদুল জলিলের কমিটিতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন। ১৯৯৬ সালে বগুড়া-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দেয়। কিন্তু তিনি শেষরক্ষা করতে পারেননি। বহু ভোটে হারেন বিএনপি প্রার্থীর কাছে।

২০০১ সালে আবারও আওয়ামী লীগের টিকিট পান তিনি। এবার ব্যবধান বাড়ে আরও বেশি। সেবারের নির্বাচনে ৪৭ হাজার ভোট পেয়েছিলেন তিনি। আর বিএনপি প্রার্থী রেজাউল বারী ডিনা ১ লাখ ১৬ হাজার ভোট পেয়ে জেতেন। অর্থাৎ ছাত্রজীবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মন জয় করতে পারলেও সাধারণ জনতার মনে জায়গা কখনো হয়নি তার।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সংস্কারবাদীদের সঙ্গে মিশে আওয়ামী লীগে কোণঠাসা হয়ে পড়েন মাহমুদুর রহমান মান্না। দলে তার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তার প্রতিফলন দেখা যায়।

আওয়ামী লীগের আস্থা হারিয়ে মনোনয়ন দৌড় থেকে ছিটকে পড়েন। মনোকষ্টে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দূরে থাকেন সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্ন দেখা মান্না।

২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাংগঠনিক সম্পাদক পদটিও হারান। নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন রাজনীতিতে। তবে টেলিভিশন টক শো-তে সক্রিয় থাকেন। একটা সময় তাকে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা যায়।

এর মধ্যে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। ২০১২ সালে আবারও রাজনীতিতে ফিরে আসার চেষ্টায় নিজেই সংগঠন গড়ে তোলেন। নাম দেন ‘নাগরিক ঐক্য’। ঘোষণা দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তার দলকে দেখতে চান। কিন্তু কেন্দ্রের বাইরে তৃণমূলে নাগরিক ঐক্যের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি কখনোই।