অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে টাকা ছিনিয়ে নেয়া ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য ও সহযোগী এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযুক্তরা হলেন, পৌরশহরের গড়কান্দা এলাকায় পূর্বপরিচিত মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী ফেদৌসী বেগমের (৩০) ও ফেদৌসীর স্বামীর বড় ভাইয়ের ছেলে ঢাকা মেট্রো পুলিশ (ডিএমপি) পশ্চিম শাখায় কর্মরত পুলিশ সদস্য মো.হাফিজুর রহমান।
ভুক্তভোগী উপজেলার নয়াবিল বাজারের বাসিন্দা মোজ্জামেল হক (৪২)। শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাতে পৌর শহরের গড়কান্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, শুক্রবার দুপুরে উপজেলার নয়াবিল বাজারের বাসিন্দা ভুক্তভোগী মোজ্জামেল হক খননযন্ত্র কিনতে ৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকা নিয়ে পৌর শহরে আসেন। এ সময় বৃষ্টির কারণে পৌর শহরের গড়কান্দা এলাকায় পূর্বপরিচিত অভিযুক্ত ফেদৌসী বেগমের বাড়িতে যান। এ সময় ফেদৌসীর স্বামীর বড় ভাইয়ের ছেলে ঢাকা মেট্রো পুলিশ (ডিএমপি) পশ্চিম শাখায় কর্মরত পুলিশ সদস্য মো.হাফিজুর রহমান ও ওই নারী মোজ্জামেলের কাছে থেকে জোরপূর্বক টাকা ছিনিয়ে নেয়। সন্ধ্যায় মোজ্জামেল থানায় অভিযোগ দেন।
রাতে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে অভিযান চালায়। সারা রাত কয়েক দফায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে পুলিশ সদস্য মো.হাফিজুর রহমানের কাছ থেকে ২ লাখ ৪৩ হাজার ও ফেদৌসীর কাছ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করে।
পরে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মো.সুরুজ্জামানের দুই ছেলে ফারুক আহম্মেদ,মারুফ আহম্মেদ ও তার ভাইয়ের ছেলে সেলিম মিয়াকে থানায় নিয়ে যান। তবে কোনো অপরাধ না থাকায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় পুলিশ হাফিজুর ও ফেদৌসকে থানায় নিয়ে যান। এ ঘটনায় মোজ্জামেল হক বাদী হয়ে এই দুজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত ওই নারী থানা হেফাজতে বলেন, মোজ্জামেল আমার বাড়ি খালি পেয়ে হঠাৎ আমার শরীরে হাত দেয়। আমি চিৎকার দিলে হাফিজুরসহ এলাকাবাসী ছুটে আসেন। পরে তার কাছে থাকা টাকা-পয়সা সবাই ছিনিয়ে নিয়েছে। পুলিশের কাছে সেই টাকা ফিরিয়ে দিয়েছি। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো কিছু না বলতে জোড় হাতে ক্ষমা চান।
মোজ্জামেল হক বলেন, ওই নারীর আমার খালাত বোন হয়। বৃষ্টির কারণে তার বাড়িতে গিয়েছি। আমার কাছে খননযন্ত্র কিনতে পাঁচ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ছিল। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা উদ্ধার করেছেন। এ ব্যাপারে আমি থানায় মামলা করেছি। তবে ওই নারী আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন তা সত্য নয়।
নালিতাবাড়ী থানার ওসি একেএম ফসিহুর রহমান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ করে তিনজনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য ও ওই নারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























