অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
গাজীপুর এবং খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে অপপ্রচার ও গুজব ছাড়ানো রোধে সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য বিটিআরসি ও অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। অবশ্য এই নিয়ন্ত্রণ সহজ নয় বলেও জানে কমিশন।
কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনের মধ্যে ফেসবুকে এক ছাত্রের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনে হামলার অভিজ্ঞতা থেকে এই নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চাইছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।
বৃহস্পতিবার দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
আগামী ১৫ মে ভোটকে সামনে রেখে গাজীপুর এবং খুলনায় শুরু হয়েছে প্রচার যুদ্ধ। গাজীপুরে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকার। আর খুলনায় লড়াই হবে আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক এবং বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জুর মধ্যে।
২৪ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর আগেই দুই দলের সমর্থকরা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম, প্রধানত ফেসবুকে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। নিজের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়া ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিপক্ষে নানা কথা বলছেন তারা। নির্বাচনী প্রচারে যেসব কথা বলা নিষেধ, সেগুলো ফেসবুকে হচ্ছে হরহামেশাই।
এই প্রেক্ষিতে সামাজিক মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ আরোপের চিন্তার কারণ ব্যাখ্যা করে কমিশন সচিব বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ভোটেও অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানোর শঙ্কা রয়েছে।’
‘বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অপপ্রচার ও গুজব যেন না ছড়ায় সেজন্যে কীভাবে স্যোশাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করা যায় বা গুজব ছাড়া ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে মতবিনিময় করা হবে। তবে সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন।’
এর আগে বেলা ১১টা থেকে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে সভায় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিজিবি-র্যাবের মহাপরিচালকসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার, খুলনা-গাজীপুরের প্রশাসন-পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে সিইসি বলেন, ভোটের প্রচারে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
সেনা মোতায়েন হচ্ছে না
বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব জানান, দুই নগরে ভোটের সাত দিন আগে থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েনে বিএনপির দাবি মানা হচ্ছে না।
বিরোধী দলে থাকলে বরাবর স্থানীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি জানায় বিএনপি। তবে নির্বাচন কমিশন সব সময় সেই দাবি অগ্রাহ্য করেছে।
ইসি সচিব বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনে কোনোভাবেই সেনা মোতায়েন করা হবে না-এ সিদ্ধান্ত রয়েছে কমিশনের।’
‘আগেও বলেছি আমরা; বিজিবি-র্যাব-পুলিশসহ আধা সামরিক বাহিনী থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক। প্রয়োজনে দেশের অন্য এলাকা থেকে আরও বেশি সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য আনা হবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে।’
সেনা মোতায়েনের বিষয়ে বিএনপির দাবি অগ্রাহ্য করলে দলটির আস্থা থাকবে কি না-এমন প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, ‘কমিশনের প্রতি তাদের (বিএনপি) আস্থা রয়েছে বলেই সিটি নির্বাচনের ভোটে অংশ নিচ্ছে। আস্থা না থাকলে তারা তো এই নির্বাচনে আসত না।’
সচিব বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর থেকে গত ২৭ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি হয়েছে বলে প্রতিবেদন আসেনি। আইনশৃঙ্খলা বৈঠকেও বাহিনী প্রধানরা সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছেন।’
দুই নগরে স্বল্প পরিসরে ইভিএম ব্যবহারের কথা থাকলেও এখনও কেন্দ্র নির্ধারণ হয়নি বলে জানান সচিব। তবে তিনি জানান, সল্প পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করা।
গণমাধ্যমের সঙ্গে বৈঠক করতে চায় ইসি
ভোটের দিন ভোটকেন্দ্র থেকে সরাসরি সম্প্রচার ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করার বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে বসবে নির্বাচন কমিশন।
হেলালুদ্দীন বলেন, ‘আগে কোথাও কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। আমরা চাই মিডিয়া ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের মধ্যে যেনো ভুল বুঝাবুঝি না হয়। সেজন্য গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















