ঢাকা ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করলে ইরান খুব ভালো থাকবে: ট্রাম্প উপজেলা পরিষদে কক্ষ বরাদ্দ পাচ্ছেন সংসদ সদস্যরা, সংসদে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মা হারা কন্যার বিয়েতে গাজীপুরের ডিসি, আবেগাপ্লুত হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে মৌলভীবাজারের যুবক নিহত স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কর্তন করে হাসপাতালে স্ত্রী সংসদে গাড়ি চাইলেন হাসনাত, জামায়াত আমির বললেন, ছোটদের ‘না’ বলতে নেই অনলাইন ভ্যাট রিটার্নে অনিয়ম পেলেই ব্যবস্থা : এনবিআর চেয়ারম্যান ৪ ঘণ্টা পর জামিন পেলেন বাচ্চাসহ কারাগারে পাঠানো সেই মহিলা লীগ নেত্রী সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

এক মাসের মধ্যে সুদের হার কমাতে প্রতিশ্রুতি ব্যাংকারদের: অর্থমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ব্যাংকঋণের সুদের হার এক মাসের মধ্যে একক অংকে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্যাংকাররা। রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদে অর্থ (আমানত) নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ দিচ্ছে। এটা ব্যাংক খাতের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এ জায়গা থেকে বের হয়ে আসার জন্য ক্যাপিটাল মার্কেট সৃষ্টি করতে হবে। আমি ঠিক করেছি আগামী ২-১ মাসের মধ্যে ছোট একটি গ্রুপকে দায়িত্ব দেবো। যারা ক্যাপিটাল মার্কেট শক্তিশালী করবে বা ক্যাপিটাল মার্কেট গড়ে তুলবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের বছরে অনেকেই অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কথা বলেন। কিন্তু অস্থিতিশীল কিছু হওয়ার মতো আমি দেখি না। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো রয়েছে। দেশের চলতি অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি সাড়ে সাত শতাংশ হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সুদের হার বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, কী কারণে সুদের হার বাড়লো তা নিয়ে আমি নিজেও সংশয়ে আছি। এখন ব্যাংকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারল্য সংকট বেড়ে গেছে। এ কারণে সুদের হার বাড়তে পারে। তবে মনে রাখতে হবে নির্বাচনের বছর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতের ৫০ শতাংশ সরকারি ব্যাংকে এবং বাকি ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা হবে।

তিনি বলেন, প্রত্যেক সরকারি চাকরিজীবীর সেবা দেওয়ার মনোভাব থাকা উচিত। সরকারি চাকরি হুকুম দেওয়ার জন্য নয়, জনগণকে সেবা দেয়ার জন্য।

তিনি আরও বলেন, এবিআর পদ্ধতি ব্যবহার করে ব্যাংকের দায়ের করা মামলার জট কমানোর সুযোগ আছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ আদায় বাড়বে। যারা ঋণখেলাপি তারাও খেলাপির বদনাম থেকে মুক্তি পাবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবির তার বক্তব্যে বলেন, ব্যাংকের উন্নতির জন্য বড় অর্থের লোন দিতে খুব একটা আগ্রহী না হলেও চলবে। তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি লোন বেশি দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের লোকসানি শাখার সংখ্যা কমিয়ে নিতে একটি অ্যাকশন প্লান নিতে হবে। অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। গভর্ন্যান্স ইস্যু আরও জোরদার করতে হবে।

এ মাস থেকে জনতা ব্যাংকের পদোন্নতির কার্যক্রম শুরু হবে। পরিচালনা পর্ষদের নির্দেশনা ও পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক ব্যক্তিকে সঠিক স্থানে পদায়ন করা হবে বলে অনুষ্ঠানে জানান ব্যাংকটির চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহা।

তিনি আরও বলেন, এ বছর সব মডিউল অনলাইনের আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া এটিএম বুথের সংখ্যা বৃদ্ধি, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং ও কলসেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করলে ইরান খুব ভালো থাকবে: ট্রাম্প

এক মাসের মধ্যে সুদের হার কমাতে প্রতিশ্রুতি ব্যাংকারদের: অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:৪৫:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ব্যাংকঋণের সুদের হার এক মাসের মধ্যে একক অংকে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্যাংকাররা। রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদে অর্থ (আমানত) নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ দিচ্ছে। এটা ব্যাংক খাতের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এ জায়গা থেকে বের হয়ে আসার জন্য ক্যাপিটাল মার্কেট সৃষ্টি করতে হবে। আমি ঠিক করেছি আগামী ২-১ মাসের মধ্যে ছোট একটি গ্রুপকে দায়িত্ব দেবো। যারা ক্যাপিটাল মার্কেট শক্তিশালী করবে বা ক্যাপিটাল মার্কেট গড়ে তুলবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের বছরে অনেকেই অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কথা বলেন। কিন্তু অস্থিতিশীল কিছু হওয়ার মতো আমি দেখি না। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো রয়েছে। দেশের চলতি অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি সাড়ে সাত শতাংশ হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সুদের হার বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, কী কারণে সুদের হার বাড়লো তা নিয়ে আমি নিজেও সংশয়ে আছি। এখন ব্যাংকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারল্য সংকট বেড়ে গেছে। এ কারণে সুদের হার বাড়তে পারে। তবে মনে রাখতে হবে নির্বাচনের বছর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতের ৫০ শতাংশ সরকারি ব্যাংকে এবং বাকি ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা হবে।

তিনি বলেন, প্রত্যেক সরকারি চাকরিজীবীর সেবা দেওয়ার মনোভাব থাকা উচিত। সরকারি চাকরি হুকুম দেওয়ার জন্য নয়, জনগণকে সেবা দেয়ার জন্য।

তিনি আরও বলেন, এবিআর পদ্ধতি ব্যবহার করে ব্যাংকের দায়ের করা মামলার জট কমানোর সুযোগ আছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ আদায় বাড়বে। যারা ঋণখেলাপি তারাও খেলাপির বদনাম থেকে মুক্তি পাবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবির তার বক্তব্যে বলেন, ব্যাংকের উন্নতির জন্য বড় অর্থের লোন দিতে খুব একটা আগ্রহী না হলেও চলবে। তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি লোন বেশি দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের লোকসানি শাখার সংখ্যা কমিয়ে নিতে একটি অ্যাকশন প্লান নিতে হবে। অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। গভর্ন্যান্স ইস্যু আরও জোরদার করতে হবে।

এ মাস থেকে জনতা ব্যাংকের পদোন্নতির কার্যক্রম শুরু হবে। পরিচালনা পর্ষদের নির্দেশনা ও পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক ব্যক্তিকে সঠিক স্থানে পদায়ন করা হবে বলে অনুষ্ঠানে জানান ব্যাংকটির চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহা।

তিনি আরও বলেন, এ বছর সব মডিউল অনলাইনের আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া এটিএম বুথের সংখ্যা বৃদ্ধি, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং ও কলসেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।