ঢাকা ০৫:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

টিপাইমুখ বাঁধ আমাদের নিজেদের তৈরি দুর্যোগ: স্পিকার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরের বরাক নদীর ওপর নির্মিত টিপাইমুখ বাঁধ আমাদের নিজেদের তৈরি এক ধরনের ‘দুর্যোগ’। কারণ, এটি বাংলাদেশের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রতিবেশী দেশ চালু করেছিল।

তিনি বলেন, ‘ভারতের মণিপুরে বরাক নদীর ওপর প্রস্তাবিত ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন টিপাইমুখ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের অনুরোধে সেই দেশ গ্রহণ করেছিল। এটি আমাদের নিজেদের প্রচেষ্টায় তৈরি একটি দুর্যোগ।

মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টু সিলেট-৩ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মালিকের টিপাইমুখ বাঁধের ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা সিলেটের ওপর সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় স্পিকার এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী তার বক্তব্য শেষ করার পর স্পিকার সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমি পানিসম্পদ মন্ত্রী ছিলাম, তাই আমার কিছু অভিজ্ঞতা আছে। ভারত তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের অনুরোধে এই বাঁধ নির্মাণ শুরু করেছিল। ফলে, আমরা নিজেরাই আমাদের বিপর্যয় ডেকে এনেছি।

ভারত ২০০৩ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বরাক নদীর ওপর এই বিতর্কিত টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ শুরু করে। সম্ভাব্য পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কায় দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রতিবাদ ও সমালোচনার মুখে নির্মাণকাজ স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের শেষ দিকে আবারও নির্মাণকাজ শুরু হয়।

২০১০ ও ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে যৌথ ঘোষণায় ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেন যে, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, যা বাংলাদেশের ক্ষতি করতে পারে।

টিপাইমুখ বাঁধটি মণিপুরের চুরাচাঁদপুর জেলার টিপাইমুখ উপবিভাগে বরাক ও তুইভাই নদীর মিলনস্থলের কাছে অবস্থিত। এটি মণিপুর, মিজোরাম ও আসাম— এই তিনটি রাজ্যের সংযোগস্থলের নিকটবর্তী হওয়ায় প্রকল্পটি এসব অঞ্চলের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

বরাক নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করে সুরমা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে এবং এটি সিলেট অঞ্চলের লাইফলাইন হিসেবে বিবেচিত।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চট্টগ্রামে চাঁদা চেয়ে হুমকি দেওয়া সন্ত্রাসী সাব্বির গ্রেপ্তার

টিপাইমুখ বাঁধ আমাদের নিজেদের তৈরি দুর্যোগ: স্পিকার

আপডেট সময় ১০:৫৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরের বরাক নদীর ওপর নির্মিত টিপাইমুখ বাঁধ আমাদের নিজেদের তৈরি এক ধরনের ‘দুর্যোগ’। কারণ, এটি বাংলাদেশের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রতিবেশী দেশ চালু করেছিল।

তিনি বলেন, ‘ভারতের মণিপুরে বরাক নদীর ওপর প্রস্তাবিত ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন টিপাইমুখ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের অনুরোধে সেই দেশ গ্রহণ করেছিল। এটি আমাদের নিজেদের প্রচেষ্টায় তৈরি একটি দুর্যোগ।

মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টু সিলেট-৩ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মালিকের টিপাইমুখ বাঁধের ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা সিলেটের ওপর সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় স্পিকার এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী তার বক্তব্য শেষ করার পর স্পিকার সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমি পানিসম্পদ মন্ত্রী ছিলাম, তাই আমার কিছু অভিজ্ঞতা আছে। ভারত তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের অনুরোধে এই বাঁধ নির্মাণ শুরু করেছিল। ফলে, আমরা নিজেরাই আমাদের বিপর্যয় ডেকে এনেছি।

ভারত ২০০৩ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বরাক নদীর ওপর এই বিতর্কিত টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ শুরু করে। সম্ভাব্য পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কায় দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রতিবাদ ও সমালোচনার মুখে নির্মাণকাজ স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের শেষ দিকে আবারও নির্মাণকাজ শুরু হয়।

২০১০ ও ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে যৌথ ঘোষণায় ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেন যে, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, যা বাংলাদেশের ক্ষতি করতে পারে।

টিপাইমুখ বাঁধটি মণিপুরের চুরাচাঁদপুর জেলার টিপাইমুখ উপবিভাগে বরাক ও তুইভাই নদীর মিলনস্থলের কাছে অবস্থিত। এটি মণিপুর, মিজোরাম ও আসাম— এই তিনটি রাজ্যের সংযোগস্থলের নিকটবর্তী হওয়ায় প্রকল্পটি এসব অঞ্চলের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

বরাক নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করে সুরমা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে এবং এটি সিলেট অঞ্চলের লাইফলাইন হিসেবে বিবেচিত।