অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
সন্তানের জনক প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে বিষের বোতল নিয়ে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী অনশন করছে। ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী মনিয়ন্দ ইউনিয়নের মনিয়ন্দ পূর্বপাড়া গ্রামের।
প্রেমিক আক্তার হোসের (২৫) ওই গ্রামের বাসিন্দা মৃত মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি বিবাহিত এবং প্রবাস ফেরত। তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। প্রেমিকার অবস্থানের কথা জানার পর থেকেই তিনি পলাতক।
অনশনরত ওই কিশোরী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাকাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।
এদিকে হয় বিয়ে, না হয় প্রেমিকের বাড়িতেই বিষপানে আত্মহত্যা করার আলটিমেটাম দিয়ে স্কুলছাত্রী শাহীদা আক্তার বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রেমিক আক্তার হোসেনের বাড়িতে অবস্থান করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাস ফেরত আক্তার হোসেনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে একই এলাকায় বড় বোনের (দুলাভাইয়ের) বাড়িতে বেড়াতে আসা ওই স্কুলছাত্রী শাহীদা আক্তারের।
গত দেড় মাস ধরে সম্পর্ক চলাকালে আক্তার হোসেন ওই মেয়েকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অবৈধভাবে মেলামেশা শুরু করেন। সোমবার বিয়ে করার কথা বলে আক্তার মেয়েটিকে নিয়ে আবাসিক হোটেলে রাত কাটান। ৩ দিন পর বিয়ে না করে বুধবার সন্ধ্যায় শাহীদাকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন আক্তার।
বাড়িতে যাওয়ার পর পরিবারের লোকজনের কাছে বিষয়টি খুলে বলেন শাহীদা। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে প্রেমিকের বাড়িতে এসে আক্তারকে ওই শিক্ষার্থী বিয়ের চাপ দেন। এ সময় প্রেমিক আক্তার তাকে ফিরে যেতে বলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
পরে প্রেমিকা শাহীদা প্রেমিক আক্তারের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন।
এলাকাবাসী অনশনের বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সংরক্ষিত নারী সদস্য বিনা বেগমকে জানায়। পরে স্থানীয়দের নিয়ে তিনি প্রেমিক আক্তার হোসেনের মামা আনিছ মিয়ার সঙ্গে কথা বলে অনশনকারী ওই মেয়ের সঙ্গে আক্তারের বিয়ের বিষয়ে রাজি করান। কিন্তু প্রেমিক আক্তার হোসেন ওই মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি নয়।
অনশনকারী মেয়ের খালা আরজুদা বেগম দৈনিক আকাশকে জানান, আক্তার নামে ছেলেটি আমার ভাগনিকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে। অবুঝ মেয়েটিকে স্কুল থেকে ফুসলিয়ে নিয়ে ৩ দিন সে বিভিন্ন হোটেলে রাখে। সে বিয়ে না করে মেয়েটির সর্বনাশ করে বাড়িতে পাঠায়। কিন্তু পরে আক্তারকে বিয়ের চাপ দিলে সে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। অবশেষে আমার বোনের মেয়ে বিষের বোতল হাতে নিয়ে বিয়ের দাবিতে ছেলের বাড়িতে অবস্থান নেয়।
বিয়ের দাবিতে অনশনকারী ওই মেয়ে শাহীদা আক্তার দৈনিক আকাশকে জানান, আক্তার আমার জীবন নষ্ট করেছে। আমি তাকেই বিয়ে করব। তার সঙ্গে বিয়ে না দিলে এই বাড়িতেই আমি আত্মহত্যা করব।
সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য বিনা বেগম বলেন, স্থানীয়ভাবে অনশনের বিষয়টি সুরাহা চলছে। সুরাহা না হলে বিয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. কামাল ভূঁইয়া ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. মফিজুর রহমান বলেন, ছেলে ও তার পরিবার ওই মেয়েকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মেয়ের পরিবার পরিষদে বা থানায় লিখিত অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আখাউড়া থানার ওসি মোশারফ হোসেন তরফদার দৈনিক আকাশকে বলেন, অনশনের বিষয়টি আমরা এখনও অবগত নই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















