ঢাকা ০১:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারত নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না: কাদের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিবেশী দেশ ভারত কোনো হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কোনো দেশ আমাদের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করুক এটা তারা চান না বলেও জানান ক্ষমতাসীন দলের এই শীর্ষ নেতা।

ভারত সফর শেষে দেশে ফিরে মঙ্গলবার বিকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

ক্ষমতাসীন বিজেপির আমন্ত্রণে আওয়ামী লীগের ১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল গত রবিবার ভারত সফরে যায়। সফরকালে তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে পাশের দেশ ভারত বরাবরই প্রভাব বিস্তার করে বলে প্রচার আছে। ২০০৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে একমাত্র ভারতের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসে বলে গুঞ্জন আছে রাজনীতিতে। এই অবস্থায় নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলটির ভারত সফর রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

দেশে ফিরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা একটি রাজনৈতিক দল। আমরা আজ আছি, কাল না-ও থাকতে পারি। আমাদের ক্ষমতার উৎস দেশের জনগণ। দেশের জনগণই নির্ধারণ করবে কে ক্ষমতায় থাকবে, কে থাকবে না। এ নিয়ে বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর করার কিছু নেই। আমরা আশাও করি না। এসব বিষয় আমরাই নির্ধারণ করব।’

কাদের বলেন, ‘বিদেশি শক্তি আমাদের বন্ধু হতে পারে। কিন্তু নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে, আমরা তা আশা করি না। আর ভারত অতীতেও আমাদের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করনি, এবারও করবে না। তাদের অনেক নেতার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে, আলোচনা হয়েছে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের ক্ষমতাসীন পার্টির আমন্ত্রণে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। সেখানে পার্টি টু পার্টি আলোচনা হয়েছে। আমরা সব ইস্যু নিয়ে কথা বলেছি। সেগুলোর মধ্যে সীমান্তচুক্তির জন্য আমরা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেছি।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসাও করেছে তারা। এই দুইজন প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় ছিলেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। আমরা আশা করি তিস্তা চুক্তিও হবে। আমাদের পানির জন্য যে হাহাকার আছে তা উপস্থাপন করেছি। এই চুক্তি হলে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহা উদ্দিন নাছিম ও এনামুল হক শামীম, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দি, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে জেট এয়ারওয়েজ যোগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন ১৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বড় নিয়োগ দিচ্ছে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র

ভারত নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না: কাদের

আপডেট সময় ০৭:৩৮:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিবেশী দেশ ভারত কোনো হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কোনো দেশ আমাদের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করুক এটা তারা চান না বলেও জানান ক্ষমতাসীন দলের এই শীর্ষ নেতা।

ভারত সফর শেষে দেশে ফিরে মঙ্গলবার বিকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

ক্ষমতাসীন বিজেপির আমন্ত্রণে আওয়ামী লীগের ১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল গত রবিবার ভারত সফরে যায়। সফরকালে তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে পাশের দেশ ভারত বরাবরই প্রভাব বিস্তার করে বলে প্রচার আছে। ২০০৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে একমাত্র ভারতের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসে বলে গুঞ্জন আছে রাজনীতিতে। এই অবস্থায় নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলটির ভারত সফর রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

দেশে ফিরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা একটি রাজনৈতিক দল। আমরা আজ আছি, কাল না-ও থাকতে পারি। আমাদের ক্ষমতার উৎস দেশের জনগণ। দেশের জনগণই নির্ধারণ করবে কে ক্ষমতায় থাকবে, কে থাকবে না। এ নিয়ে বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর করার কিছু নেই। আমরা আশাও করি না। এসব বিষয় আমরাই নির্ধারণ করব।’

কাদের বলেন, ‘বিদেশি শক্তি আমাদের বন্ধু হতে পারে। কিন্তু নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে, আমরা তা আশা করি না। আর ভারত অতীতেও আমাদের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করনি, এবারও করবে না। তাদের অনেক নেতার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে, আলোচনা হয়েছে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের ক্ষমতাসীন পার্টির আমন্ত্রণে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। সেখানে পার্টি টু পার্টি আলোচনা হয়েছে। আমরা সব ইস্যু নিয়ে কথা বলেছি। সেগুলোর মধ্যে সীমান্তচুক্তির জন্য আমরা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেছি।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসাও করেছে তারা। এই দুইজন প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় ছিলেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। আমরা আশা করি তিস্তা চুক্তিও হবে। আমাদের পানির জন্য যে হাহাকার আছে তা উপস্থাপন করেছি। এই চুক্তি হলে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহা উদ্দিন নাছিম ও এনামুল হক শামীম, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দি, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে জেট এয়ারওয়েজ যোগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন ১৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল।