অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
মানুষের মৃত্যু অবধারিত এটি সত্য। তবুও যে কোনো ধরনের মৃত্যুই কষ্টদায়ক। আপনজনের কাছে তো বটেই। তবে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু মেনে নেয়া বড়ই কঠিন। আর সেই দুর্ঘটনার মুহূর্ত যদি কারো ক্যামেরাবন্দি হয়ে যায় তাহলে সেটা আপন-পর সবাইকেই শোকে বিহ্বল করে তোলে আরও বেশি।
শুক্রবার দুপুরে এ রকমই একটি ঘটনা ঘটেছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের ছোট লক্ষ্মীপুর গ্রামে ঢোকার মুখে রেললাইনের ওপর।
উল্লাপাড়া চক্ষু হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স গাড়ির ড্রাইভার গোলাপ হোসেন ওই সময় রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে শখের বসে মোবাইল ফোনে ট্রেনসহ নিজের একটি সেলফি তুলছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে পঞ্চক্রোশী গ্রামের আবদুল মোতালেব নামের একজন বৃদ্ধ রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে তিনি ওই ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মারা যান।
আর এই ট্রেনের ধাক্কা লাগার পূর্বমুহূর্তের একটি বিরল ছবি তার সেলফিতে বন্দি হয়ে যায়।
ড্রাইভার গোলাপ হোসেন জানান,ওই দিন তার বস ডা. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ ৮-১০ জনকে তার গাড়িতে নিয়ে ওই স্থানে নামিয়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। একটি ট্রেন আসতে দেখে তিনি শখের বসে ট্রেনসহ নিজের সেলফি তুলছিলেন। এ সময় ট্রেনের ধাক্কা লেগে এক বৃদ্ধ তার ওপর আছড়ে পড়ে। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করার পর দেখা যায় ওই বৃদ্ধটি এরই মধ্যেই মারা গেছেন।
তিনি ওই বৃদ্ধের মৃতদেহের একটি ছবি তোলেন। তখনও তিনি বুঝতে পারেননি যে, তার অজান্তেই ওই সেলফিতে বৃদ্ধ আবদুল মোতালেবের মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তের ছবি ধারণ হয়েছে।
বাসায় ফিরে পরিচিতদের ওই নিহত ব্যক্তির মৃতদেহের ছবি দেখাতে গিয়ে তিনি দেখতে পান তার সেলফিতে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তের ছবি ক্যামেরাবন্দি হয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, নিহত আবদুল মোতালেব হোসেন পঞ্চক্রোশী উনিয়নের পঞ্চক্রোশী গ্রামের তাবলিগ জামাতের জিম্মাদার ছিলেন। তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছোট লক্ষ্মীপুর গ্রামের আবদুস সামাদ নামের তার এক সহকর্মীর কবর জিয়ারতে অংশ নিতে দ্রুত রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় এ মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে।
এই মৃত্যুর ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার এক সহকর্মী পোস্ট দিলে তা মুহূর্তে ব্যাপক ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি নিহত আবদুল মোতালেব হোসেনের তাবলিগের সাথি ভাই মাহমুদুল হাসান সোহেল নিশ্চিত করেছেন।
এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ ঘটনার পরপরই তিনি নিহতের বাড়িতে ছুটে যান এবং আর্থিক সহযোগিতা করেন।
আবদুল মোতালেব হোসেনের স্ত্রীর নামে একটি বিধবা কার্ড ও তার দুটি এতিম সন্তানের লেখাপড়ার খরচের জন্য আরও কিছু অর্থ সহায়তা করবেন বলে জানান তিনি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























