ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে: জাইমা রহমান চাকরির ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখা উচিত : আমীর খসরু ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রেকেও খেসারত দিতে হবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ভুয়া জরিপ ও মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে রাজনৈতিক ইতিহাস বদলানো যাবে না : দুদু গণ-অভ্যুত্থানের নিষ্ঠুরতম খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে : তাজুল ইসলাম এক্সপেকটেশন যদি ১০ থাকে, অন্তত চার তো অর্জন করতে পেরেছি : আসিফ নজরুল

ওয়াহাবিবাদ বিস্তারে অর্থায়নের কথা স্বীকার প্রিন্স সালমানের

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে কট্টরপস্থী ওয়াহাবি মতবাদ বিস্তারে সৌদি আরব যে অর্থায়ন করত তা স্বীকার করেছেন দেশটির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি বলেছেন, শীতল যুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নকে মোকাবেলায় পশ্চিমা দেশগুলোর অনুরোধে সৌদি আরব বিভিন্ন মুসলিম দেশে ওয়াহাবি মতবাদ বিস্তারে অর্থায়ন করেছে।

সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি সিংহাসনের উত্তরসূরি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এসব তথ্য জানান। গত ২২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র সফরের শেষ দিনে মোহাম্মদ বিন সালমান ৭৫ মিনিটের এই সাক্ষাৎকার দেন।

সাক্ষাতকারে প্রিন্স সালমান বলেন, ‘পশ্চিমা মিত্ররা সৌদি আরবকে শীতল যুদ্ধের সময় বিভিন্ন দেশের মসজিদ ও মাদরাসায় তহবিল সরবরাহে অনুরোধ করেছিল। এর লক্ষ্য ছিল মুসলিম দেশগুলোতে যাতে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রবেশ করতে না পারে, তার জন্যাই এমনটা করতে বলা হয়েছিল।’

পরবর্তীকালে সৌদি সরকারগুলো সেই ধারা থেকে বিচ্যুত হয়েছে উল্লেখ করে সালমান আরো বলেন, ‘আগের সে ধারায় ফিরে আসা উচিত ছিল। বর্তমানে সৌদি সরকার সেই তহবিল সরাসরি না দিয়ে বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দেয়ার ব্যবস্থা করছে।’

হোয়াইট হাউসের সিনিয়র উপদেষ্টা ও ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার পকেটে থাকে, সম্প্রতি সালমানের এ ধরণের যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা নিয়েও সাক্ষাতকারে কথা বলেন তিনি। ২০১৭ সালের অক্টোবরে রিয়াদে তিনি যখন জারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন, তখন দুর্নীতির অভিযোগে ব্যাপক ধরপাকড়ের জন্য তার কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেয়েছিলেন। তবে সাক্ষাতকারে ওই ধরপাকড় পুরোটা অভ্যন্তরীণ বিষয় দাবি করে সেটা খারিজ দেন তিনি।

কুশনারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, স্বাভাবিক সরকারি কার্যক্রমের প্রসঙ্গে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তবে অংশিদারত্বের চেয়ে বন্ধুত্বসুলভ বেশি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সসহ হোয়াইট হাউসের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তার (সালমান) সম্পর্ক রয়েছে বলে ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ওয়াহাবি মতবাদ সৌদি আরবে উদ্ভ’ত এক কট্টরপন্থী মতাদর্শ। এর আরেক নাম সালাফিজম। বলা হয়ে থাকে বৃটিশদের প্ররোচনায় কট্টরপন্থী এ মতবাদ প্রতিষ্ঠা করা হয়। সৌদি আরবের শাসকগোষ্ঠী এ মতাদর্শের অনুসারী। সুন্নি নামের আড়ালে এরা মুসলিমদের মধ্যে বিভিন্ন গোঁড়া পন্থা ঢুকানোর চেষ্টা করে। মধ্যপ্রাচ্যের আলোচিত আইএস এ মতবাদ দ্বারা চালিত বলে দাবি করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন মুসলিম দেশে ইসলামের নাম ভাঙিয়ে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন ওয়াহাবি মতাদর্শ দ্বারা চালিত বলে দাবি করে থাকেন বিশ্লেষকগণ। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরায় নিরাপত্তাকর্মীকে পিটিয়ে অস্ত্র ছিনতাই-অপহরণ

ওয়াহাবিবাদ বিস্তারে অর্থায়নের কথা স্বীকার প্রিন্স সালমানের

আপডেট সময় ১০:১১:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মার্চ ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে কট্টরপস্থী ওয়াহাবি মতবাদ বিস্তারে সৌদি আরব যে অর্থায়ন করত তা স্বীকার করেছেন দেশটির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি বলেছেন, শীতল যুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নকে মোকাবেলায় পশ্চিমা দেশগুলোর অনুরোধে সৌদি আরব বিভিন্ন মুসলিম দেশে ওয়াহাবি মতবাদ বিস্তারে অর্থায়ন করেছে।

সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি সিংহাসনের উত্তরসূরি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এসব তথ্য জানান। গত ২২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র সফরের শেষ দিনে মোহাম্মদ বিন সালমান ৭৫ মিনিটের এই সাক্ষাৎকার দেন।

সাক্ষাতকারে প্রিন্স সালমান বলেন, ‘পশ্চিমা মিত্ররা সৌদি আরবকে শীতল যুদ্ধের সময় বিভিন্ন দেশের মসজিদ ও মাদরাসায় তহবিল সরবরাহে অনুরোধ করেছিল। এর লক্ষ্য ছিল মুসলিম দেশগুলোতে যাতে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রবেশ করতে না পারে, তার জন্যাই এমনটা করতে বলা হয়েছিল।’

পরবর্তীকালে সৌদি সরকারগুলো সেই ধারা থেকে বিচ্যুত হয়েছে উল্লেখ করে সালমান আরো বলেন, ‘আগের সে ধারায় ফিরে আসা উচিত ছিল। বর্তমানে সৌদি সরকার সেই তহবিল সরাসরি না দিয়ে বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দেয়ার ব্যবস্থা করছে।’

হোয়াইট হাউসের সিনিয়র উপদেষ্টা ও ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার পকেটে থাকে, সম্প্রতি সালমানের এ ধরণের যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা নিয়েও সাক্ষাতকারে কথা বলেন তিনি। ২০১৭ সালের অক্টোবরে রিয়াদে তিনি যখন জারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন, তখন দুর্নীতির অভিযোগে ব্যাপক ধরপাকড়ের জন্য তার কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেয়েছিলেন। তবে সাক্ষাতকারে ওই ধরপাকড় পুরোটা অভ্যন্তরীণ বিষয় দাবি করে সেটা খারিজ দেন তিনি।

কুশনারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, স্বাভাবিক সরকারি কার্যক্রমের প্রসঙ্গে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তবে অংশিদারত্বের চেয়ে বন্ধুত্বসুলভ বেশি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সসহ হোয়াইট হাউসের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তার (সালমান) সম্পর্ক রয়েছে বলে ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ওয়াহাবি মতবাদ সৌদি আরবে উদ্ভ’ত এক কট্টরপন্থী মতাদর্শ। এর আরেক নাম সালাফিজম। বলা হয়ে থাকে বৃটিশদের প্ররোচনায় কট্টরপন্থী এ মতবাদ প্রতিষ্ঠা করা হয়। সৌদি আরবের শাসকগোষ্ঠী এ মতাদর্শের অনুসারী। সুন্নি নামের আড়ালে এরা মুসলিমদের মধ্যে বিভিন্ন গোঁড়া পন্থা ঢুকানোর চেষ্টা করে। মধ্যপ্রাচ্যের আলোচিত আইএস এ মতবাদ দ্বারা চালিত বলে দাবি করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন মুসলিম দেশে ইসলামের নাম ভাঙিয়ে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন ওয়াহাবি মতাদর্শ দ্বারা চালিত বলে দাবি করে থাকেন বিশ্লেষকগণ। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট