আকাশ বিনোদন ডেস্ক :
প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের বিখ্যাত চরিত্র মিসির আলী। যুক্তির পাহাড় নিয়ে যার অন্তহীন পথচলা। মিসির আলী মনে করেন, পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে তার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো না কোনো যুক্তি রয়েছে।
প্রকৃতি রহস্য পছন্দ করে না। ঠিক এ চরিত্রটিই নিজের মধ্যে ধারণ করার চেষ্টা করছেন জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ‘দেবী’ নিয়ে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র। এ চলচ্চিত্রে মিসির আলী চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। এ ছবি ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে তারাঝিলমিলের সঙ্গে কথা বলেছেন এ অভিনেতা
মধ্য বয়সী একজন মানুষ। নিঃসঙ্গ, হৃদয়বান এবং তীক্ষ্ণ বুদ্ধির অধিকারী। প্রচণ্ড যুক্তিনির্ভর মনোবিজ্ঞানের শিক্ষক মিসির আলী। নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদের পছন্দের একজন মানুষ তিনি।
পড়ন্ত এক বিকালে এই মিসির আলীর দেখা মেলে রাজধানীর উত্তরায়। কিন্তু মিসির আলী যে এখানে অন্যরকম। পাঠক, হুমায়ূন আহমেদের সেই মিসির আলীর চরিত্র রূপদানকারী চঞ্চল চৌধুরী পুরোই বিপরীত এখানে। কারণ এখানে তিনি একটি নাটকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।
সম্প্রতি হুমায়ূন আহমেদের ‘দেবী’ উপন্যাস নিয়ে অনম বিশ্বাস সিনেমা নির্মাণ করেছেন। আর এই সিনেমায় প্রথমবারের মতো জনপ্রিয় চরিত্র মিসির আলী হয়েছেন চঞ্চল। শুটিংয়ের ফাঁকে হঠাৎ বৈকালিক আড্ডায় নতুন মিসির আলী হয়ে ধরা দেন চঞ্চল চৌধুরী।
প্রসঙ্গক্রমে কথার পিঠে কথার শুরুতেই সেই মিসির আলীতে প্রবেশ করেন তিনি। পুরো অবয়বে কল্পনার সেই বিখ্যাত চরিত্রটিতে ফিরে যান চঞ্চল। ক্লান্তি ভুলে সরব হয়ে ওঠেন। ছোট পর্দা থেকে মিসির আলীকে এবার দেখা যাবে বড় পর্দায় বড় আয়োজনে।
মিসির আলীর ভক্তরাও উদগ্রীব হয়ে আছেন সেই রহস্য পুরুষকে বড় পর্দায় দেখার জন্য। তাই নতুন এই মিসির আলীও বেশ চিন্তায় আছেন যে, দর্শক তাকে কীভাবে গ্রহণ করবেন কিংবা তাদের প্রত্যাশার কতটুকু পূরণ করবেন। দর্শকের প্রত্যাশা এবং নিজের অভিনয় নিয়ে সারাক্ষণ তাই চুলচেরা হিসাব কষে যাচ্ছেন চঞ্চল।
তিনি বলেন, ‘বহুল জনপ্রিয় চরিত্রগুলো যখন ভিজ্যুয়াল মিডিয়ায় আনা হয়, তখন ঝুঁকি একটু বেশিই থাকে। হুমায়ূন আহমেদের দেবী উপন্যাসটি অনেক জনপ্রিয়। বাংলাদেশের অসংখ্য পাঠক মিসির আলীকে চেনেন। নানা কারণেই এ চরিত্রটি তাই আমার কাছে চ্যালেজ্ঞিং মনে হয়েছে।’
নিজের অভিনয় নিয়ে নিজেই এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপে আছেন চঞ্চল। কারণ এর আগের প্রায় সবক’টি সিনেমায় দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছেন তিনি। আগের চরিত্রগুলো সম্পর্কে দর্শক আগে থেকেই কোনো ধারণা পাননি। কিন্তু এবারেরটা একবারেই ভিন্ন।
এ প্রসঙ্গে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘আয়নাবাজি মুক্তির পর থেকেই আমার প্রতি এক ধরনের চাপ ছিল যে, ওই চরিত্রটাকে অতিক্রম করতে হবে। পরিচালক পূর্ব পরিচিত। জয়া আহসানের প্রযোজনা। দেবী দর্শকের কাছে সমাদৃত। এসব কারণে দেবী ছবিতে অভিনয় করি।’
এর আগে নাটকে আবুল খায়ের, আবুল হায়াত, আশীষ খন্দকারসহ অনেকেই মিসির আলী চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সেগুলো সম্পর্কে একটি ধারণা ছিল চঞ্চলের। তবে তাদের অভিনয় দেখেননি তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাদের অভিনয় দেখলে চিন্তায় একটি আদল তৈরি হয়ে যেত।
তাই আমি নিজে নিজেই মিসির আলীকে নিয়ে ভেবেছি। পরিচালকের সঙ্গে এই চরিত্রটি নিয়ে বারবার কথা বলেছি।’ শুটিং শুরুর দিকে একদিন শুধু মিসির আলীকে নানা অবয়বে ফ্রেমবন্দি করেছেন পরিচালক। ৬০ থেকে ৭০টি চশমা ব্যবহার করেছেন চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তুলতে।
পরিচালক একডজন গেটআপে মিসির আলীকে উপস্থাপন করেছেন। এ প্রসঙ্গে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘মিসির আলীর জন্য আমাকে নতুন একটি লুকে দেখা যাবে সিনেমার পর্দায়।’ মিসির আলী হয়ে অভিনয়ের পর থেকে কল্পনা আর বাস্তবের সংমিশ্রণে এক নতুন মাত্রা খেলা করছে চঞ্চলের মনোজগতে। ছবিটি মুক্তি পাবে এ বছর। ততদিন পর্যন্ত অপ্রকাশিত মিসির আলী হয়েই থাকতে হবে চঞ্চলকে।
তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় ‘রূপকথার গল্প’ দিয়ে সিনেমার যাত্রা শুরু করেছিলেন চঞ্চল। এরপর নির্দিষ্ট বিরতিতে তিনি অভিনয় করেন গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘মনপুরা’, গৌতম ঘোষের ‘মনের মানুষ’, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘টেলিভিশন’ এবং অমিতাভ রেজা চৌধুরীর ‘আয়নাবাজি’ সিনেমায়।
এ মাধ্যমে অভিনয় করার পরিকল্পনা তিনি নিজের মতো করে সাজিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাকে প্রত্যেক বছর একাধিক সিনেমায় অভিনয় করতে হবে, এমন নয়। ভালো গল্পের সিনেমার জন্য অপেক্ষা করতে চাই। দেবীর পর গোলাম সোহরাব দোদুলের একটি সিনেমায় অভিনয় করব।
ছবিটির নাম চূড়ান্ত না হলেও গল্প চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী জুলাই মাস থেকে শুটিংয়ে অংশ নেব। সবকিছু ঠিক থাকলে এ ছবিতেও দর্শক ভিন্ন এক চঞ্চল চৌধুরীকে দেখতে পাবেন।’
সিনেমার এই ব্যস্ততা সত্ত্বেও নাটকে কিন্তু বিরতিহীনভাবে অভিনয় করে যাচ্ছেন চঞ্চল চৌধুরী। তার অভিনীত একাধিক ধারাবাহিক নাটক প্রচার হচ্ছে টেলিভিশনে। আসছে ঈদের জন্যও প্রায় একডজনের বেশি নাটকে অভিনয় করবেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে চঞ্চল বলেন, ‘সিনেমার মতো নাটকেও আমি গল্প এবং চরিত্রকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করি। আগামী ঈদে একগুচ্ছ নাটকে অভিনয়ের প্রস্তুতি চলছে। আমার দর্শককে বিবেচনায় রেখেই আমি কাজ করি।’ নাটক সিনেমার জনপ্রিয় এই অভিনেতার অভিনয় জীবন শুরু হয়েছিল মঞ্চ নাটকের মাধ্যমে।
ক্যামেরার সামনে আসার পর থেকে মঞ্চে তেমন সময় দিতে না পারলেও গানে উপস্থিতি দেখেছেন চঞ্চল ভক্তরা। এখানেও প্রশংসিত তিনি। এ প্রসঙ্গে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘শ্রোতাপ্রিয়তার জন্য আমি গান করি না। আমি তো অভিনেতা। আমার নিজস্ব দর্শক আছে।
শখের বশে কয়েকটা অ্যালবামে গান করেছি। তবে গানের কোনো শিক্ষা নাই আমার। তাই গান নিয়ে কোনো পরিকল্পনাও নেই।’ বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী চঞ্চল চৌধুরী এগিয়ে যাচ্ছেন আপন গতিতে। সম্প্রতি ২০১৬ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জয় করেন তিনি।
সব মিলিয়ে তার বৃহস্পতি এখন তুঙ্গে। পথচলায় নতুন সংযোজনে রঙিন হয়ে উঠুক চঞ্চল চৌধুরীর জীবন- এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























