অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
এ যেন অনেকটি ভারতের নির্ভয়ার কাহিনী। দিল্লিতে গণধর্ষণে নির্ভয়ার মৃত্যুর পরে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছিল গণআন্দোলন। চাপে পড়ে ধর্ষকদের কঠিন শাস্তি দিতে নতুন আইন তৈরিতে বাধ্য হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। নির্ভয়া বাঁচেননি, কিন্তু নতুন আইন তৈরি হয়েছিল।
ভারত থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে এক ছোট দেশেও এক ভারতীয় নারীর মৃত্যু এভাবে গণজাগরণের সৃষ্টি করেছিল। দাবি উঠেছিল নতুন আইন প্রণয়নের। সেই দাবি এবার পূরণ হতে চলেছে। এবারে দাবি উঠেছে, মৃত ওই ভারতীয় নারীর নামেই নাম হোক নতুন আইনের।
যে দেশে এই ঘটনা ঘটেছে সেটি হলো আয়ারল্যান্ড। আর যে ভারতীয়কে নিয়ে এই গণআন্দোলন তৈরি হয়েছে সেদেশে, তার নাম সবিতা হালাপ্পানাভার। কিন্তু কেন সবিতার মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছিল আয়ারল্যান্ডের মানুষকে?
সবিতা হালাপ্পানাভার পেশায় একজন দন্ত চিকিৎসক ছিলেন। স্বামী প্রবীণের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডে থাকতেন তিনি। ২০১২ সালে সেপসিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় অন্তঃসত্ত্বা সবিতার। কারণ গর্ভাবস্থাতেই মিসক্যারেজ হয়েছিল সবিতার।
কিন্তু আয়ারল্যান্ডের আইন অনুযায়ী গর্ভপাত নিষিদ্ধ ছিল। ফলে গর্ভপাতের অনুমতি না পাওয়াতে অকালে মৃত্যু হয় ভারতীয় এই দন্ত চিকিৎসকের।
আইনের জাঁতাকলে পড়ে সবিতার এই মৃত্যুই মেনে নিতে পারেননি আয়ারল্যান্ডের সাধারণ মানুষ। গর্ভপাতবিরোধী পুরনো আইনে সংশোধন আনার জন্য আন্দোলনে নামেন তারা।
তবে ক্যাথলিক এই দেশটিতে এ সংস্কার একেবারেই সহজ ছিল না। কারণ আয়ারল্যান্ডের সংবিধানে ১৯৮৩ সালে যে অষ্টম সংশোধনী আনা হয়েছেলি তাতে ‘গর্ভস্থ সন্তানের জীবনের উপরেও সমানাধিকারের’ কথাই বলা হয়েছে।
সবিতার হয়ে লড়াইতে নামা আয়ারল্যান্ডের বাসিন্দারা অবশ্য তাদের লড়াই থেকে পিছু হটেননি। শেষ পর্যন্ত ২০১৭ সালের মাঝামাঝি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাডকার ক্ষমতায় আসার পরে আয়ারল্যান্ডে সমাজব্যবস্থায় পরিবর্তন ও সংস্কারে উদ্যোগী হন।
এর পরেই গর্ভপাতবিরোধী আইনে সংশোধন করার জন্য গণভোটের আয়োজন করা হয়। সেই ভোটেই নতুন আইনের পক্ষে মত দেন সত্তর শতাংশ মানুষ। আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দেন এ বছরের শেষেই গণভোটের মত অনুযায়ী গর্ভপাত নিয়ে নতুন আইন তৈরি হবে।
ফলে, এই আইন প্রণয়ন হলে আয়ারল্যান্ডের বাসিন্দাদের গর্ভপাত করানোর জন্য আর ব্রিটেন বা অন্য দেশে যেতে হবে না। নিতে হবে না কোনও বেআইনি ক্লিনিকের সাহায্য।
নতুন আইনের পক্ষে জয় আসার পরেই এবারে নতুন দাবি উঠেছে আয়ারল্যান্ডে। দাবি উঠেছে, নতুন আইনের নামকরণ হোক সবিতার নামে। সবিতার বাবা আনদানাপ্পা ইয়ালাগিও একই অনুরোধ করেছেন আইরিশ সরকারকে।
সেখানকার সংবাদপত্র ‘আইরিশ টাইমস’কে তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি শেষ অনুরোধ রয়েছে। নতুন আইনটির নামকরণ যেন সবিতার নামেই করা হয়।
আয়ারল্যান্ডের সাধারণ মানুষ তো বটেই, নতুন আইনের পক্ষে থাকা বেশ কয়েকটি সংগঠনও একই দাবি জানিয়েছেন। গণভোটে জয়ের পরে সবিতার স্মরণও করছেন আয়ারল্যান্ডের নাগরিকরা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















