ঢাকা ০৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

পাকিস্তানে প্রথম দৃষ্টিহীন বিচারক

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

পাকিস্তানে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন দৃষ্টিহীন এক মেধাবী তরুণ। দেশটিতে এই প্রথম দৃষ্টিহীন কেউ বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেলেন।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে বিচারকের আসনে বসার পথটা সহজ ছিল না ইউসুফ সালিম নামে ওই তরুণের। অন্য সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শুধু অন্ধ হওয়ার কারণে বিচারক হওয়ার স্বপ্নটা ধূলিসাৎ হতে যাচ্ছিল তার। কিন্তু পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি মিয়া সাকিব নিসারের হস্তক্ষেপে চাকরিতে নিয়োগ পান তিনি।

পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন ইউসুফ। অত্যন্ত মেধাবি ইউসুফ অসাধারণ ফলাফল করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বর্ণপদক পান। পড়াশুনা শেষ করে অংশ নেন পাকিস্তান জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায়। লিখিত পরীক্ষায় সাড়ে ছয় হাজার প্রার্থীর মধ্যে শীর্ষ স্থান দখল করেন ইউসুফ সালিম। মৌখিক পরীক্ষার জন্য ইউসুফসহ ২১ জনকে মনোনীত করা হয়। কিন্তু অন্ধ হওয়ার কারণে বাদ পড়ে যান তিনি।

২২ এপ্রিল তাকে নিয়ে পাকিস্তানের গণমাধ্যম দ্য নিউজে সংবাদ প্রকাশ হয়। এ খবর জানতে পেরে পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি সুয়োমুটো রুল জারি করেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, যদি কেউ অন্য সব দিক থেকে থেকে যোগ্যতা সম্পন্ন হন তাহলে শুধু অন্ধত্বের কারণে তাকে চাকরি থেকে বাদ দেয়া যাবে না।

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের জারি করা সুয়োমুটোতে বলা হয়, পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী অনুচ্ছেদ ৯, ১৪, ২৫ এবং জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী বিষয়ক কনভেনশন অনুষায়ী তার চাকরি পাওয়ার মৌলিক অধিকার রয়েছে। পাকিস্তানের ১৯৮১ সালের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, তিন শতাংশ সরকারি চাকরি প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত।

লাহোর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এই বিষয়ে পুনর্বিবেচনা ও মৌখিক মতামতা জানানোর নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি মিয়া সাকিব নিসার।

অবশেষ ইউসুফের স্বপ্ন সত্যি হয়। গতকাল শনিবার লাহোর হাইকোর্ট থেকে ‘সিভিল বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেট’ পদে যোগদান করার নিয়োগপত্র পান ইউসুফ।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিচারক হওয়ার অনেক নজির থাকলেও পাকিস্তানে ইউসুফ সালিমই প্রথম।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

পাকিস্তানে প্রথম দৃষ্টিহীন বিচারক

আপডেট সময় ০৮:৫৬:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ মে ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

পাকিস্তানে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন দৃষ্টিহীন এক মেধাবী তরুণ। দেশটিতে এই প্রথম দৃষ্টিহীন কেউ বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেলেন।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে বিচারকের আসনে বসার পথটা সহজ ছিল না ইউসুফ সালিম নামে ওই তরুণের। অন্য সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শুধু অন্ধ হওয়ার কারণে বিচারক হওয়ার স্বপ্নটা ধূলিসাৎ হতে যাচ্ছিল তার। কিন্তু পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি মিয়া সাকিব নিসারের হস্তক্ষেপে চাকরিতে নিয়োগ পান তিনি।

পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন ইউসুফ। অত্যন্ত মেধাবি ইউসুফ অসাধারণ ফলাফল করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বর্ণপদক পান। পড়াশুনা শেষ করে অংশ নেন পাকিস্তান জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায়। লিখিত পরীক্ষায় সাড়ে ছয় হাজার প্রার্থীর মধ্যে শীর্ষ স্থান দখল করেন ইউসুফ সালিম। মৌখিক পরীক্ষার জন্য ইউসুফসহ ২১ জনকে মনোনীত করা হয়। কিন্তু অন্ধ হওয়ার কারণে বাদ পড়ে যান তিনি।

২২ এপ্রিল তাকে নিয়ে পাকিস্তানের গণমাধ্যম দ্য নিউজে সংবাদ প্রকাশ হয়। এ খবর জানতে পেরে পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি সুয়োমুটো রুল জারি করেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, যদি কেউ অন্য সব দিক থেকে থেকে যোগ্যতা সম্পন্ন হন তাহলে শুধু অন্ধত্বের কারণে তাকে চাকরি থেকে বাদ দেয়া যাবে না।

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের জারি করা সুয়োমুটোতে বলা হয়, পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী অনুচ্ছেদ ৯, ১৪, ২৫ এবং জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী বিষয়ক কনভেনশন অনুষায়ী তার চাকরি পাওয়ার মৌলিক অধিকার রয়েছে। পাকিস্তানের ১৯৮১ সালের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, তিন শতাংশ সরকারি চাকরি প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত।

লাহোর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এই বিষয়ে পুনর্বিবেচনা ও মৌখিক মতামতা জানানোর নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি মিয়া সাকিব নিসার।

অবশেষ ইউসুফের স্বপ্ন সত্যি হয়। গতকাল শনিবার লাহোর হাইকোর্ট থেকে ‘সিভিল বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেট’ পদে যোগদান করার নিয়োগপত্র পান ইউসুফ।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিচারক হওয়ার অনেক নজির থাকলেও পাকিস্তানে ইউসুফ সালিমই প্রথম।