অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় যখন বিশ্ব মা দিবস পালিত হচ্ছিল, তখন প্রিয় ছেলেসন্তান ও পুত্রবধূর মধ্যযুগীয় নির্যাতনের শিকার এক হতভাগিনী মা হাসপাতাল শয্যায় কাতরাচ্ছিলেন অসহ্য যন্ত্রণায়। বুক ভাসাচ্ছিলেন চোখের জলে।
রোববার বিশ্ব মা দিবসে আম্বিয়া খাতুন নামের এ মায়ের বুকফাটা কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে কিশোরগঞ্জের ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক ওয়ার্ড।
একমাত্র ছেলেন বর্বরোচিত নির্যাতনে ষাটোর্ধ্ব আম্বিয়া খাতুনের ডান হাতের হাড় চূর্ণবিচূর্ণ, মাথায় গভীর ক্ষত জখম এবং চারটি দাঁত ভেঙে যায়। রোববার বিকালে জহুরুল হক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সরেজমিন পরিদর্শনকালে এ হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে।
তিন মেয়েকে বঞ্চিত করে সম্পত্তি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় একমাত্র ছেলে ও তার স্ত্রী হত্যার উদ্দেশ্যে আম্বিয়া খাতুনের ওপর চালায় নিষ্ঠুর নির্যাতন। এ ঘটনায় মামলা রুজুর তিন দিন পরও কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসুয়া ইউনিয়নের চারলদিয়া গ্রামের আবদুল বাতেন স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন এবং এক ছেলে ও তিন মেয়েকে রেখে ১৯৯৫ সালে মারা যান। বিধবা আম্বিয়া খাতুন বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পর ২০০৭ সালে একমাত্র ছেলেসন্তান হাবিবুর রহমান আলমকে বিয়ে করিয়ে সুখের সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখেন।
বিয়ের পরই অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসে প্রিয় সন্তান আলমের আচরণে। একপর্যায়ে ইচ্ছা পূরণে জমি বিক্রি করে আলমকে বিদেশও পাঠান তিনি। কিন্তু কিছু দিন পরই বাড়ি ফিরে এসে তিন বোনকে বঞ্চিত করে পুরো সম্পত্তি তার নামে লিখে দিতে মাকে চাপ দিতে থাকে আলম।
সম্পত্তি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় অবিবাহিত মাস্টার্স পড়ুয়া ছোট বোন মরিয়ম এবং মা আম্বিয়া খাতুনের ওপর নেমে আসে আলম ও তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তারের নিত্যদিন নির্যাতনের খড়গ।
এ পরিস্থিতিতে প্রাণভয়ে মরিয়ম বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বড় ভগ্নিপতির বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং সেখান থেকেই মাস্টার্স শেষ করেন। পান থেকে চুন খসার মতো তুচ্ছ ঘটনায় নিপীড়ন-নির্যাতন চললেও আম্বিয়া খাতুন স্বামীর ভিটে ছাড়তে চাইছিলেন না কিছুতেই।
তবে কোনো অবস্থাতেই সম্পত্তির বিষয়ে আপস না করায় বুধবার দুপুরে ছেলে ও ছেলের বউ হত্যার উদ্দেশ্যে দা ও লাঠি দিয়ে আম্বিয়া খাতুনের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বরোচিত নির্যাতন চালায়।
তাকে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
যোগাযোগ করা হলে কটিয়াদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আম্বিয়া খাতুনের ছোট মেয়ে মরিয়ম বেগম বাদী হয়ে শুক্রবার মামলা করেছেন।
মামলায় হাবিবুর রহমান আলম, তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার ও তার শ্বশুর হিরু মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে বলে দাবি করেন তিনি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























