অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
জাতীয় নির্বাচনের আগে পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সরকার এবং আগামী নির্বাচনের জন্য পরীক্ষা হবে। শহরের ভোটাররাই গ্রামীণ ভোটারদের প্রভাবিত করে। কাজেই এই পাঁচ শহরে ভোটের ফলাফলে অনেক কিছুরই ইঙ্গিত মিলবে।
মঙ্গলবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন নিউজ টোয়েন্টিফোরে ‘জনতন্ত্র, গণতন্ত্র’ শিরোনামে টক শোতে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন আলোচকরা।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন, সাবেক স্থানীয় সরকার সচিব আবু আলম শহিদ খান এবং নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থা ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান এসে অংশ নেন।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলো ধাপে ধাপে হবে, দুই ধাপে হবে। এই নির্বাচনে দুই ধরনের তাৎপর্য হবে।
‘যদি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয় তবে সেখানে কনটেস্ট হবে। সেখানে অন্য কোনো দল খুব একটা কনটেস্ট করতে পাবে বলে মনে হয় না।’
সাখাওয়াত বলেন, রংপুরে এরশাদের জাতীয় পার্টির পকেট ভোটের কারণে জিতেছে। আর গত নির্বাচনে গাজীপুরসহ বেশ কয়েকটিতে বিএনপি ভালো করেছে। সেখানে একটা কনটেস্ট হবে, সেই জায়গাটাতে কে কোন পার্টি সাপোর্ট করবে। ভোটের ব্যাপারটা আরবান ভোটাররা অনেক সময় বিবেচনা করতে পারে।’
সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, আরবান ভোটাররা একটা ইনডিকেটর হয় অনেক সময়। অন্যান্য দেশে যেটা হয়, গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা সব সময় থাকে। দুটা চারটা ইলেকশনে কিন্তু সরকারের অবস্থানটা বোঝা যায়, কোথায় আছে। সেগুলোতো আমাদের দেশে নেই। এখানে আমাদের মোটামুটি ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন হলো সবার সামনে। কিন্তু রুরাল এরিয়াতে সেটা করা সম্ভব নয়।
সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান বলেন, সিটি করপোরেশনে ভোট গতবারও জাতীয় নির্বাচনের আগেই হয়েছে, এবারও তাই হবে। এ নির্বাচনটা দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, যারা সরকারি দলে আছেন এবং যারা বিরোধী দলে আছেন।
‘সরকারি দলে যারা আছেন তারা এই ভোটটিকে প্রেস্টিজিয়াস ইস্যু হিসেবে নেবে। আর যারা বিরোধী দলে আছেন তারা যদি কোনো কারণে জিতে যান, তখন তারা বলবে সরকার এই সব নির্বাচনে হেরে গেছে। সুতরাং তাদের জনপ্রিয়তা নেই।’
‘সেক্ষেত্রে সরকারকে বাধ্য করা যায় কি না আগাম নির্বাচন দিতে অথবা পদত্যাগ করার দাবি করতে পারে। এটা আমাদের দেশে সাইকোলজিক্যাল চলে আসছে। তবে এটা সত্য কথা যে রাষ্ট্র ক্ষমতার পরিবর্তন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
আবু আলম বলেন, ‘এই নির্বাচনটা কিন্তু বিভাগীয় শহরে, এখান থেকে জাতীয় নির্বাচনের একটা ধারণা পাওয়া যাবে। শহরের ভোটাভুটিতে জনগণ কোন দিকে যাবে এটার একটা পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। শহরের মানুষরাই গ্রামে গিয়ে এটাকে প্রমোট করে।’
সাবেক এই সচিব বলেন, ‘সরকার উত্তর সিটি নির্বাচনে মিনিম্যাম রিস্কও তো নিতে চায় নাই। নির্বাচন আটকে দেওয়া যায়, এটা দেশের আইনের একটি দুর্বলতা। এই দুর্বলতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’
নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থা ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান বলেন, ‘পাঁচটা সিটি নির্বাচন আমাদের সামনে আছে। আমি যতটা ভাবছি যে, সিটি করপোরেশনের এই নির্বাচনটা কেমন করে করে। সেটা কিন্তু আমাদের দেখবার বিষয় আছে। স্থানীয় নির্বাচন এবং জাতীয় নির্বাচন প্রাকৃতিকভাবে আলাদা চরিত্র। এই নির্বাচনে তো সরকার বদল হবে না, শুধু ব্যক্তি বদল হবে।’
‘অনেক সময় সরকারের একটা স্বদিচ্ছা থাকে, ইলেকশনটা কীভাবে করব। সরকারকে প্রমাণ করতে হবে তাদের সদিচ্ছা। তখন জনগণের মনে প্রশ্ন থাকবে না। ইলেকশনটা কেমন হবে আমাদের। এবার ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন হবে?’।
‘সরকার মনে করে যেমন করেই হোক আমাদের জিততেই হবে। বিরোধী দলও মনে করে যেমন করেই হোক জিততে হবে। এই মানসিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’
‘আমার মনে হয় দুপক্ষই এবার আর ছাড় দেবে না। এবারে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে একটা ভালো নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু এবার ইলেকশন কমিশনে বলুক, পার্টি অফিসেই বলুক, সবখানে একটা গ্রহণযোগ্যতা গড়ে তুলতে হবে।’
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সিটি নির্বাচন টেস্ট কেস হিসেবে নিয়েছে অনেকে। আমি তাদেরক বলব এই নির্বাচন ক্ষমতার পরিবর্তনের ব্যাপার না। নির্বাচন হবে ২০১৪ সালের আগে যেভাবে হয়েছিল, গাজীপুরে যেটা হয়েছিল। আমাদের নিজেদের মতো করে হলেও একটা ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচন হয়েছিল, আর ওটা কিন্তু একধরনের টেস্ট কেস ছিল।’
‘স্থানীয় অঞ্চলের রাজনীতি নিয়ে আবু আলম যা বললেন তা খুবই সত্যি। কারণ গ্রামাঞ্চলে ওপেনিং ফর্মটা ওইভাবে হয় না। ওপেনিং ফর্মটা শহরেই হয়, এই ঢাকাতে টক শো করছি, সেমিনার হচ্ছে, সবকিছু এখানেই হচ্ছে।’
‘ওই শহরগুলোতে কিন্তু নানান রকমের একটিভিটি হয়, সেখানে গিয়ে দেখবেন যে ইলেকশন নিয়ে কথা হচ্ছে।’
‘নির্বাচন এসে বিএনপি দাবি করে ষোল কোটি লোক আমার, আওয়ামী লীগ দাবি করে সবাই আমার’- দর্শকের এমন প্রশ্নের জবাবে আবু আলম বলেন, ‘এটা পলিটিক্যাল পার্টির কথা, তারা সব সময় ভাবতে চেষ্টা করে যে দেশের সকল জনগণ তাদের সঙ্গে আছে। ঠিক ষোল কোটি মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে, এটা বলাটা বোধ হয় ঠিক হবে না। শাসকদলও মনে করেন বিরোধী দলও মনে করেন জনগণ তাদের সঙ্গে আছে।’
সাবেক সচিব বলেন, ‘গতবার (পাঁচ সিটি নির্বাচন) সরকারে আওয়ামী লীগই ছিল, সরকার প্রমাণ করতে চেয়েছিল এই নির্বাচন কমিশন নির্বাচন কতটা ভালো নির্বাচন করতে পারে।’
‘এটা সরকারের জন্য টেস্ট কেস যেমন, সে রকম নির্বাচন কমিশনের জন্যও টেস্ট কেস হতে পারে। নির্বাচন কমিশনকে মনে রাখতে হবে তাদেরকে এর পরে অনেক বড় নির্বাচন করতে হবে।’
এই নির্বাচন কমিশনকে কেমন করছে-এমন প্রশ্নে আবু আলম বলেন, ‘রংপুরে যে ভোট হয়েছে, সেটা ফেয়ার ছিল, শাসক দলের প্রার্থীকে প্রায় লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে। যদিও জাতীয় পার্টির এলাকায়, ওটা জাতীয় পার্টির পকেট এরিয়া।’
‘তবে নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী হওয়া দরকার।… আমি নির্বাচন কমিশনকে বলব, একটা ভালো নির্বাচন করার জন্য যে ধরনের পরিবেশ দরকার সেটা করতে হবে। এখন নির্বাচন কমিশন একা একা করতে পারে না, এটা আরা জানি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনতো ভোটের সময় লিড রোলে থাকবেন।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























