ঢাকা ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপিল শুনানিতে কোনো ধরনের পক্ষপাত করিনি : সিইসি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা ভাববে এনসিপি : আসিফ মাহমুদ প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে : আব্দুল্লাহ মো. তাহের একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে: জাইমা রহমান চাকরির ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখা উচিত : আমীর খসরু ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রেকেও খেসারত দিতে হবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

ফিদেল কাস্ত্রোকে ভালোবেসে চাকরি খোয়ান সাংবাদিক লিজা

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ষাটের দশকের গোড়ার দিকের কথা। এর কয়েক বছর আগেই বিপ্লব এনে ফিদেল কাস্ত্রো তখন কিউবার শীর্ষ পদে। তার সাক্ষাৎকার নিতে সুদূর আমেরিকা থেকে হাভানায় আসেন এক নারী সাংবাদিক।

হাভানার হোটেল রিভিয়েরার এক সুইটে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছিলেন তরুণী মার্কিন সাংবাদিক লিজা হাওয়ার্ড। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ মেকআপ মুছে পোশাক পাল্টে শুতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এমন সময় হোটেলের ঘরের দরজায় টোকা। লিজা দেখলেন, যার সাক্ষাৎকার নিতে সুদূর আমেরিকা থেকে তিনি হাভানা এসেছেন, সেই ভদ্রলোক তার সামনে। ৩৭ বছরের ফিদেল কাস্ত্রো।

লিজা বলে বসেছিলেন, ‘আপনি দেশের শাসক হতে পারেন, আমিও গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক। আপনার সাহস হয় কী করে আমায় এতক্ষণ অপেক্ষা করানোর?’

দুজনের আলাপ পর্বের শুরুটা এমনই ছিল। সে রাতে কয়েক ঘণ্টা ধরে কথা হয়েছিল ফিদেল আর লিজার। মার্কসবাদ থেকে শুরু করে কিউবায় রাজনৈতিক বন্দিদের অবস্থা, সব নিয়েই। আমেরিকা যতই শত্রু হোক, সুন্দরী ছিপছিপে মার্কিন সাংবাদিকের প্রেমে পড়তে কিন্তু বেশি সময় লাগেনি ফিদেলের। আরও কয়েকবার কিউবা গিয়েছিলেন লিজা। স্বীকার করেছিলেন, তিনিও বিপ্লবী নেতার প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছেন। এক বিছানায় কাটিয়েছেন অনেক রাতও।

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংগ্রহশালা থেকে সম্প্রতি লিজার হাতে লেখা কিছু ডায়েরি ও নোট প্রকাশিত হয়েছে। সেখান থেকেই সামনে এসেছে ফিদেলের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা। তবে এই দুজনের রসায়ন নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে আগেও কম চর্চা হয়নি।

ক্যারিয়ারের শুরুতে টিভি ধারাবাহিকে অভিনয় করতেন লিজা। পরে সংবাদ জগতে আসেন। কেনেডি ও জনসন সরকারের বার্তা ফিদেলের কাছে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব ছিল লিজার ওপর। আবার ফিদেলের বার্তাও হোয়াইট হাউসের কান পর্যন্ত পৌঁছে দিতেন তিনি। পুরোটাই গোপনে।

লিজা লিখেছেন, ‘শরীরী খেলায় তিনি খুবই পটু ছিলেন। সেগুলো আমার জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মূহূর্ত।’

কখনও বা লিখেছেন, ‘উনি আমায় গভীরভাবে জড়িয়ে ধরেছিলেন একদিন। কিন্তু একটা অদ্ভুত বিষণ্ণতা আমায় প্রায়ই গ্রাস করত। নেতা কাস্ত্রো আর মানুষ কাস্ত্রো সম্পূর্ণ আলাদা বলে মনে হতো আমার।’

লিজার কথায়, ‘আমার কাছে তিনিই ছিলেন জর্জ বার্নার্ড শর ‘স্পার্ক অব ডিভাইন ফায়ার’। গোটা দুনিয়া যে একনায়কের রূপ তাকে দিয়েছিল, তিনি মোটেও তেমন ছিলেন না।’ হাভানার হোটেলেই লিজার সঙ্গে দেখা করতে আসতেন ফিদেল। একবার লিজাকে নিজের কোলে বসিয়ে বলেছিলেন- ‘তুমি আমার জন্য খুব বিপজ্জনক। তোমার মতো একটা মেয়েকে আমি খুব গভীরভাবে ভালোবাসতে পারি।’

শেষ পর্যন্ত কিউবা সরকারের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন লেখার অভিযোগে চাকরি যায় লিজার। বেশি দিন বাঁচেননি। ১৯৬৫ সালে অতিরিক্ত মাদক সেবনে মৃত্যু তার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিদেল কাস্ত্রোকে ভালোবেসে চাকরি খোয়ান সাংবাদিক লিজা

আপডেট সময় ১১:৩৭:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ষাটের দশকের গোড়ার দিকের কথা। এর কয়েক বছর আগেই বিপ্লব এনে ফিদেল কাস্ত্রো তখন কিউবার শীর্ষ পদে। তার সাক্ষাৎকার নিতে সুদূর আমেরিকা থেকে হাভানায় আসেন এক নারী সাংবাদিক।

হাভানার হোটেল রিভিয়েরার এক সুইটে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছিলেন তরুণী মার্কিন সাংবাদিক লিজা হাওয়ার্ড। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ মেকআপ মুছে পোশাক পাল্টে শুতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এমন সময় হোটেলের ঘরের দরজায় টোকা। লিজা দেখলেন, যার সাক্ষাৎকার নিতে সুদূর আমেরিকা থেকে তিনি হাভানা এসেছেন, সেই ভদ্রলোক তার সামনে। ৩৭ বছরের ফিদেল কাস্ত্রো।

লিজা বলে বসেছিলেন, ‘আপনি দেশের শাসক হতে পারেন, আমিও গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক। আপনার সাহস হয় কী করে আমায় এতক্ষণ অপেক্ষা করানোর?’

দুজনের আলাপ পর্বের শুরুটা এমনই ছিল। সে রাতে কয়েক ঘণ্টা ধরে কথা হয়েছিল ফিদেল আর লিজার। মার্কসবাদ থেকে শুরু করে কিউবায় রাজনৈতিক বন্দিদের অবস্থা, সব নিয়েই। আমেরিকা যতই শত্রু হোক, সুন্দরী ছিপছিপে মার্কিন সাংবাদিকের প্রেমে পড়তে কিন্তু বেশি সময় লাগেনি ফিদেলের। আরও কয়েকবার কিউবা গিয়েছিলেন লিজা। স্বীকার করেছিলেন, তিনিও বিপ্লবী নেতার প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছেন। এক বিছানায় কাটিয়েছেন অনেক রাতও।

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংগ্রহশালা থেকে সম্প্রতি লিজার হাতে লেখা কিছু ডায়েরি ও নোট প্রকাশিত হয়েছে। সেখান থেকেই সামনে এসেছে ফিদেলের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা। তবে এই দুজনের রসায়ন নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে আগেও কম চর্চা হয়নি।

ক্যারিয়ারের শুরুতে টিভি ধারাবাহিকে অভিনয় করতেন লিজা। পরে সংবাদ জগতে আসেন। কেনেডি ও জনসন সরকারের বার্তা ফিদেলের কাছে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব ছিল লিজার ওপর। আবার ফিদেলের বার্তাও হোয়াইট হাউসের কান পর্যন্ত পৌঁছে দিতেন তিনি। পুরোটাই গোপনে।

লিজা লিখেছেন, ‘শরীরী খেলায় তিনি খুবই পটু ছিলেন। সেগুলো আমার জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মূহূর্ত।’

কখনও বা লিখেছেন, ‘উনি আমায় গভীরভাবে জড়িয়ে ধরেছিলেন একদিন। কিন্তু একটা অদ্ভুত বিষণ্ণতা আমায় প্রায়ই গ্রাস করত। নেতা কাস্ত্রো আর মানুষ কাস্ত্রো সম্পূর্ণ আলাদা বলে মনে হতো আমার।’

লিজার কথায়, ‘আমার কাছে তিনিই ছিলেন জর্জ বার্নার্ড শর ‘স্পার্ক অব ডিভাইন ফায়ার’। গোটা দুনিয়া যে একনায়কের রূপ তাকে দিয়েছিল, তিনি মোটেও তেমন ছিলেন না।’ হাভানার হোটেলেই লিজার সঙ্গে দেখা করতে আসতেন ফিদেল। একবার লিজাকে নিজের কোলে বসিয়ে বলেছিলেন- ‘তুমি আমার জন্য খুব বিপজ্জনক। তোমার মতো একটা মেয়েকে আমি খুব গভীরভাবে ভালোবাসতে পারি।’

শেষ পর্যন্ত কিউবা সরকারের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন লেখার অভিযোগে চাকরি যায় লিজার। বেশি দিন বাঁচেননি। ১৯৬৫ সালে অতিরিক্ত মাদক সেবনে মৃত্যু তার।