ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ক্রীড়ার বিকল্প নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী যেকোনো দুর্যোগে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে: জুবাইদা রহমান নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রিজভীর ভাইরাল ভিডিওর নারীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি জামায়াত এমপির প্রবাসী কার্ডধারীদের ভূমি সেবা সহজ করতে ভূমিমন্ত্রীর নির্দেশ মানবতাবিরোধী অপরাধে মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ নারায়ণগঞ্জে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৮ রাজধানীতে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড সাইবার বুলিং শক্ত হাতে দমনে সরকার বদ্ধপরিকর: তথ্য উপদেষ্টা মুন্সীগঞ্জে চাচাতো ভাইকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেফতার

ভারতে দাম ২ হাজার রুপি, বাংলাদেশে ৪০ হাজার

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেছে ভারতের ইংরেজি দৈনিক ইকোনমিক টাইমস। তারা বলেছে, সীমান্তপথে গরু চোরাচালান বাণিজ্যের পরিমাণ এখন ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। বাংলাদেশিদের থেকে বহুগুণ বেশি উৎসাহী কথিত ভারতীয় ব্যবসায়ী বা চোরাচালানিরা। দুই হাজার রুপি দামে যে বাছুর বিক্রি হয় ভারতে, সেই বাছুর বাংলাদেশে বিক্রি হয় ৪০ হাজার রুপিতে।

বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে গরুর ওপর বিশেষভাবে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল। কিন্তু তা বাস্তবে কিছুটা সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ানো ছাড়া আর কতটা কি কাজ দিয়েছে তা একটা ভাবনার বিষয়। ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশে গরুর বিরাট চাহিদা বেড়ে গেছে। গরু চোরাচালানকারিদের মধ্যে ঈদের আগেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। ঈদকে সামনে রেখে দুদেশের সীমান্তের বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে ২৪ পরগনা থেকে ত্রিপুরা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় ‘ক্যাটেল করিডোরগুলো’ সক্রিয় গরু চোরাচালান প্রত্যক্ষ করছে।

এবারের গরু চোরাচালানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, গরু চোরাচালানের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের নেয়া পদক্ষেপকে ফাঁকি দেওয়া। নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবস্থাকে ব্যর্থ করে দিতে চোরাচালানীরা বাংলাদেশে গরু পাচার করতে পাহাড়ি অঞ্চলের দুর্গম ভূ-প্রকৃতিকে ব্যবহার করছে। আসামের নিম্ন অববাহিকা অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমের দুর্যোগ মোকাবিলা করছে। এই সুযোগে চোরাচালানকারীরা অভিনব উপায়ে পানি পথ ব্যবহার করছে। যেসব নদী কম খোরস্রোতা অথচ বর্তমানে বৃষ্টির পানিতে টইটুম্বুর, সেইসব নদীপথে তারা কলা গাছ তৈরির ভেলার সঙ্গে বাছুর বেঁধে ভাসিয়ে দিচ্ছে।

এ ঘটনা মাইনকার চর থেকে বরাক উপত্যকা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের জলমগ্ন কাদা-চর থেকে মেঘালয়ের পার্বত্য অঞ্চলজুড়ে এভাবে চোরাচালানিদের বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করতে দেখা যাচ্ছে। তাদের তৎপরতা সব থেকে বেশি আসাম এবং উত্তরবঙ্গে।

অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, ভারত-বাংলাাদেশ সীমান্তজুড়ে কেন এত বেশি গরু চোরাচালানি চলছে? এর উত্তর প্রকৃতপক্ষে অর্থনীতিতে নিহিত। বাংলাদেশে ঈদুল আজহা মৌসুমে একটি বাছুর ৪০ হাজার রুপিতে বিক্রি হয়। অন্যদিকে ভারতীয় দিকে প্রায় দুই হাজার থেকে তিন হাজার রুপিতে এ ধরনের বাছুর পাওয়া যায়।

বাংলাদেশে একটি পূর্ণ বয়স্ক গরু ঈদের হাঁটে ৮০ হাজার থেকে সোয়া লাখ রুপি বিক্রি হয়। অন্যদিকে সেই একই ধরনের গবাদি পশুর দাম ৪০ হাজার রুপিতেও বিকোবে না। বর্তমানে বছরে আন্তঃসীমান্ত গরু বাণিজ্য পাঁচ হাজার রুপি কোটি ছাড়িয়ে গেছে বলে অনুমান করা হয়।

দি ইকোনমিস্ট টাইমসের রিপোর্টে আরও বলা হয়, গরু চোরাচালানিদের কাছে তাইি এই বাণিজ্যে ঝুঁকি নেয়ার বিষয়টি অনেক ব্যাপকমাত্রা লাভ করতে পারে। গরু বাণিজ্যর সঙ্গে সংশিষ্টদের মতে, এমনকি স্থানীয়ভাবে প্রজনন করা গরুর দাম বাংলাদেশে আকাশছোঁয়া। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বলেছে, প্রধানত বিহার, হরিয়ানা, রাজস্থান এবং উত্তর প্রদেশের গরুগুলো আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়ের সীমান্ত রুটগুলো দিয়ে বাংলাদেশে হারিয়ে যাচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ক্রীড়ার বিকল্প নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ভারতে দাম ২ হাজার রুপি, বাংলাদেশে ৪০ হাজার

আপডেট সময় ০৩:১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেছে ভারতের ইংরেজি দৈনিক ইকোনমিক টাইমস। তারা বলেছে, সীমান্তপথে গরু চোরাচালান বাণিজ্যের পরিমাণ এখন ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। বাংলাদেশিদের থেকে বহুগুণ বেশি উৎসাহী কথিত ভারতীয় ব্যবসায়ী বা চোরাচালানিরা। দুই হাজার রুপি দামে যে বাছুর বিক্রি হয় ভারতে, সেই বাছুর বাংলাদেশে বিক্রি হয় ৪০ হাজার রুপিতে।

বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে গরুর ওপর বিশেষভাবে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল। কিন্তু তা বাস্তবে কিছুটা সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ানো ছাড়া আর কতটা কি কাজ দিয়েছে তা একটা ভাবনার বিষয়। ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশে গরুর বিরাট চাহিদা বেড়ে গেছে। গরু চোরাচালানকারিদের মধ্যে ঈদের আগেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। ঈদকে সামনে রেখে দুদেশের সীমান্তের বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে ২৪ পরগনা থেকে ত্রিপুরা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় ‘ক্যাটেল করিডোরগুলো’ সক্রিয় গরু চোরাচালান প্রত্যক্ষ করছে।

এবারের গরু চোরাচালানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, গরু চোরাচালানের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের নেয়া পদক্ষেপকে ফাঁকি দেওয়া। নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবস্থাকে ব্যর্থ করে দিতে চোরাচালানীরা বাংলাদেশে গরু পাচার করতে পাহাড়ি অঞ্চলের দুর্গম ভূ-প্রকৃতিকে ব্যবহার করছে। আসামের নিম্ন অববাহিকা অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমের দুর্যোগ মোকাবিলা করছে। এই সুযোগে চোরাচালানকারীরা অভিনব উপায়ে পানি পথ ব্যবহার করছে। যেসব নদী কম খোরস্রোতা অথচ বর্তমানে বৃষ্টির পানিতে টইটুম্বুর, সেইসব নদীপথে তারা কলা গাছ তৈরির ভেলার সঙ্গে বাছুর বেঁধে ভাসিয়ে দিচ্ছে।

এ ঘটনা মাইনকার চর থেকে বরাক উপত্যকা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের জলমগ্ন কাদা-চর থেকে মেঘালয়ের পার্বত্য অঞ্চলজুড়ে এভাবে চোরাচালানিদের বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করতে দেখা যাচ্ছে। তাদের তৎপরতা সব থেকে বেশি আসাম এবং উত্তরবঙ্গে।

অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, ভারত-বাংলাাদেশ সীমান্তজুড়ে কেন এত বেশি গরু চোরাচালানি চলছে? এর উত্তর প্রকৃতপক্ষে অর্থনীতিতে নিহিত। বাংলাদেশে ঈদুল আজহা মৌসুমে একটি বাছুর ৪০ হাজার রুপিতে বিক্রি হয়। অন্যদিকে ভারতীয় দিকে প্রায় দুই হাজার থেকে তিন হাজার রুপিতে এ ধরনের বাছুর পাওয়া যায়।

বাংলাদেশে একটি পূর্ণ বয়স্ক গরু ঈদের হাঁটে ৮০ হাজার থেকে সোয়া লাখ রুপি বিক্রি হয়। অন্যদিকে সেই একই ধরনের গবাদি পশুর দাম ৪০ হাজার রুপিতেও বিকোবে না। বর্তমানে বছরে আন্তঃসীমান্ত গরু বাণিজ্য পাঁচ হাজার রুপি কোটি ছাড়িয়ে গেছে বলে অনুমান করা হয়।

দি ইকোনমিস্ট টাইমসের রিপোর্টে আরও বলা হয়, গরু চোরাচালানিদের কাছে তাইি এই বাণিজ্যে ঝুঁকি নেয়ার বিষয়টি অনেক ব্যাপকমাত্রা লাভ করতে পারে। গরু বাণিজ্যর সঙ্গে সংশিষ্টদের মতে, এমনকি স্থানীয়ভাবে প্রজনন করা গরুর দাম বাংলাদেশে আকাশছোঁয়া। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বলেছে, প্রধানত বিহার, হরিয়ানা, রাজস্থান এবং উত্তর প্রদেশের গরুগুলো আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়ের সীমান্ত রুটগুলো দিয়ে বাংলাদেশে হারিয়ে যাচ্ছে।