ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

আমরা তো আমাদের কথা রাখতে পারছি না: ইসি মাহবুব

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ তৈরিতে হঠাৎ করে আরপিও সংশোধনের উদ্যোগ নেয়ায় সভা বর্জন করেছেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রাজনৈতিক দলগুলোকে ইসির দেয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে না পারার হতাশা তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা তো আমাদের কথা রাখতে পারছি না। আমরা বলেছিলাম সব দলের ঐকমত্য ছাড়া ইভিএম ব্যবহার করব না। প্রথম থেকেই বলে আসছি, সব দল না চাইলে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। রোডম্যাপের কোথাও ইভিএম নেই।

মাহবুব তালুকদার বলেন, আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য উনারা (সিইসি ও তিন নির্বাচন কমিশনার) বসে বসে আরপিও সংশোধন করবেন, আর আমি সেখানে মূর্তির মতো বসে থাকব, তা তো হয় না। এ জন্য বের হয়ে এসেছি।

আরপিও সংশোধনের বিষয়ে সভার কার্যপত্রে ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি মোটেও চাই না আরপিও সংশোধন হোক। আমি মনে করি, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা ঠিক হবে না। কারণ, অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ইভিএম চায় না। আর এ জন্যই সভা থেকে বের হয়ে এসেছি।

তিনি বলেন, আমি পাঁচ টুকরার এক টুকরা। আমি সংখ্যাগরিষ্ঠ নই, সংখ্যালঘিষ্ঠ। আমি এখনো মনে করি, সংসদ নির্বাচনের এখনো অনেক সময়। আমি তো গণতন্ত্রমনা মানুষ। সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করলে তখন নির্ধারণ করব। তখনকার অবস্থা কী হবে, তা তো এখন বলতে পারি না।

গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকবে উল্লেখ করে মাহবুব তালুকদার বলেন, আমার নিজের ভিন্নমত থাকলেও আমি কারো বিরুদ্ধে নই, আমি আমার মতপ্রকাশ করেছি, এটা মতের বিরুদ্ধে ভিন্নমত। ইভিএম নিয়ে সিইসির বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে ইসি মাহবুব বলেন, উনার বক্তব্যের বিষয়ে উনাকে প্রশ্ন করুন। আমি সিইসির বক্তব্যের কোনো প্রতিবাদ করব না।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে ইসির বৈঠক শুরু হয়। এ সময় ইভিএমের বিরোধিতা করে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে সভা থেকে বেরিয়ে যান মাহবুব তালুকদার।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিকালে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করবেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে পরিবর্তন এনে সংসদ নির্বাচনের আগেই ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি সংযোজন করতে বৃহস্পতিবার সভা আহ্বান করে ইসি।

স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা গেলেও জাতীয় নির্বাচনে তা আইনগতভাবে ব্যবহার করা যাবে কিনা, তা নিয়ে সভায় আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

এরপর বেলা ১১টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদাসহ পাঁচ নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বৈঠকে বসেন। ইভিএমের বিরোধিতা করে সভা শুরুর ৩০ মিনিট পর সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান মাহবুব তালুকদার।

নোট অব ডিসেন্টে তিনি লিখেন, আমি মনে করি, স্থানীয় নির্বাচনে ধীরে ধীরে ইভিএমের ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে আরপিও সংশোধনের উদ্যোগ সমর্থন করি না। ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তে ভিন্নমত পোষণ করে নোট অব ডিসেন্ট প্রদান করছি।

এই আপত্তির কারণ হিসেবে ইভিএম নিয়ে বিদ্যমান রাজনৈতিক বিরোধিতা এবং দক্ষ জনবলের অভাবের কথা বলা হয়েছে ওই নোট অব ডিসেন্টে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

আমরা তো আমাদের কথা রাখতে পারছি না: ইসি মাহবুব

আপডেট সময় ০৯:১০:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অগাস্ট ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ তৈরিতে হঠাৎ করে আরপিও সংশোধনের উদ্যোগ নেয়ায় সভা বর্জন করেছেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রাজনৈতিক দলগুলোকে ইসির দেয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে না পারার হতাশা তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা তো আমাদের কথা রাখতে পারছি না। আমরা বলেছিলাম সব দলের ঐকমত্য ছাড়া ইভিএম ব্যবহার করব না। প্রথম থেকেই বলে আসছি, সব দল না চাইলে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। রোডম্যাপের কোথাও ইভিএম নেই।

মাহবুব তালুকদার বলেন, আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য উনারা (সিইসি ও তিন নির্বাচন কমিশনার) বসে বসে আরপিও সংশোধন করবেন, আর আমি সেখানে মূর্তির মতো বসে থাকব, তা তো হয় না। এ জন্য বের হয়ে এসেছি।

আরপিও সংশোধনের বিষয়ে সভার কার্যপত্রে ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি মোটেও চাই না আরপিও সংশোধন হোক। আমি মনে করি, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা ঠিক হবে না। কারণ, অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ইভিএম চায় না। আর এ জন্যই সভা থেকে বের হয়ে এসেছি।

তিনি বলেন, আমি পাঁচ টুকরার এক টুকরা। আমি সংখ্যাগরিষ্ঠ নই, সংখ্যালঘিষ্ঠ। আমি এখনো মনে করি, সংসদ নির্বাচনের এখনো অনেক সময়। আমি তো গণতন্ত্রমনা মানুষ। সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করলে তখন নির্ধারণ করব। তখনকার অবস্থা কী হবে, তা তো এখন বলতে পারি না।

গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকবে উল্লেখ করে মাহবুব তালুকদার বলেন, আমার নিজের ভিন্নমত থাকলেও আমি কারো বিরুদ্ধে নই, আমি আমার মতপ্রকাশ করেছি, এটা মতের বিরুদ্ধে ভিন্নমত। ইভিএম নিয়ে সিইসির বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে ইসি মাহবুব বলেন, উনার বক্তব্যের বিষয়ে উনাকে প্রশ্ন করুন। আমি সিইসির বক্তব্যের কোনো প্রতিবাদ করব না।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে ইসির বৈঠক শুরু হয়। এ সময় ইভিএমের বিরোধিতা করে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে সভা থেকে বেরিয়ে যান মাহবুব তালুকদার।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিকালে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করবেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে পরিবর্তন এনে সংসদ নির্বাচনের আগেই ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি সংযোজন করতে বৃহস্পতিবার সভা আহ্বান করে ইসি।

স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা গেলেও জাতীয় নির্বাচনে তা আইনগতভাবে ব্যবহার করা যাবে কিনা, তা নিয়ে সভায় আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

এরপর বেলা ১১টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদাসহ পাঁচ নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বৈঠকে বসেন। ইভিএমের বিরোধিতা করে সভা শুরুর ৩০ মিনিট পর সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান মাহবুব তালুকদার।

নোট অব ডিসেন্টে তিনি লিখেন, আমি মনে করি, স্থানীয় নির্বাচনে ধীরে ধীরে ইভিএমের ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে আরপিও সংশোধনের উদ্যোগ সমর্থন করি না। ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তে ভিন্নমত পোষণ করে নোট অব ডিসেন্ট প্রদান করছি।

এই আপত্তির কারণ হিসেবে ইভিএম নিয়ে বিদ্যমান রাজনৈতিক বিরোধিতা এবং দক্ষ জনবলের অভাবের কথা বলা হয়েছে ওই নোট অব ডিসেন্টে।