ঢাকা ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

তাবলিগে বিরোধ, ইজতেমা ময়দানে সাদ অনুসারীদের প্রবেশে বাধা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ছয় মাসের ব্যবধানে তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বি দিল্লির মারকাজের সূরা সদস্য মাওলানা সাদ কান্ধলভী ইস্যুতে আবার বিভক্তি দেখা দিয়েছে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে।

বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষ ইজতেমা ময়দানের কামারপাড়া সড়কে অবস্থান নেয়। এসময় ময়দানের ভেতরে কয়েক হাজার মুসল্লি গেইট বন্ধ রেখে সাদ অনুসারীদের ময়দানে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। আর সাদ অনুসারীরা গেইটের বাহিরে বসে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।

পরে রাত সাড়ে নয়টার দিকে টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন ঘটনাস্থলে এসে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে মাওলানা সাদ অনুসারীদের বুঝিয়ে ময়দানের মূল গেইট থেকে সরিয়ে দেন।

পুলিশ কর্মকর্তা কামাল বলেন, ‘সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনুমতি না থাকায় সাদ অনুসারীদের ময়দানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় ময়দানের ভেতরে ও বােইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ময়দানে আগত মাওলানা সাদ অনুসারী আবুল কালাম বলেন, শতবর্ষ আগে দিল্লির নিজামউদ্দিন মারকাজ থেকে থেকে তাবলিগের দাওয়াতের কাজ শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় মাওলানা সাদ কান্ধলভী বর্তমানে তাবলীগের শীর্ষ মুরব্বি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু বাংলাদেশের কতিপয় আলেম ওলামা সাদ সাহেবের কিছু বক্তব্য নিয়ে তাবলীগের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করছে।

জনাব কালাম এও বলেন, তাবলিগের মধ্যে হেফাজত ঢুকেছে। তারা একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকে তারা বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে ছাত্রদের এনে আমাদের ময়দানে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

ইজতেমা ফটকের বাহিরে অবস্থানরত সা’দ অনুসারী মুফতি ফয়সাল হোসেন জানান, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বিশ্ব মারকাজ, ভারতের নিজাম উদ্দিন মারকাজ থেকে প্রতিষ্ঠিত তবলগ জামাতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশ্ব ইজতেমা ময়দানটি ওয়কফ করেন। সেই থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভারতের নিজাম উদ্দিন থেকে প্রতিষ্ঠিত তবলিগ জামাতের মেহনত, জোড় ইজতেমাসহ সমস্ত আমল চলছিলো। ইদানিং কিছু লোক আমাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যারা ভরতের নিজামউদ্দিন কে মানেনা তারা আমাদেরকে ঢুকতে দিচ্ছেনা।

এ সময় কয়েকজন সা’দ অনুসারী উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, তাবলিগে হেফাজত ঢুকেছে। তারা শাপলা চত্বরের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য তারা তাবলিগে বিরোধ সৃষ্টি করছে। ময়দানে কাউকে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় ময়দানের ভেতরে অবস্থান নেওয়া মুসল্লিদের বক্তব্য পাওয়া যাযনি।

রাত ১০টার দিকে ময়দানে প্রবেশ করতে না পেরে সাদ অনুসারীরা মিরপুর ডি ব্লকে অবস্থিত তাবলিগের সভ্যজারি জামাতের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এর আগে গত জানুয়ারিতে মাওলানা সাদের ইজতেমায় যোগ দেয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হাঙ্গামা হয়।

মাওলানা সাদের বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে আসা ঠেকাতে গত ১০ জানুয়ারি ঢাকায় আসা ঠেকাতে বিমানবন্দর মোড় বন্ধ করে রেখে ব্যাপক জনভোগান্তি তৈরি করে তার বিরোধীরা। পরে তাবলিগ জামাতের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কাকরাইল মসজিদেও হাঙ্গামা হয়, হয় মারামারি।

পরে তাবলিগের দুই পক্ষকে নিয়ে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। আর এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় মাওলানা সাদ ইজতেমা ময়দানে যোগ দেবেন না। আর তিনি ফিরে যান দিল্লিতে। আর মাওলানা সাদ যোগ না দেয়ার প্রভাব পড়ে ইজতেমায়। তাবলিগের একটি অংশ এতে যোগ দেয়নি।

মাওলানা সাদ তাবলিগের দিল্লি মারকাজের শীর্ষ মুরব্বি। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মাওলানা সাদ বিশ্ব ইজতেমায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করে আসছেন।

তবে কোরআন শেখানোর বিনিময়ে অর্থ নেয়ার সমালোচনাসহ তার সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের জেরে ভারত ও বাংলাদেশের আলেমদের একটি শ্রেণি তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। দেওবন্দ মাদ্রাসা থেকেও তার বিরুদ্ধে ফতোয়া এসেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

তাবলিগে বিরোধ, ইজতেমা ময়দানে সাদ অনুসারীদের প্রবেশে বাধা

আপডেট সময় ১১:২৩:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুলাই ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ছয় মাসের ব্যবধানে তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বি দিল্লির মারকাজের সূরা সদস্য মাওলানা সাদ কান্ধলভী ইস্যুতে আবার বিভক্তি দেখা দিয়েছে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে।

বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষ ইজতেমা ময়দানের কামারপাড়া সড়কে অবস্থান নেয়। এসময় ময়দানের ভেতরে কয়েক হাজার মুসল্লি গেইট বন্ধ রেখে সাদ অনুসারীদের ময়দানে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। আর সাদ অনুসারীরা গেইটের বাহিরে বসে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।

পরে রাত সাড়ে নয়টার দিকে টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন ঘটনাস্থলে এসে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে মাওলানা সাদ অনুসারীদের বুঝিয়ে ময়দানের মূল গেইট থেকে সরিয়ে দেন।

পুলিশ কর্মকর্তা কামাল বলেন, ‘সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনুমতি না থাকায় সাদ অনুসারীদের ময়দানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় ময়দানের ভেতরে ও বােইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ময়দানে আগত মাওলানা সাদ অনুসারী আবুল কালাম বলেন, শতবর্ষ আগে দিল্লির নিজামউদ্দিন মারকাজ থেকে থেকে তাবলিগের দাওয়াতের কাজ শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় মাওলানা সাদ কান্ধলভী বর্তমানে তাবলীগের শীর্ষ মুরব্বি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু বাংলাদেশের কতিপয় আলেম ওলামা সাদ সাহেবের কিছু বক্তব্য নিয়ে তাবলীগের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করছে।

জনাব কালাম এও বলেন, তাবলিগের মধ্যে হেফাজত ঢুকেছে। তারা একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকে তারা বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে ছাত্রদের এনে আমাদের ময়দানে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

ইজতেমা ফটকের বাহিরে অবস্থানরত সা’দ অনুসারী মুফতি ফয়সাল হোসেন জানান, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বিশ্ব মারকাজ, ভারতের নিজাম উদ্দিন মারকাজ থেকে প্রতিষ্ঠিত তবলগ জামাতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশ্ব ইজতেমা ময়দানটি ওয়কফ করেন। সেই থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভারতের নিজাম উদ্দিন থেকে প্রতিষ্ঠিত তবলিগ জামাতের মেহনত, জোড় ইজতেমাসহ সমস্ত আমল চলছিলো। ইদানিং কিছু লোক আমাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যারা ভরতের নিজামউদ্দিন কে মানেনা তারা আমাদেরকে ঢুকতে দিচ্ছেনা।

এ সময় কয়েকজন সা’দ অনুসারী উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, তাবলিগে হেফাজত ঢুকেছে। তারা শাপলা চত্বরের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য তারা তাবলিগে বিরোধ সৃষ্টি করছে। ময়দানে কাউকে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় ময়দানের ভেতরে অবস্থান নেওয়া মুসল্লিদের বক্তব্য পাওয়া যাযনি।

রাত ১০টার দিকে ময়দানে প্রবেশ করতে না পেরে সাদ অনুসারীরা মিরপুর ডি ব্লকে অবস্থিত তাবলিগের সভ্যজারি জামাতের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এর আগে গত জানুয়ারিতে মাওলানা সাদের ইজতেমায় যোগ দেয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হাঙ্গামা হয়।

মাওলানা সাদের বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে আসা ঠেকাতে গত ১০ জানুয়ারি ঢাকায় আসা ঠেকাতে বিমানবন্দর মোড় বন্ধ করে রেখে ব্যাপক জনভোগান্তি তৈরি করে তার বিরোধীরা। পরে তাবলিগ জামাতের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কাকরাইল মসজিদেও হাঙ্গামা হয়, হয় মারামারি।

পরে তাবলিগের দুই পক্ষকে নিয়ে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। আর এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় মাওলানা সাদ ইজতেমা ময়দানে যোগ দেবেন না। আর তিনি ফিরে যান দিল্লিতে। আর মাওলানা সাদ যোগ না দেয়ার প্রভাব পড়ে ইজতেমায়। তাবলিগের একটি অংশ এতে যোগ দেয়নি।

মাওলানা সাদ তাবলিগের দিল্লি মারকাজের শীর্ষ মুরব্বি। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মাওলানা সাদ বিশ্ব ইজতেমায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করে আসছেন।

তবে কোরআন শেখানোর বিনিময়ে অর্থ নেয়ার সমালোচনাসহ তার সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের জেরে ভারত ও বাংলাদেশের আলেমদের একটি শ্রেণি তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। দেওবন্দ মাদ্রাসা থেকেও তার বিরুদ্ধে ফতোয়া এসেছে।