ঢাকা ১০:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে: জাইমা রহমান চাকরির ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখা উচিত : আমীর খসরু ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রেকেও খেসারত দিতে হবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ভুয়া জরিপ ও মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে রাজনৈতিক ইতিহাস বদলানো যাবে না : দুদু গণ-অভ্যুত্থানের নিষ্ঠুরতম খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে : তাজুল ইসলাম এক্সপেকটেশন যদি ১০ থাকে, অন্তত চার তো অর্জন করতে পেরেছি : আসিফ নজরুল

সব দোষ নির্বাচন কমিশনকে দিলে হবে না: সাখাওয়াত

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নির্বাচন কমিশনকে সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সহযোগিতার বদলে অসহযোগিতা করা হয় বলে মনে করেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘সব দোষ নির্বাচন কমিশনকে দিলে তো হবে না। আমাদের দেশে নির্বাচন কমিশন আছে। সেটা স্বাধীন আছে ঠিকই, কিন্তু সে তো শূন্যে ঝুলছে না। তাকে তো সাপোর্ট দিতে হবে। সরকার একদিকে টানছে, বিরোধী দল আরেক দিকে টানছে। রাজনৈতিক দলগুলো মনে করে এখানে আমাদের কোনো দায় নেই। দায়িত্ব সব নির্বাচন কমিশনের।’

শুক্রবার রাতে ডিবিসি নিউজের একটি টক শোতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার। মাসব্যাপী ‘নির্বাচনের জয়’ শিরোনামের অনুষ্ঠান ‘উপসংহারে’ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন জানিপপের চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেন প্রণব সাহা।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমি তো প্রায়ই বলতাম আমরা তফসিল ঘোষণা করি আর আপনারা (রাজনীতিবিদ) রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন কীভাবে নির্বাচনকে ম্যানিপুলেট করা যায়। আইন হলে আপনারা চিন্তা করেন কীভাবে এটা বন্ধ করা যায়। তাহলে নির্বাচন কমিশন কী করবে? একটা দেশের অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান থাকে। যেগুলো শক্তিশালী হতে হবে। নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হলে বিচার বিভাগ তাকে জিজ্ঞাস করতে পারে কেন আপনারা এই কাজটা করতে পারলেন না। এখানে অনেকে কোর্টের দীর্ঘসূত্রিতার কথা চিন্তা করে যায় না। কিন্তু তারা বোঝে না এটা তো ইস্যু।’

নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের যৌক্তিকতা তুলে ধরে সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা পেপারলেস করার জন্য নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কারণ এটা হলে আগের দিনে বাক্স ভরা, ব্যালট পেপারে জোর করে সিল মারাসহ অনেকটা অনিয়ম কমে আসবে। যেকোনো টেকনোলজিকে ব্যবহার আবার অপব্যবহার করার সুযোগ থাকে। কিন্তু অপব্যবহারকে যদি আপনি কঠিন করে তুলতে পারেন সেটাই টেকনোলজি। এখন আপনি যদি কোথাও বিশ্বাসই না করেন তাহলে তো মুশকিল। আমি কিন্তু নির্বাচনের দিনে ভোটের সরঞ্জাম পৌঁছে দিয়ে সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের কথাও বলেছিলাম।’

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দৃশ্যমান অনিয়ম, দাঙ্গা-হাঙ্গামা না হলেও যেমন নির্বাচন হচ্ছে এখানে নির্বাচন কমিশন এটা বন্ধে তেমন পদক্ষেপ নিতে পারছে না বলে মনে করেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।

তিনি মনে করেন, স্থানীয় নির্বাচন হলো নির্বাচন কমিশনের জন্য টেস্ট কেস। তারা এখানে কেমন করে সেটাও দেখার বিষয়।

সাখাওয়াত বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে যখন এমন অবস্থা সেখানে জাতীয় নির্বাচনে কেমন হবে সেটা এখন বলা যাবে না। আর সরকার যতই বলুক জাতীয় নির্বাচনে তারা কোনো হস্তেক্ষেপ করবে না, কিন্তু সেটা শেষ পর্যন্ত কী হবে তা বলা যাবে না। আর হস্তক্ষেপ করতে হবে না কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কোনো সংস্থা কারো নির্দেশে না, নিজেরা অতি উৎসাহের কারণে হস্তক্ষেপ করেছে, এটা দেখা গেছে।

নিবন্ধিত দলের বিষয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় মূলত দুটি দলের মধ্যে। এর মধ্যে নতুন অনেক দল নিবন্ধন পাচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনে এদের দুই একটি ছাড়া বাকিদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। আর এরা যখন ৩০০ আসনে প্রার্থীই দিতে পারবে না তারা ভোটারদের কাছে কী বলে ভোট চাইবে বলুন।

‘ভোটে খুন-খারাবি কম হচ্ছে এটা প্রশংসার দিক’

আলোচনায় অংশ নিয়ে নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, ‘আগে নির্বাচনে যেমন খুন-খারাবি হতো এখন সেটা হচ্ছে না এটা ভালো দিক। এখানে আমাদের প্রশংসা করতে হবে। আর যেসব অনিয়মের কথা বলা হচ্ছে সেগুলোকে একত্র করে নির্বাচন কমিশনের কাছে সুপারিশ দেয়া যেতে পারে।’

উপস্থাপক জানতে চান- এখনকার নির্বাচনে দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান অনিয়মের কথা বলা হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনে এমনটা হলে কী হবে?

কলিমুল্লাহ বলেন, ‘সিটি নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করা কিন্তু এক না। কারণ এটা অনেকটা ফরমায়েশি কাজ অর্থাৎ অনুরোধের ঢেঁকি গেলার মতো অবস্থা। আর জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা হলো নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। স্থানীয় নির্বাচন অনেকটা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ইচ্ছা অনিচ্ছায় কাজ করতে হয়।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরায় নিরাপত্তাকর্মীকে পিটিয়ে অস্ত্র ছিনতাই-অপহরণ

সব দোষ নির্বাচন কমিশনকে দিলে হবে না: সাখাওয়াত

আপডেট সময় ০৫:১৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ জুলাই ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নির্বাচন কমিশনকে সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সহযোগিতার বদলে অসহযোগিতা করা হয় বলে মনে করেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘সব দোষ নির্বাচন কমিশনকে দিলে তো হবে না। আমাদের দেশে নির্বাচন কমিশন আছে। সেটা স্বাধীন আছে ঠিকই, কিন্তু সে তো শূন্যে ঝুলছে না। তাকে তো সাপোর্ট দিতে হবে। সরকার একদিকে টানছে, বিরোধী দল আরেক দিকে টানছে। রাজনৈতিক দলগুলো মনে করে এখানে আমাদের কোনো দায় নেই। দায়িত্ব সব নির্বাচন কমিশনের।’

শুক্রবার রাতে ডিবিসি নিউজের একটি টক শোতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার। মাসব্যাপী ‘নির্বাচনের জয়’ শিরোনামের অনুষ্ঠান ‘উপসংহারে’ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন জানিপপের চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেন প্রণব সাহা।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমি তো প্রায়ই বলতাম আমরা তফসিল ঘোষণা করি আর আপনারা (রাজনীতিবিদ) রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন কীভাবে নির্বাচনকে ম্যানিপুলেট করা যায়। আইন হলে আপনারা চিন্তা করেন কীভাবে এটা বন্ধ করা যায়। তাহলে নির্বাচন কমিশন কী করবে? একটা দেশের অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান থাকে। যেগুলো শক্তিশালী হতে হবে। নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হলে বিচার বিভাগ তাকে জিজ্ঞাস করতে পারে কেন আপনারা এই কাজটা করতে পারলেন না। এখানে অনেকে কোর্টের দীর্ঘসূত্রিতার কথা চিন্তা করে যায় না। কিন্তু তারা বোঝে না এটা তো ইস্যু।’

নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের যৌক্তিকতা তুলে ধরে সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা পেপারলেস করার জন্য নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কারণ এটা হলে আগের দিনে বাক্স ভরা, ব্যালট পেপারে জোর করে সিল মারাসহ অনেকটা অনিয়ম কমে আসবে। যেকোনো টেকনোলজিকে ব্যবহার আবার অপব্যবহার করার সুযোগ থাকে। কিন্তু অপব্যবহারকে যদি আপনি কঠিন করে তুলতে পারেন সেটাই টেকনোলজি। এখন আপনি যদি কোথাও বিশ্বাসই না করেন তাহলে তো মুশকিল। আমি কিন্তু নির্বাচনের দিনে ভোটের সরঞ্জাম পৌঁছে দিয়ে সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের কথাও বলেছিলাম।’

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দৃশ্যমান অনিয়ম, দাঙ্গা-হাঙ্গামা না হলেও যেমন নির্বাচন হচ্ছে এখানে নির্বাচন কমিশন এটা বন্ধে তেমন পদক্ষেপ নিতে পারছে না বলে মনে করেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।

তিনি মনে করেন, স্থানীয় নির্বাচন হলো নির্বাচন কমিশনের জন্য টেস্ট কেস। তারা এখানে কেমন করে সেটাও দেখার বিষয়।

সাখাওয়াত বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে যখন এমন অবস্থা সেখানে জাতীয় নির্বাচনে কেমন হবে সেটা এখন বলা যাবে না। আর সরকার যতই বলুক জাতীয় নির্বাচনে তারা কোনো হস্তেক্ষেপ করবে না, কিন্তু সেটা শেষ পর্যন্ত কী হবে তা বলা যাবে না। আর হস্তক্ষেপ করতে হবে না কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কোনো সংস্থা কারো নির্দেশে না, নিজেরা অতি উৎসাহের কারণে হস্তক্ষেপ করেছে, এটা দেখা গেছে।

নিবন্ধিত দলের বিষয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় মূলত দুটি দলের মধ্যে। এর মধ্যে নতুন অনেক দল নিবন্ধন পাচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনে এদের দুই একটি ছাড়া বাকিদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। আর এরা যখন ৩০০ আসনে প্রার্থীই দিতে পারবে না তারা ভোটারদের কাছে কী বলে ভোট চাইবে বলুন।

‘ভোটে খুন-খারাবি কম হচ্ছে এটা প্রশংসার দিক’

আলোচনায় অংশ নিয়ে নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, ‘আগে নির্বাচনে যেমন খুন-খারাবি হতো এখন সেটা হচ্ছে না এটা ভালো দিক। এখানে আমাদের প্রশংসা করতে হবে। আর যেসব অনিয়মের কথা বলা হচ্ছে সেগুলোকে একত্র করে নির্বাচন কমিশনের কাছে সুপারিশ দেয়া যেতে পারে।’

উপস্থাপক জানতে চান- এখনকার নির্বাচনে দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান অনিয়মের কথা বলা হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনে এমনটা হলে কী হবে?

কলিমুল্লাহ বলেন, ‘সিটি নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করা কিন্তু এক না। কারণ এটা অনেকটা ফরমায়েশি কাজ অর্থাৎ অনুরোধের ঢেঁকি গেলার মতো অবস্থা। আর জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা হলো নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। স্থানীয় নির্বাচন অনেকটা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ইচ্ছা অনিচ্ছায় কাজ করতে হয়।’