ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

নাঙ্গলকোটে ধর্ষকের স্ত্রীর মামলায় ধর্ষিতার বাবা কারাগারে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করায় পাল্টা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ধর্ষিতার পরিবারকে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নে এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পাল্টা মিথ্যা মামলা দায়ের করে ধর্ষকের স্ত্রী। ওই মামলায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ষিতা কিশোরীর বাবাকে পুলিশ গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৬ মার্চ ওই ইউনিয়নের নবম শ্রেণির ছাত্রীকে ঘরে রেখে কুমিল্লায় ডাক্তার দেখাতে যান তার বাবা ও মা। তারা ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে আসে। তাদের অনুপস্থিতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাশের বাড়ির আবদুস সাত্তার কোম্পানির ছেলে একাধিক মাদক মামলার আসামি আবুল কালাম মামুন ওই কিশোরীকে রান্নাঘরে একা পেয়ে মুখ চেপে ধরে ঘরের পেছনের বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে মেয়েটি অচেতন হয়ে গেলে মামুন পালিয়ে যায়।

এরপর বাবা-মা বাড়িতে ফিরে ওই শিক্ষার্থীকে বাগানে অচেতন অবস্থায় খুঁজে পায়। এ ঘটনা জানাজানি হলে প্রভাবশালী ধর্ষকের পরিবার ছয় দিন ধরে নিজ ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখে কিশোরীর পরিবারকে। মামুনের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সাহস করেনি গ্রামবাসী।

পরবর্তীতে এক রাতে পালিয়ে গিয়ে কুমিল্লার আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন কিশোরী ধর্ষিতা। মামুন ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনে এসে মামলা তুলে নেয়ার জন্য ধর্ষিতার পরিবারকে হুমকি ধমকি দেয়।

কিন্তু কিশোরীর বাবা অনঢ় থাকায় ধর্ষক মামুন নিম্ন আদালতে হাজির হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বখাটের স্ত্রী নুরুন নাহার আক্তার নুপুর বাদী হয়ে কুমিল্লার আদালতে নির্যাতিতার বাবাকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় নিপীড়িত কিশোরীর বাবাকে পুলিশ গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।

কিশোরীর মা জানান, মামলা তুলে নেয়ার জন্য ধর্ষক পরিবারের লোকজন আমাদের নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দেয়। কিন্তু আমরা অনঢ় থাকায় বখাটে মামুনের স্ত্রী বাদী হয়ে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে। তবে বখাটের বাবা কাজী আবদুস সাত্তার কোম্পানি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশ্রাফুল ইসলাম জানান, কিশোরীর বাবার বিরুদ্ধে আদালতের পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণ মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

নাঙ্গলকোটে ধর্ষকের স্ত্রীর মামলায় ধর্ষিতার বাবা কারাগারে

আপডেট সময় ০৭:০৫:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করায় পাল্টা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ধর্ষিতার পরিবারকে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নে এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পাল্টা মিথ্যা মামলা দায়ের করে ধর্ষকের স্ত্রী। ওই মামলায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ষিতা কিশোরীর বাবাকে পুলিশ গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৬ মার্চ ওই ইউনিয়নের নবম শ্রেণির ছাত্রীকে ঘরে রেখে কুমিল্লায় ডাক্তার দেখাতে যান তার বাবা ও মা। তারা ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে আসে। তাদের অনুপস্থিতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাশের বাড়ির আবদুস সাত্তার কোম্পানির ছেলে একাধিক মাদক মামলার আসামি আবুল কালাম মামুন ওই কিশোরীকে রান্নাঘরে একা পেয়ে মুখ চেপে ধরে ঘরের পেছনের বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে মেয়েটি অচেতন হয়ে গেলে মামুন পালিয়ে যায়।

এরপর বাবা-মা বাড়িতে ফিরে ওই শিক্ষার্থীকে বাগানে অচেতন অবস্থায় খুঁজে পায়। এ ঘটনা জানাজানি হলে প্রভাবশালী ধর্ষকের পরিবার ছয় দিন ধরে নিজ ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখে কিশোরীর পরিবারকে। মামুনের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সাহস করেনি গ্রামবাসী।

পরবর্তীতে এক রাতে পালিয়ে গিয়ে কুমিল্লার আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন কিশোরী ধর্ষিতা। মামুন ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনে এসে মামলা তুলে নেয়ার জন্য ধর্ষিতার পরিবারকে হুমকি ধমকি দেয়।

কিন্তু কিশোরীর বাবা অনঢ় থাকায় ধর্ষক মামুন নিম্ন আদালতে হাজির হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বখাটের স্ত্রী নুরুন নাহার আক্তার নুপুর বাদী হয়ে কুমিল্লার আদালতে নির্যাতিতার বাবাকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় নিপীড়িত কিশোরীর বাবাকে পুলিশ গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।

কিশোরীর মা জানান, মামলা তুলে নেয়ার জন্য ধর্ষক পরিবারের লোকজন আমাদের নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দেয়। কিন্তু আমরা অনঢ় থাকায় বখাটে মামুনের স্ত্রী বাদী হয়ে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে। তবে বখাটের বাবা কাজী আবদুস সাত্তার কোম্পানি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশ্রাফুল ইসলাম জানান, কিশোরীর বাবার বিরুদ্ধে আদালতের পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণ মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে।