ঢাকা ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ প্রতারণা করে অর্থ আদায়, ৫১ হাজার সিমসহ ৫ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি

মোদীকে এক যৌনদাসীর হৃদয়স্পর্শী চিঠি

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে সাড়ে ৪ কোটি নারী যৌনদাসী। এর মধে্য সবচেয়ে বেশি ভারতে। দেশটিতে বর্তমানে যৌনদাসীর সংখ্যা ১ কোটি ৮০ লাখ। এর সিংহভাগ প্রতারিত হয়ে বা বিক্রি হয়ে যৌনপল্লিকেই নিজের ভবিষ্যতের ঠিকানা হিসেবে বেছে নিয়েছে। অনেকে ক্ষুধা বা দারিদ্রতার কারণে এ পথে রয়েছে। দেশটির ১ কোটি ৮ লাখ যৌনদাসীর একটি বিরাট সংখ্যাক নাবালিকা। গ্লোবাল স্লেভারি ইনডেক্সের এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

যৌনপল্লিতে বিক্রি হয়ে যাওয়া এক নাবালিকা কিশোরী তভিও। অভাবের তাড়নায় পাড়ার এক ‘দাদা’র হাত ধরে চাকরির খোঁজে মুম্বইয়ে পা দিয়েছিল ১৭ বছর বয়সী তভি। ঘুণাক্ষরেও জানত না যে, সেই দাদা তার জন্য কী চাকরির বন্দোবস্ত করেছে। দাদা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মুম্বইয়ে গিয়ে চাকরি দেয়ার পাশাপাশি তাকে বিয়ে করবে । কিন্তু মুম্বইয়ের মাটিতে পা রাখার পরই বদলে যায় সবকিছু। হঠাৎ করেই তার চেনা পৃথিবীটা হয়ে ওঠে অচেনা।

মুম্বাইয়ে নিয়ে কিশোরীকে চাকরি দেয়া হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু তা ছিল ‘বাবু’দের খুশি করার। প্রতিদিন এক বা দু’বার নয়, বহুবার যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হতো তাকে। ৬ বছর পর পুলিশের সাহায্যে মুম্বইয়ের যৌনপল্লির সেই অন্ধকার কুঠুরি থেকে মুক্তি পায় তভিও।

তভিদের মতো হাজার হাজার মেয়ে প্রতিদিন ভারতবর্ষের পিছিয়ে পড়া অঞ্চল থেকে হারিয়ে যায় যৌনপল্লীতে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ উপায় না দেখে নিজেদের সেই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধ্য হয়। আবার অনেককেই ‘মানসিকভাবে যৌনদাসী’ হয়ে থাকতে হয় সেখানে।

সেদিনের সেই ‘দাদার কীর্তি’র কথা এতদিন পর যুবতী তভি মন খুলে লিখলেন আরেক ‘দাদা’কে। দু’পাতার একটি চিঠি। লিখেছেন রাখী পূর্ণিমার দিন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে লেখা সেই চিঠির ছত্রে ছত্রে শুধুই যেন কান্না, গুমড়ে থাকা এক অসহ্য যন্ত্রণা লুকিয়ে আছে।

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করে তভি লিখেছেন, ”আমাদের দেশের হাজার হাজার এলাকায় আমার মত মেয়েরা যৌনদাসীর জীবন কাটাচ্ছে। অভাবের তাড়নায়, খিদের জ্বালায় প্রতিদিনই আমরা বিক্রি হয়ে যাচ্ছি। ধর্ষিতা হচ্ছি। আপনি আমাদের বাঁচান!”

লজ্জার হলেও পরিসংখ্যান বলে, বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার যৌনপল্লীতে আটক যৌনদাসীদের মধ্যে ভারতেই সংখ্যাটা সবচেয়ে বেশি। সাড়ে ৫ কোটি যৌনদাসীর মধ্যে শুধুমাত্র ভারতেই রয়েছেন ৪০ শতাংশ।

তভি বর্তমানে মুম্বইয়ের একটি কাপড় মিলে চাকরি করে। চিঠিটি রাখী পূর্ণিমার দিনেই প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন এক সরকারি আধিকারিক।

তিনি আবার নরেন্দ্র মোদীকে জানিয়েছেন, তভিকে এই চিঠির জবাব এনে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন!

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোদীকে এক যৌনদাসীর হৃদয়স্পর্শী চিঠি

আপডেট সময় ০১:১৩:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে সাড়ে ৪ কোটি নারী যৌনদাসী। এর মধে্য সবচেয়ে বেশি ভারতে। দেশটিতে বর্তমানে যৌনদাসীর সংখ্যা ১ কোটি ৮০ লাখ। এর সিংহভাগ প্রতারিত হয়ে বা বিক্রি হয়ে যৌনপল্লিকেই নিজের ভবিষ্যতের ঠিকানা হিসেবে বেছে নিয়েছে। অনেকে ক্ষুধা বা দারিদ্রতার কারণে এ পথে রয়েছে। দেশটির ১ কোটি ৮ লাখ যৌনদাসীর একটি বিরাট সংখ্যাক নাবালিকা। গ্লোবাল স্লেভারি ইনডেক্সের এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

যৌনপল্লিতে বিক্রি হয়ে যাওয়া এক নাবালিকা কিশোরী তভিও। অভাবের তাড়নায় পাড়ার এক ‘দাদা’র হাত ধরে চাকরির খোঁজে মুম্বইয়ে পা দিয়েছিল ১৭ বছর বয়সী তভি। ঘুণাক্ষরেও জানত না যে, সেই দাদা তার জন্য কী চাকরির বন্দোবস্ত করেছে। দাদা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মুম্বইয়ে গিয়ে চাকরি দেয়ার পাশাপাশি তাকে বিয়ে করবে । কিন্তু মুম্বইয়ের মাটিতে পা রাখার পরই বদলে যায় সবকিছু। হঠাৎ করেই তার চেনা পৃথিবীটা হয়ে ওঠে অচেনা।

মুম্বাইয়ে নিয়ে কিশোরীকে চাকরি দেয়া হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু তা ছিল ‘বাবু’দের খুশি করার। প্রতিদিন এক বা দু’বার নয়, বহুবার যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হতো তাকে। ৬ বছর পর পুলিশের সাহায্যে মুম্বইয়ের যৌনপল্লির সেই অন্ধকার কুঠুরি থেকে মুক্তি পায় তভিও।

তভিদের মতো হাজার হাজার মেয়ে প্রতিদিন ভারতবর্ষের পিছিয়ে পড়া অঞ্চল থেকে হারিয়ে যায় যৌনপল্লীতে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ উপায় না দেখে নিজেদের সেই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধ্য হয়। আবার অনেককেই ‘মানসিকভাবে যৌনদাসী’ হয়ে থাকতে হয় সেখানে।

সেদিনের সেই ‘দাদার কীর্তি’র কথা এতদিন পর যুবতী তভি মন খুলে লিখলেন আরেক ‘দাদা’কে। দু’পাতার একটি চিঠি। লিখেছেন রাখী পূর্ণিমার দিন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে লেখা সেই চিঠির ছত্রে ছত্রে শুধুই যেন কান্না, গুমড়ে থাকা এক অসহ্য যন্ত্রণা লুকিয়ে আছে।

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করে তভি লিখেছেন, ”আমাদের দেশের হাজার হাজার এলাকায় আমার মত মেয়েরা যৌনদাসীর জীবন কাটাচ্ছে। অভাবের তাড়নায়, খিদের জ্বালায় প্রতিদিনই আমরা বিক্রি হয়ে যাচ্ছি। ধর্ষিতা হচ্ছি। আপনি আমাদের বাঁচান!”

লজ্জার হলেও পরিসংখ্যান বলে, বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার যৌনপল্লীতে আটক যৌনদাসীদের মধ্যে ভারতেই সংখ্যাটা সবচেয়ে বেশি। সাড়ে ৫ কোটি যৌনদাসীর মধ্যে শুধুমাত্র ভারতেই রয়েছেন ৪০ শতাংশ।

তভি বর্তমানে মুম্বইয়ের একটি কাপড় মিলে চাকরি করে। চিঠিটি রাখী পূর্ণিমার দিনেই প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন এক সরকারি আধিকারিক।

তিনি আবার নরেন্দ্র মোদীকে জানিয়েছেন, তভিকে এই চিঠির জবাব এনে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন!