ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মাদক নিরাময় কেন্দ্রে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ‘আলোর পথ’ নামক একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি থাকা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। নিহত রেজাউল করিম (২৫) সালথা উপজেলার রামকান্তপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছেলে।

মাদক নিরাময় কেন্দ্রের মালিক বোয়ালমারী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল আলিম মোল্লা। বর্তমানে মাদক নিরাময় কেন্দ্রটি পরিচালনা করছেন তার ছেলে জাহিদ হোসেন মোল্লা। মঙ্গলবার বোয়ালমারী থানা পুলিশ রেজাউল করিমের লাশ উদ্ধার করে বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে একটি পক্ষ জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির কাউকেই পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বোয়ালমারীতে কলেজ রোডের ‘আলোর পথ’ নামের ওই মাদক নিরাময় কেন্দ্রে শুক্রবার নিহত রেজাউল করিমকে ভর্তি করা হয়।

নিরাময় কেন্দ্র থেকে টাকার জন্য রেজাউল করিমের বাবা আবুল কালামকে ফোন দেয়া হলে তিনি টাকা নিয়ে মঙ্গলবার সকালে নিরাময় কেন্দ্রের মালিককে দিয়ে আসেন। কিন্তু টাকা দেয়ার সময় তিনি তার ছেলের সঙ্গে দেখা কিংবা কথা বলতে পারেননি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিরাময় কেন্দ্র থেকে ফোন দেয়া হয় রেজাউল পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছে তাকে বোয়ালমারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ খবর পাওয়ার পর রেজাউলের স্বজনের হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পান রেজাউলের মৃতদেহ বারান্দায় পড়ে আছে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের লোকজন জানান, কয়েকজন ব্যক্তি লাশটি হাসপাতালে রেখে পালিয়ে গেছে। পরে রেজাউলের স্বজনেরা বোয়ালমারী থানা পুলিশকে খবর দেয়।

বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মোরশেদ আলম জানান, নিহত যুবকের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি এমনটি বুঝতে পেরে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। তার গায়ে আঘাতের চিহ্ণ ছিল। পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়টি নিয়ে রেজাউলের স্বজনেরা ‘আলোর পথ’ মাদক নিরাময় কেন্দ্রে গেলে তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে সেখান থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়। রেজাউলের হাত, পায়ে এবং মাথায় জখমের চিহ্ণ রয়েছে।

রেজাউলের চাচাতো ভাই শওকত হোসেন মুকুল জানান, তার ভাইকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন বেদমভাবে পিটিয়ে এবং মাথায় আঘাত করে হত্যা করেছে। তিনি জানান, রেজাউলের শরীরের বিভিন্নস্থানে ভারি কিছু দিয়ে আঘাতের চিহ্ণ দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থান ফুলে কালো হয়ে গেছে।

রেজাউলের বাবা মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম জানান, আমার ছেলেটি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী, নেশাগ্রস্ত নয়, তবে সে শুধু পান খেত। তাকে পান খাওয়ার অভ্যাস ফেরাতে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, নিরাময় কেন্দ্রে টাকা দিতে গেলে তারা আমার ছেলের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি। তারা আমার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি যাতে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করি সে জন্য নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের মালিক, পৌর আওয়ামী লীগ নেতা আলিম মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ছেলে জাহিদ মোল্লার মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন দেবার পর অন্যপ্রান্ত থেকে জনৈক মহিলা ফোন ধরলেও তিনি জানান, জাহিদ বাইরে আছে। পরে একাধিক বার ফোন দিলেও কেউ আর ফোন ধরেননি।

বোয়ালমারী থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগ পেয়ে হাসপাতাল থেকে রেজাউল নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। যুবকের শরীরে আঘাতের চিহ্ণ রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

মাদক নিরাময় কেন্দ্রে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

আপডেট সময় ০৯:৪৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ‘আলোর পথ’ নামক একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি থাকা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। নিহত রেজাউল করিম (২৫) সালথা উপজেলার রামকান্তপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছেলে।

মাদক নিরাময় কেন্দ্রের মালিক বোয়ালমারী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল আলিম মোল্লা। বর্তমানে মাদক নিরাময় কেন্দ্রটি পরিচালনা করছেন তার ছেলে জাহিদ হোসেন মোল্লা। মঙ্গলবার বোয়ালমারী থানা পুলিশ রেজাউল করিমের লাশ উদ্ধার করে বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে একটি পক্ষ জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির কাউকেই পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বোয়ালমারীতে কলেজ রোডের ‘আলোর পথ’ নামের ওই মাদক নিরাময় কেন্দ্রে শুক্রবার নিহত রেজাউল করিমকে ভর্তি করা হয়।

নিরাময় কেন্দ্র থেকে টাকার জন্য রেজাউল করিমের বাবা আবুল কালামকে ফোন দেয়া হলে তিনি টাকা নিয়ে মঙ্গলবার সকালে নিরাময় কেন্দ্রের মালিককে দিয়ে আসেন। কিন্তু টাকা দেয়ার সময় তিনি তার ছেলের সঙ্গে দেখা কিংবা কথা বলতে পারেননি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিরাময় কেন্দ্র থেকে ফোন দেয়া হয় রেজাউল পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছে তাকে বোয়ালমারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ খবর পাওয়ার পর রেজাউলের স্বজনের হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পান রেজাউলের মৃতদেহ বারান্দায় পড়ে আছে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের লোকজন জানান, কয়েকজন ব্যক্তি লাশটি হাসপাতালে রেখে পালিয়ে গেছে। পরে রেজাউলের স্বজনেরা বোয়ালমারী থানা পুলিশকে খবর দেয়।

বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মোরশেদ আলম জানান, নিহত যুবকের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি এমনটি বুঝতে পেরে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। তার গায়ে আঘাতের চিহ্ণ ছিল। পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়টি নিয়ে রেজাউলের স্বজনেরা ‘আলোর পথ’ মাদক নিরাময় কেন্দ্রে গেলে তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে সেখান থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়। রেজাউলের হাত, পায়ে এবং মাথায় জখমের চিহ্ণ রয়েছে।

রেজাউলের চাচাতো ভাই শওকত হোসেন মুকুল জানান, তার ভাইকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন বেদমভাবে পিটিয়ে এবং মাথায় আঘাত করে হত্যা করেছে। তিনি জানান, রেজাউলের শরীরের বিভিন্নস্থানে ভারি কিছু দিয়ে আঘাতের চিহ্ণ দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থান ফুলে কালো হয়ে গেছে।

রেজাউলের বাবা মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম জানান, আমার ছেলেটি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী, নেশাগ্রস্ত নয়, তবে সে শুধু পান খেত। তাকে পান খাওয়ার অভ্যাস ফেরাতে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, নিরাময় কেন্দ্রে টাকা দিতে গেলে তারা আমার ছেলের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি। তারা আমার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি যাতে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করি সে জন্য নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের মালিক, পৌর আওয়ামী লীগ নেতা আলিম মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ছেলে জাহিদ মোল্লার মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন দেবার পর অন্যপ্রান্ত থেকে জনৈক মহিলা ফোন ধরলেও তিনি জানান, জাহিদ বাইরে আছে। পরে একাধিক বার ফোন দিলেও কেউ আর ফোন ধরেননি।

বোয়ালমারী থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগ পেয়ে হাসপাতাল থেকে রেজাউল নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। যুবকের শরীরে আঘাতের চিহ্ণ রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।