অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
আইডিয়াল কলেজের আবাসিক হোস্টেলে জন্মদিনের কেক কাটায় চার ছাত্রকে লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে হোস্টেল সুপারের বিরুদ্ধে।
তবে কলেজের অধ্যক্ষের দাবি, শিক্ষার্থীরা বেশি মাত্রায় বাদরামো করায় তাদেরকে চড় ধাপ্পর দেয়া হয়েছে। যদিও শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে পুরো ঘটনাটিই তুলে ধরেছেন। এতে অধ্যক্ষের দাবির সঙ্গে কোনো মিল নেই।
একজন ছাত্র এই হোস্টেলটিকে কারাগারের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, তাদের জীবনের সেরা ভুল এখানে থাকা। এখানে কথায় কথায় নির্াতন চলে বলেও অভিযোগ ওই ছাত্রের।
২৭ মার্চ বিকালে এই ঘটনা ঘটে। আহত ওই ছাত্রদের আগামী এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।
কিন্তু পিটুনিতে হাতে ব্যথা পাওয়ায় শাহরিয়ার নিবিড় ও ইফতি মুন্সির পরীক্ষায় অংশ নেয়া অনিশ্চত হয়ে পড়েছে। তবে আহত বাকি দুই ছাত্রের নাম জানা যায়নি।
লাবলু রহমান নামে এক শিক্ষার্থী দৈনিক আকাশকে জানান, এইচএসসি পরীক্ষার্থী একজনের জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকালে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির কয়েকজন ছাত্র কেক কাটছিলেন।
এ সময় হোস্টেল সুপার সোহেল রানা সবাইকে লাইনে দাঁড়াতে বলেন। পরে হাতে থাকা লোহার পাইপ দিয়ে সবাইকে বেধড়ক পোটান।
এ সময় শাহরিয়ার নিবিড় ও ইফতি মুন্সির হাত ফেটে রক্ত বের হতে থাকে। বাকিদের পা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফুলে যায়। কয়েকজনের হাতে পায়ে কালশিটে দাগ পড়ে গেছে।
এ ছাড়া নখ দিয়ে আচড় দেয়ায় মুখ, কানের কাছে কেটে গেছে কারও কারও।
হোস্টেল সুপার সোহেল রানা কলেজের পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের শিক্ষক। অভিযোগ পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন একজন শিক্ষক।
জুবায়ের নামে আইডিয়াল কলেজের এক শিক্ষার্থী তার ফেসবুকে লিখেন, ‘আমাদের পরিচয়, আমরা আইডিয়াল কলেজ জেলখানার আসামি। আমাদের জীবনে সবচেয়ে বড় ভুল আমরা কলেজ হোস্টেলে থাকি। আমাদের এভাবে মেরে রক্তাক্ত করার পেছনে কারণ হচ্ছে একজনের বার্থডে (জন্মদিন) সেলিব্রেশন (উদযাপন) করা।’
জওবায়ের লেখেন, ‘সোহেল স্যার, কাজটা আপনি ঠিক করেন নাই। আমরা তো জাস্ট বার্থডে সেলিব্রেশন করছিলাম। এটা প্রথমবার না, এর আগেও অনেকবার এই রকম ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এবারেরটা মাত্রাতিরিক্ত হইছে।’
‘এই কর্মে সোহেল স্যারের সহযোগী আনোয়ার মোল্লা। যিনি স্যারকে বাধা না দিয়ে আরও উৎসাহ দেন এবং তিনি মোবাইলে ভিডিও করেন। স্যার আমাদের আরও অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। আমাদের এই অবস্থা করার পর আবার আমাদের দিয়ে রুম, বারান্দা, রুমের সামনে ফাঁকা অংশ পরিষ্কার করিয়ে নেন।’
‘আমাদের যখন শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল তখন আমরা স্যারকে কোনও ব্যবস্থা নিতে বললে তিনি আমাদের সাহায্য করার বদলে আবার মারধর শুরু করেন। এখন আপনারাই বলুন এটা কেমন শিক্ষক আর কেমনই বা হোস্টেল?’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ জসিম উদ্দীন বলেন, ‘বাচ্চারা প্রায় এমন জন্মদিন পালন করে। কিন্তু মাঝে মাঝে একটু বেশি বাদরামো করে। ওইদিন একটু বেশি করছিল। ডিম ও আটা-ময়দা ছুড়াছুড়ি করছিল। এজন্য সোহেল তাদের একটু চড়-থাপ্পড় দিয়েছে। তারপর অবশ্য আমি ছাত্রদের ডেকে শিক্ষকের সঙ্গে মিলমিশ করিয়ে দিয়েছি।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























