ঢাকা ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

হাকালুকি হাওরের বিলে ধরা পড়েছে ২০ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ

মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরের একটি বিলে শনিবার বিকেলে অতি সংকটাপন্ন প্রজাতির প্রায় ২০ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছটি ধরা পড়ে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অতিসংকটাপন্ন প্রজাতির মাছটির শরীরে বাঘের মতো ডোরাকাটা। তাই অনেকে এটিকে ‘বাঘ’ মাছ বলে থাকেন। কিন্তু এটির কেতাবি নাম বাঘাইড়। প্রায় ২০ কেজি ওজনের এ মাছটি আজ শনিবার বিকেলে মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরের একটি বিলে ধরা পড়ে। বিক্রির জন্য সন্ধ্যায় জুড়ী উপজেলা সদরে মাইকিং করা হয়। খবর পেয়ে উৎসুক লোকজন মাছটি দেখতে ভিড় জমান। বিক্রেতা দাম হাঁকেন ৩৫ হাজার টাকা।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলা সদরের ডাকঘর সড়ক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ৫০ থেকে ১০০ জন বিভিন্ন বয়সী লোক মাছ বিক্রেতাকে ঘিরে আছেন। তাঁদের কেউ কেউ মোবাইলে মাছের ছবি তুলছেন। কেউ হাঁকছেন দাম।

স্থানীয় মুদিদোকানদার ইলিয়াছুর রহমান বলেন, ‘১২ হাজার দাম করছি। দেয় না। এর বেশি টেকায় বেচত পারত নায়।’

ছবি তোলার সময় অটোরিকশা স্ট্যান্ডের ব্যবস্থাপক আলাল আহমদ বলেন, ‘ছোট থাকতে বাজারে আকালুকি আওরোর নানান জাতর বড় বড় মাছ উঠতে দেখছি। অনেক দিন ধরি এই রকম আর দেখি না। এত দাম দিয়া মাছটা কিনতাম পারতাম নায়। তবুও মোবাইলে ছবিটা তুলিয়া রাখি।’

মাছ বিক্রেতা একরাম আলীর বাড়ি পার্শ্ববর্তী বড়লেখা উপজেলার কানুনগড় বাজার এলাকায়। পেশায় মৎস্যজীবী একরাম বলেন, হাকালুকি হাওরের জল্লা বিলে বাঘাইড় মাছটি ধরা পড়ে। মাছটি তিনি বিক্রির জন্য কিনেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রায় ২০ কেজি ওজনের মাছটির ৩৫ হাজার টেকা দাম চাইছি। ১৭ হাজার টেকা দাম হইছে। আরেকটু বেশি পাইলে বেচি লাইমু।’

কুলাউড়া উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) তথ্যমতে, বাঘাইড় অতিসংকটাপন্ন প্রজাতির মাছ। এরা রাক্ষসে। বিভিন্ন জাতের ছোট ছোট মাছ ও জলজ প্রাণী খায়। এরা বড় বড় নদী, যেখানে স্রোত বেশি, সেখানে থাকে। বর্ষা শুরুর আগে এরা ডিম ছাড়ে। এ সময়টাতে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় এরা চলে যায়। এ কারণে হাওরে ঢুকে যেতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ায় ২৬৫ বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ ২০ জন আটক

হাকালুকি হাওরের বিলে ধরা পড়েছে ২০ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ

আপডেট সময় ০৬:৫৬:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অতিসংকটাপন্ন প্রজাতির মাছটির শরীরে বাঘের মতো ডোরাকাটা। তাই অনেকে এটিকে ‘বাঘ’ মাছ বলে থাকেন। কিন্তু এটির কেতাবি নাম বাঘাইড়। প্রায় ২০ কেজি ওজনের এ মাছটি আজ শনিবার বিকেলে মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরের একটি বিলে ধরা পড়ে। বিক্রির জন্য সন্ধ্যায় জুড়ী উপজেলা সদরে মাইকিং করা হয়। খবর পেয়ে উৎসুক লোকজন মাছটি দেখতে ভিড় জমান। বিক্রেতা দাম হাঁকেন ৩৫ হাজার টাকা।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলা সদরের ডাকঘর সড়ক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ৫০ থেকে ১০০ জন বিভিন্ন বয়সী লোক মাছ বিক্রেতাকে ঘিরে আছেন। তাঁদের কেউ কেউ মোবাইলে মাছের ছবি তুলছেন। কেউ হাঁকছেন দাম।

স্থানীয় মুদিদোকানদার ইলিয়াছুর রহমান বলেন, ‘১২ হাজার দাম করছি। দেয় না। এর বেশি টেকায় বেচত পারত নায়।’

ছবি তোলার সময় অটোরিকশা স্ট্যান্ডের ব্যবস্থাপক আলাল আহমদ বলেন, ‘ছোট থাকতে বাজারে আকালুকি আওরোর নানান জাতর বড় বড় মাছ উঠতে দেখছি। অনেক দিন ধরি এই রকম আর দেখি না। এত দাম দিয়া মাছটা কিনতাম পারতাম নায়। তবুও মোবাইলে ছবিটা তুলিয়া রাখি।’

মাছ বিক্রেতা একরাম আলীর বাড়ি পার্শ্ববর্তী বড়লেখা উপজেলার কানুনগড় বাজার এলাকায়। পেশায় মৎস্যজীবী একরাম বলেন, হাকালুকি হাওরের জল্লা বিলে বাঘাইড় মাছটি ধরা পড়ে। মাছটি তিনি বিক্রির জন্য কিনেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রায় ২০ কেজি ওজনের মাছটির ৩৫ হাজার টেকা দাম চাইছি। ১৭ হাজার টেকা দাম হইছে। আরেকটু বেশি পাইলে বেচি লাইমু।’

কুলাউড়া উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) তথ্যমতে, বাঘাইড় অতিসংকটাপন্ন প্রজাতির মাছ। এরা রাক্ষসে। বিভিন্ন জাতের ছোট ছোট মাছ ও জলজ প্রাণী খায়। এরা বড় বড় নদী, যেখানে স্রোত বেশি, সেখানে থাকে। বর্ষা শুরুর আগে এরা ডিম ছাড়ে। এ সময়টাতে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় এরা চলে যায়। এ কারণে হাওরে ঢুকে যেতে পারে।