অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
কুয়েতের জেলিব আল সুয়েক বাঙালি-অধ্যুষিত এলাকা হাসাবিয়া থেকে ৯ মাস আগে সবজি ব্যবসায়ী ওমর ফারুক বাবুল (৪২) নামে এক প্রবাসী নিখোঁজ হয়। তিনি ২০ বছর ধরে হাসাবিয়া এলাকায় বিভিন্ন কাঁচামাল শাকসবজির ব্যবসা করতেন।
নিখোঁজ বাবুলের বাড়ি চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নে।
জানা গেছে, ২০১৭ সালে দেশে ছুটিতে দেশে আসেন বাবুল। ৩ মাসের ছুটি শেষে ১২ মার্চ কুয়েতে ফিরে যান নিজ কর্মস্থলে। কিছুদিন পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন। হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা হয়ে পড়েন।
কুয়েতের বিভিন্ন আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নেয়ার চেষ্ট করেন। ব্যর্থ হয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় কুয়েতের বিভিন্ন হাসপাতাল ও জেলখানা ও কারাগার পর্যন্ত খোঁজ নিয়েও বাবুলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ বাবুলের ছেলে শাহাদাত হোসেন তার ফেসবুক আইডিতে তার বাবা নিখোঁজ সন্ধান চেয়ে ভিডিও প্রকাশ করেন। নিখোঁজ বাবুলের স্ত্রী সংসারের একমাত্র উপার্যনক্ষম ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ায় পাঁচ সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
নিখোঁজ বাবুলের স্ত্রী খোদেজা বলেন, তার স্বামীর সঙ্গে ২০১৭ সালে ২৩ আগস্ট সর্বশেষ যোগাযোগ হয়। তিনি কুয়েতে তার ভাগনে ও ব্যবসায়িক সহযোগী সোলেমানের সঙ্গে লেনদেন নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। এ নিয়ে তাকে ঘুমের মধ্যে বালিশচাপা দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তিনি জানান, সোলেমান ৬-৭ মাস আগে দেশে চলে এসেছে। নিখোঁজের ব্যাপারে তার কাছে জানতে চাইলে সে কিছু বলতে নারাজি প্রকাশ করছে। আমার স্বামী নিখোঁজ দেশে আমার পাঁচ সন্তান নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ব্যাপারে শাহরাস্তি থানায় একাধিকবার মামলা করতে গেলেও থানা মামলা নিতে অস্বীকার করে।
কুয়েত দূতাবাস যথেষ্ট সহযোগিতা করছে এবং দূতাবাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বাবুলের স্ত্রী খোদেজা।
এ বিষয়ে কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর আবদুল লতিফ খান বলেন, আমরা বাবুলকে খোঁজার সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কুয়েতের সব জেল ও হাসপাতাল খোঁজ নিয়েছি সেখানে এই নামের কেউ নেই। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এ দিকে নিখোঁজ বাবুলের কুয়েতি মালিক থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন হিসেবে কুতুব, আবুল বাশার, জুয়েল হোসেন নামে তিন বাংলাদেশিকে আটক করে কুয়েতের পুলিশ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























