অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বাসা এবং অফিসে অভিযান চালিয়ে ২৮৪টি হাতব্যাগ এবং ৭২ স্যুটকেস উদ্ধার করেছে পুলিশ। অধিকাংশ ব্যাগ ও স্যুটকেসে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা, গহনা, বিলাসবহুল পণ্যে ভর্তি ছিল।
মালয়েশিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের নির্দেশে নাজিবের ওপর তদন্তের নিয়মিত অংশ এটি। বৃহস্পতিবার রাতে দ্বিতীয় বারের মতো পুলিশ নাজিব রাজাকের বাসায় অভিযান চালায়।
মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন পুলিশের প্রধান অমর সিং গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঠিক কি পরিমাণ গহনা উদ্ধার করা হয়েছে তা আমি এখনই বলেতে পারছি না। কারণ আমরা বাক্সেভরা গহনা জব্দ করেছি। তবে এটা বলতে পারি, পরিমাণ অনেক বেশি।’ ‘আমরা কর্মকর্তারা ব্যাগগুলো পরীক্ষা করে দেখেছেন। সেখানে বহু দেশি-বিদেশি মুদ্রা, দামি ঘড়ি এবং গহনা রয়েছে।’
কুয়ালালামপুরে প্রাণকেন্দ্রে নাজিব রাজাকের বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে পুলিশ এই অভিযান চালায়। কোনো ধরনের পরোয়ানা ছাড়া নাজিব পরিবারকে হেনেস্তা করতে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তার আইনজীবী।
তিনি বলেন, ‘যেসব জিনিস জব্দ করা হচ্ছে সেগুলো হয়তো তেমন মূল্যবান কিছু না। কিন্তু যেভাবে সেটা প্রচার করা হচ্ছে তাতে সবার মনে আমার মক্কেলকে নিয়ে নেতিবাচক ছবি তৈরি হচ্ছে।’
জাতীয় নির্বাচনে পরাজয়ের এক সপ্তাহ পর গত বুধবার রাত থেকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন এবং নাজিব পরিবারের মালিকানায় থাকা চারটি আবাসিক ভবনে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ।
রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে গড়া বিনিয়োগ তহবিল ‘ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভলপমেন্ট বরহাদ’ (ওয়ানএমডিবি) থেকে নাজিব ৭০ কোটি ডলার নিজের পকেটে পুরেছেন, ২০১৫ সালে এমন অভিযোগ উঠার পর তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়।
যদিও পরে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ নাজিবকে অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্তত ছয়টি দেশে তার বিরুদ্ধে এখনও দুর্নীতি তদন্ত চলছে।
মালয়েশিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নাজিবের বিরুদ্ধে ফের দুর্নীতি তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেন। যদিও কোনো দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাজিব।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























