ঢাকা ০৩:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

জুলাই–আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ করা হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক আওয়ামী লীগ নেতার জামিনকে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রসিকিউটর তামিম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচারের প্রশ্নে আমরা কেউই কোনো পর্যায়ে কম্প্রোমাইজ করব না। এর কোনো সুযোগও নেই। কারণ এ দেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছে—যা যুগে যুগে নয়, শতাব্দীতে এক-দুবার ঘটে। বাংলাদেশে ৫৪ বছর পর নতুন করে পুনর্গঠনের একটি সুযোগ এনে দিয়েছেন ১৪০০ শহীদ। এই সুযোগের অপব্যবহার করলে আমরা দায়ী থেকে যাব।’

ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে মাত্র দুটি ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ৬৪ জেলায় সংঘটিত গণহত্যার বিচার কার্যক্রম চলছে। একটি প্রসিকিউশন টিম ও একটি তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রায় দুই শতাধিক আসামির বিচার শুরু করা সম্ভব হয়েছে। ‘আমরা কতদূর পর্যন্ত শেষ করে যেতে পারবো, তা জানি না। তবে চিফ প্রসিকিউটরের নেতৃত্বে এই বিচার কার্যক্রমে প্রসিকিউশন টিমের কোনো ধরনের গাফিলতি নেই,’ বলেন তিনি।

জুলাই হত্যাকাণ্ডে সহায়তাকারী ব্যবসায়ী ও সংস্কৃতিকর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করার ঘোষণার বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অবস্থান তুলে ধরে তামিম বলেন, ‘তারা যদি আমাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসে, আমরা অতি দ্রুত তদন্ত শুরু করবো এবং সেটিকে অগ্রগতির দিকে নিয়ে যাব। আশা করছি, তাদের বিচার প্রক্রিয়াও শুরু করা সম্ভব হবে।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্থাপিত তিন দফা দাবি প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, দাবিগুলোর একটি হলো— বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে একটি বিশেষ তদন্ত টিম এবং একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন। তারা এ দাবি আমাদের কাছে জানিয়েছেন। তবে বিশেষ তদন্ত টিম ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিষয়টি সরকারের দায়িত্বের আওতাভুক্ত। আমরা শিগগিরই এ দাবি সরকারের কাছে পৌঁছে দেব। আশা করছি, সরকার দ্রুতই এ বিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির পাটোয়ারীকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়ার প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন প্রসিকিউটর তামিম। তিনি জানান, পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের দেড় বছরের কার্যক্রমে এই প্রথম কোনো আসামি জামিন পেয়েছেন। ‘আদালতের জামিন দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে— এটি দেশের অন্যান্য আইনেও যেমন আছে, আমাদের আইনেও তেমনি আছে- বলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, সাধারণত দুটি কারণে জামিন দেওয়া হয়—একটি হলো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকা, অথবা অভিযোগ সুনির্দিষ্ট না হওয়া। তবে এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মানবিক বিবেচনায় জামিন দেওয়া হয়েছে। এর আগে আসামি দুবার জামিন আবেদন করলেও তা নামঞ্জুর হয়। তৃতীয়বার আবেদনের পর ট্রাইব্যুনাল কারা কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতালকে স্বাস্থ্য প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়। সোমবার কারা কর্তৃপক্ষ সেই প্রতিবেদন দাখিল করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসামি একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে ট্রাইব্যুনাল মানবিক কারণে জামিন দিতে চাইলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে কিছু শর্ত আরোপের আবেদন করা হয়। পরে সেসব শর্ত আরোপের মাধ্যমেই আদালত আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম

আপডেট সময় ১০:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

জুলাই–আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ করা হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক আওয়ামী লীগ নেতার জামিনকে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রসিকিউটর তামিম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচারের প্রশ্নে আমরা কেউই কোনো পর্যায়ে কম্প্রোমাইজ করব না। এর কোনো সুযোগও নেই। কারণ এ দেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছে—যা যুগে যুগে নয়, শতাব্দীতে এক-দুবার ঘটে। বাংলাদেশে ৫৪ বছর পর নতুন করে পুনর্গঠনের একটি সুযোগ এনে দিয়েছেন ১৪০০ শহীদ। এই সুযোগের অপব্যবহার করলে আমরা দায়ী থেকে যাব।’

ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে মাত্র দুটি ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ৬৪ জেলায় সংঘটিত গণহত্যার বিচার কার্যক্রম চলছে। একটি প্রসিকিউশন টিম ও একটি তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রায় দুই শতাধিক আসামির বিচার শুরু করা সম্ভব হয়েছে। ‘আমরা কতদূর পর্যন্ত শেষ করে যেতে পারবো, তা জানি না। তবে চিফ প্রসিকিউটরের নেতৃত্বে এই বিচার কার্যক্রমে প্রসিকিউশন টিমের কোনো ধরনের গাফিলতি নেই,’ বলেন তিনি।

জুলাই হত্যাকাণ্ডে সহায়তাকারী ব্যবসায়ী ও সংস্কৃতিকর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করার ঘোষণার বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অবস্থান তুলে ধরে তামিম বলেন, ‘তারা যদি আমাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসে, আমরা অতি দ্রুত তদন্ত শুরু করবো এবং সেটিকে অগ্রগতির দিকে নিয়ে যাব। আশা করছি, তাদের বিচার প্রক্রিয়াও শুরু করা সম্ভব হবে।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্থাপিত তিন দফা দাবি প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, দাবিগুলোর একটি হলো— বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে একটি বিশেষ তদন্ত টিম এবং একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন। তারা এ দাবি আমাদের কাছে জানিয়েছেন। তবে বিশেষ তদন্ত টিম ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিষয়টি সরকারের দায়িত্বের আওতাভুক্ত। আমরা শিগগিরই এ দাবি সরকারের কাছে পৌঁছে দেব। আশা করছি, সরকার দ্রুতই এ বিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির পাটোয়ারীকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়ার প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন প্রসিকিউটর তামিম। তিনি জানান, পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের দেড় বছরের কার্যক্রমে এই প্রথম কোনো আসামি জামিন পেয়েছেন। ‘আদালতের জামিন দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে— এটি দেশের অন্যান্য আইনেও যেমন আছে, আমাদের আইনেও তেমনি আছে- বলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, সাধারণত দুটি কারণে জামিন দেওয়া হয়—একটি হলো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকা, অথবা অভিযোগ সুনির্দিষ্ট না হওয়া। তবে এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মানবিক বিবেচনায় জামিন দেওয়া হয়েছে। এর আগে আসামি দুবার জামিন আবেদন করলেও তা নামঞ্জুর হয়। তৃতীয়বার আবেদনের পর ট্রাইব্যুনাল কারা কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতালকে স্বাস্থ্য প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়। সোমবার কারা কর্তৃপক্ষ সেই প্রতিবেদন দাখিল করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসামি একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে ট্রাইব্যুনাল মানবিক কারণে জামিন দিতে চাইলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে কিছু শর্ত আরোপের আবেদন করা হয়। পরে সেসব শর্ত আরোপের মাধ্যমেই আদালত আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।