ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কিছু অধ্যাদেশ নিয়ে বিরোধী দল রাজনীতি করতে চাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পয়লা বৈশাখ ঘিরে জঙ্গি হামলার কোনো আশঙ্কা নেই : ডিএমপি কমিশনার আবারও আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন নাহিদ ইসলাম তথ্য অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ: তথ্যমন্ত্রী মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার দ্রুত খুলতে কাজ করছে সরকার: মাহদী আমিন ‘হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে’:স্পিকার হাজি বাবাই এপ্রিলের ১১ দিনেই রেমিট্যান্স এলো প্রায় ১২২ কোটি ডলার ময়মনসিংহে হাবিব হত্যা মামলায় পাঁচজনের যাবজ্জীবন হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনের জামিন ভারতের কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই

আরজানের সদরপুরের বাড়িতে শোকের মাতম

আফ্রিকায় নিহত সেনাসদস্য আরজান হাওলাদারের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম (ইনসেটে আরজান হাওলাদার)

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সেন্টাল আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সেনাবাহিনীর সৈনিক আরজান হাওলাদারের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। আরজানের স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে ফরিদপুরের সদরপুরের চর বাহ্মণদি গ্রাম। শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে দলে দলে ছুটে যাচ্ছেন পাড়া-প্রতিবেশীরা।

একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন আরজানের মা রহিমা খাতুন। ছেলের কথা বলেই বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। আর স্বামীকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে গেছেন আরজানের স্ত্রী চায়না আক্তার। পাঁচ মাস বয়সী শিশুপুত্র ফাহিম আহমেদকে নিয়ে কীভাবে চলবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না।

সোমবার আরজান হাওলাদারের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে শত শত মানুষের ভিড়। আরজানের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন তারা। গ্রামবাসীদের কোনো সান্ত্বনাই যেন মনে শান্তি খুঁজে পাচ্ছেন না নিহত আরজানের স্বজনরা।

আরজানের স্বজনরা জানান, সদরপুর উপজেলার চর বাহ্মণদি গ্রামের মৃত করিম হাওলাদারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার বড় ছিল আরজান। বেশ কয়েক বছর আগে আরজানের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি মানুষ হন নানা হামিদ মুন্সীর কাছে থেকে।

সংসারের হাল ধরতে পড়ালেখা করতে পারেননি বেশি দূর। পরে চাকরি নেন সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে। শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার আগে তিনি রংপুর ক্যান্টনমেন্টে ৩৪ ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। ৬ মাস আগে শান্তিরক্ষা মিশনে যান তিনি।

আরজানের মা রহিমা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি কিছুই চাই না, আমার জাদুর লাশটা দেখতে চাই। তোমরা আমার জাদুর লাশটা আইন্যা দাও।

নিহত আরজানের স্ত্রী চায়না আক্তার বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার পর প্রায় প্রতিদিনই কথা হতো আরজানের সঙ্গে। দেশে এসে সে সুন্দর একটি বাড়ি করবে এমন স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

চায়না আক্তার আরও জানান, সর্বশেষ ২৬ এপ্রিল শহর থেকে ক্যাম্পে যাওয়ার সময় যে গাড়িটি দুর্ঘটনায় পতিত হয় সেই গাড়ি থেকেই সকালে ভিডিওকলের মাধ্যমে তার সঙ্গে কথা হয়েছিল। বলেছিল, ক্যাম্পে ফিরে গিয়ে আবার কথা বলবে। কিন্তু তার ফোন আর এল না।

স্থানীয়দের দাবি, আরজান হাওলাদারের পরিবারটি একেবারেই অসহায়। শিশুপুত্রকে নিয়ে আরজানের স্ত্রী কীভাবে সংসার চালাবেন তা নিয়ে আমরা সবাই চিন্তিত।

সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে তারা বলেন, যত দ্রুত সম্ভব সরকার যদি আর্থিক সহযোগিতা না দেয় তাহলে এ পরিবারটি মানবেতরভাবে দিন কাটাতে বাধ্য হবে।

আরজানের নানা হামিদ মুন্সী বলেন, আরজান বাবাকে হারানোর পর আমার কাছে থেকেই মানুষ হয়েছে। তাকে অনেক কষ্ট করে বড় করে তুলেছি। ওর পাঠানো টাকা দিয়েই চলত সংসার। এখন কীভাবে সংসারটি চলবে জানি না। আমরা চাই আরজানের লাশটি যাতে সরকার দ্রুত আমাদের কাছে তুলে দেয়। তাহলে কিছুটা হলেও মনে শান্তি পাব।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

কিছু অধ্যাদেশ নিয়ে বিরোধী দল রাজনীতি করতে চাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আরজানের সদরপুরের বাড়িতে শোকের মাতম

আপডেট সময় ০৯:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সেন্টাল আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সেনাবাহিনীর সৈনিক আরজান হাওলাদারের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। আরজানের স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে ফরিদপুরের সদরপুরের চর বাহ্মণদি গ্রাম। শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে দলে দলে ছুটে যাচ্ছেন পাড়া-প্রতিবেশীরা।

একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন আরজানের মা রহিমা খাতুন। ছেলের কথা বলেই বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। আর স্বামীকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে গেছেন আরজানের স্ত্রী চায়না আক্তার। পাঁচ মাস বয়সী শিশুপুত্র ফাহিম আহমেদকে নিয়ে কীভাবে চলবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না।

সোমবার আরজান হাওলাদারের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে শত শত মানুষের ভিড়। আরজানের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন তারা। গ্রামবাসীদের কোনো সান্ত্বনাই যেন মনে শান্তি খুঁজে পাচ্ছেন না নিহত আরজানের স্বজনরা।

আরজানের স্বজনরা জানান, সদরপুর উপজেলার চর বাহ্মণদি গ্রামের মৃত করিম হাওলাদারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার বড় ছিল আরজান। বেশ কয়েক বছর আগে আরজানের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি মানুষ হন নানা হামিদ মুন্সীর কাছে থেকে।

সংসারের হাল ধরতে পড়ালেখা করতে পারেননি বেশি দূর। পরে চাকরি নেন সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে। শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার আগে তিনি রংপুর ক্যান্টনমেন্টে ৩৪ ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। ৬ মাস আগে শান্তিরক্ষা মিশনে যান তিনি।

আরজানের মা রহিমা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি কিছুই চাই না, আমার জাদুর লাশটা দেখতে চাই। তোমরা আমার জাদুর লাশটা আইন্যা দাও।

নিহত আরজানের স্ত্রী চায়না আক্তার বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার পর প্রায় প্রতিদিনই কথা হতো আরজানের সঙ্গে। দেশে এসে সে সুন্দর একটি বাড়ি করবে এমন স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

চায়না আক্তার আরও জানান, সর্বশেষ ২৬ এপ্রিল শহর থেকে ক্যাম্পে যাওয়ার সময় যে গাড়িটি দুর্ঘটনায় পতিত হয় সেই গাড়ি থেকেই সকালে ভিডিওকলের মাধ্যমে তার সঙ্গে কথা হয়েছিল। বলেছিল, ক্যাম্পে ফিরে গিয়ে আবার কথা বলবে। কিন্তু তার ফোন আর এল না।

স্থানীয়দের দাবি, আরজান হাওলাদারের পরিবারটি একেবারেই অসহায়। শিশুপুত্রকে নিয়ে আরজানের স্ত্রী কীভাবে সংসার চালাবেন তা নিয়ে আমরা সবাই চিন্তিত।

সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে তারা বলেন, যত দ্রুত সম্ভব সরকার যদি আর্থিক সহযোগিতা না দেয় তাহলে এ পরিবারটি মানবেতরভাবে দিন কাটাতে বাধ্য হবে।

আরজানের নানা হামিদ মুন্সী বলেন, আরজান বাবাকে হারানোর পর আমার কাছে থেকেই মানুষ হয়েছে। তাকে অনেক কষ্ট করে বড় করে তুলেছি। ওর পাঠানো টাকা দিয়েই চলত সংসার। এখন কীভাবে সংসারটি চলবে জানি না। আমরা চাই আরজানের লাশটি যাতে সরকার দ্রুত আমাদের কাছে তুলে দেয়। তাহলে কিছুটা হলেও মনে শান্তি পাব।