অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগে দুই ‘যোগ্য প্রার্থী; আজমত উল্লাহ খান ও জাহাঙ্গীরের আলম। এদের একজনকে বাছাই করা চ্যালেঞ্জ দলের। তবে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যাকে চায়, তিনি আবার ভোটে আগ্রহী নন।
খুলনা আওয়ামী লীগ খালেককেই জেতার জন্য সবচেয়ে ভালো বিকল্প হিসেবে মনে করছে। কিন্তু ৩১ মার্চ তফসিল ঘোষণার পরই দৈনিক আকাশকে খালেক জানিয়েছিলেন তিনি মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগ্রহী নন।
এই মহানগরের সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক এখন বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য। খুলনার মেয়র পদে ভোটে দাঁড়াতে হলে ওই সংসদ সদস্য পদ ছাড়তে হবে তাকে। আর আগ্রহ দেখিয়ে সেই কাজটি করেননি তিনি। গত ৫ ও ৬ এপ্রিল আওয়ামী লীগ মনোনয়ন ফরম বেচলেও তিনি কেনেননি।
খালেক দৈনিক আকাশকে জানিয়েছেন, তিনি ভোট করতে চান না, কিন্তু দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা যদি বলেন, তাহলে বাগেরহাটে তিনি সংসদ সদস্য পদ ছেড়েই খুলনার মেয়র নির্বাচনে দাঁড়াবেন।
আগামী ১৫ মে গাজীপুর ও খুলনায় ভোটকে সামনে রেখে আজ রবিবার প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারে ডেকেছে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড।
এর আগে খুলনা আওয়ামী লীগ খালেককে মনোনয়ন দিতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে সর্বসম্মত প্রস্তাব দিয়েছে।
খালেকের দলের মনোনয়ন ফরম না কেনার বিষয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের এক সদস্য দৈনিক আকাশকে জানান, মনোনয়ন ফরম কেনা নেতাদের বদলে অন্যকে প্রার্থী ঘোষণার ইতিহাস আছে। সবই ঠিক হবে রবিবারের বৈঠকে।
দলের প্রার্থী বাছাইয়ের আগের দিন শনিবার খালেক দৈনিক আকাশকে একই কথা বলে একটি যদির বিষয়টিও সামনে এনেছেন। তিনি বলেন, ‘খুলনা সিটি করপোরশন নির্বাচনে অংশ নেয়ার আমার কোনো আগ্রহ নেই। তবে আমাকে যদি দলের প্রয়োজনে আমার নেত্রী (শেখ হাসিনা) বলেন সেটা আলাদা বিষয়।’
তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘আমারা পার্টির নেত্রী (শেখ হাসিনা), তিনি সংসদের নেত্রী। আমি সংসদ সদস্য উনি (শেখ হাসিনা) নির্দেশ না দিলে কোনো অবস্থায় আমি নমিনেশন পেপার নিতে পারব না। দলেরটাও নেব না, অন্যটা তো প্রশ্নই আসে না।’
আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, খালেককে ভোটে রাজি করতে তার আসনে উপনির্বাচনে তার স্ত্রী হাবিবুন নাহারকে আবারও এই আসনে মনোনয়ন দেয়ার চিন্তা আছে ক্ষমতাসীন দলে।
২০০৮ সালে খুলনার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ওই বছরই সংসদ নির্বাচন করায় আইনি বাধা ছিল খালেকের। তখন তার বদলে হাবিবুন নাহারকে রামপাল-মংলা আসনে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। তবে ২০১৩ সালে খুলনায় হেরে যাওয়ার পর ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে খালেককেই বাগেরহাট-৩ আসনে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়।
২০১৩ সালের খুলনা সিটি করপোরেশন বিএনপির মনিরুজ্জামান মনির কাছে ৬০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে হেরে যান খালেক।
এর আগে তালুকদার খালেক দৃশ্যমান উন্নয়ন করলেও অভাবনীয় হারের পর এক রকম অভিমানে সিটি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের কোন্দলও খালেকের গতবারের পরাজয়ের কারণ হিসেবে দেখা হয়। যদিও এবার সে কোন্দল মিটে গেছে বলেই জানিয়েছেন খুলনার নেতারা।
এই আসনে মোট ছয়জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। তারা হলেন: সরদার আনিসুর রহমান, কাজী এনায়েত হোসেন, সাইফুল ইসলাম, শহিদুল হক মিন্টু, শেখ সৈয়দ আলী ও শেখ মোশাররফ হোসেন।
খুলনায় কে পাচ্ছেন নৌকা? জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘এখানে আমাদের মতামত দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড তৃণমূল থেকে পাঠানো নাম নিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করে যোগ্য ব্যক্তিকেই মনোনয়ন দেবে।’
‘দল যাকেই মনোনয়ন দেবে তাকে বিজয়ী করতে আমরা আমাদের সাংঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করব।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















