ঢাকা ০১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৃত্যু নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন মুহাম্মদ ইউনূস থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়ল ক্রেন, নিহত ২২ জাস্টিস ফর হাদি, ইনশাআল্লাহ : মির্জা ফখরুল আলমগীর টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান

কখনও রাত নামে না যে গ্রহে

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

এ গ্রহটিকে বলা হয় ‘ট্যাটুইন গ্রহ’। কিন্তু তার সঙ্গে ‘ট্যাটু’ বা উল্কির কোনো সম্পর্ক নেই। আসলে ‘স্টার ওয়রস’ ছবির নায়ক লিউক স্কাইওয়াকের বাড়ি ছিল ট্যাটুইনে। সেখান থেকেই এই নামকরণ। এ গ্রহের আকাশে দুই সূর্য। একই সঙ্গে দু’দুটি সূর্যকে নিয়মিত প্রদক্ষিণ করে চলে এই গ্রহটি। এর নাম ‘কেপলার-১৬৪৭-বি’।

বছর ছয়েক আগে আশ্চর্য এই ভিন গ্রহটির সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই ভিন গ্রহটি রয়েছে পৃথিবী থেকে ৩ হাজার ৭০০ আলোকবর্ষ দূরে। এ গ্রহটি তার দুটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ১ হাজার ১০৭ দিন। মানে, তিন বছরের একটু বেশি।

সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে যে সময় নেয় পৃথিবী, আবিষ্কৃত এ ভিনগ্রহটি তার দুটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় তার চেয়ে তিন গুণ বেশি। এই ভিন গ্রহটি যে দুটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে তার একটি আমাদের সূর্যের চেয়ে সামান্য বড়। অন্যটি সামান্য ছোট। এই ভিন গ্রহটির বয়স ৪৪০ কোটি বছর। মানে, আমাদের পৃথিবীরই প্রায় সমবয়সী।

আমেরিকার লেহিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী জোশুয়া পেপার এই ভিন গ্রহটির অন্যতম আবিষ্কারক। তবে এ আবিষ্কারে রয়েছেন চার মহাদেশের ১০ দেশের মোট ৪০ বিজ্ঞানী।

সান দিয়েগোয় আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির বৈঠকে এ আবিষ্কারের কথা ঘোষণা করার পর সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্রটি বিজ্ঞান জার্নাল ‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স’-এ ছাপা হয়েছে। এ আবিষ্কার সম্পর্কে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এভিন গ্রহটির ভর ও ব্যাসার্ধ একেবারে আমাদের বৃহস্পতির মতোই।

এবং আকারে বৃহস্পতির মতোই বড়। আর তার পুরোটাই গ্যাসে ভরা। পৃথিবীর মতো পাথুরে গ্রহ এটা নয়। দুটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করা ভিন গ্রহগুলোকে বলা হয় ‘সারকাম-বাইনারি প্ল্যানেট’। তবে এই গ্রহটি রয়েছে তার সূর্যের চেয়ে অনেকটা দূরে। যাকে বলা হয় ‘হ্যাবিটেব্ল জোন’।

যদিও এই গ্রহটিতে প্রাণের সম্ভাবনা কম, সেটি গ্যাসে ভরা বলে। তবে এ গ্রহের যদি বড় কোনো চাঁদ থাকে, যদি তার সন্ধান মেলে কোনোদিন, তাহলে সেই চাঁদে প্রাণের সম্ভাবনা থাকতে পারে। দুই সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে বলে এই গ্রহে সূর্যাস্ত হয় না।

এই গ্রহটি যখন চেহারায় এত বড়, তখন তার অস্তিত্বের প্রমাণ পেতে এত দেরি হল কেন? এর জবাবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এর কারণ হল, গ্রহটি তার দুটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে অনেক বেশি সময় নেয়। আর এদের কক্ষপথও খুব জটিল। তাই সহজে এদের হদিস মেলে না।

তবে এই আবিষ্কারের অভিনবত্বটা হল এখানেই, সূর্যকে এত দীর্ঘ কক্ষপথে প্রদক্ষিণ (লঙ্গেস্ট অরবিটাল পিরিয়ড) করা কোনো ভিন গ্রহের সন্ধান মিলল এই প্রথম। এত বড় ভিন গ্রহ এর আগে পাওয়া যায়নি। এই গ্রহটির আবিষ্কার হয়েছে কিলোডিগ্রি এক্সট্রিমলি লিট্ল টেলিস্কোপের (কেইএলটি) মাধ্যমে। এর দুটি অংশ রয়েছে। একটি আমেরিকার আরিজোনায়। অন্যটি দক্ষিণ আফ্রিকায়।

সূত্র: ইন্টারনেট

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কখনও রাত নামে না যে গ্রহে

আপডেট সময় ১১:৫৮:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মার্চ ২০১৮

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

এ গ্রহটিকে বলা হয় ‘ট্যাটুইন গ্রহ’। কিন্তু তার সঙ্গে ‘ট্যাটু’ বা উল্কির কোনো সম্পর্ক নেই। আসলে ‘স্টার ওয়রস’ ছবির নায়ক লিউক স্কাইওয়াকের বাড়ি ছিল ট্যাটুইনে। সেখান থেকেই এই নামকরণ। এ গ্রহের আকাশে দুই সূর্য। একই সঙ্গে দু’দুটি সূর্যকে নিয়মিত প্রদক্ষিণ করে চলে এই গ্রহটি। এর নাম ‘কেপলার-১৬৪৭-বি’।

বছর ছয়েক আগে আশ্চর্য এই ভিন গ্রহটির সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই ভিন গ্রহটি রয়েছে পৃথিবী থেকে ৩ হাজার ৭০০ আলোকবর্ষ দূরে। এ গ্রহটি তার দুটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ১ হাজার ১০৭ দিন। মানে, তিন বছরের একটু বেশি।

সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে যে সময় নেয় পৃথিবী, আবিষ্কৃত এ ভিনগ্রহটি তার দুটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় তার চেয়ে তিন গুণ বেশি। এই ভিন গ্রহটি যে দুটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে তার একটি আমাদের সূর্যের চেয়ে সামান্য বড়। অন্যটি সামান্য ছোট। এই ভিন গ্রহটির বয়স ৪৪০ কোটি বছর। মানে, আমাদের পৃথিবীরই প্রায় সমবয়সী।

আমেরিকার লেহিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী জোশুয়া পেপার এই ভিন গ্রহটির অন্যতম আবিষ্কারক। তবে এ আবিষ্কারে রয়েছেন চার মহাদেশের ১০ দেশের মোট ৪০ বিজ্ঞানী।

সান দিয়েগোয় আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির বৈঠকে এ আবিষ্কারের কথা ঘোষণা করার পর সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্রটি বিজ্ঞান জার্নাল ‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স’-এ ছাপা হয়েছে। এ আবিষ্কার সম্পর্কে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এভিন গ্রহটির ভর ও ব্যাসার্ধ একেবারে আমাদের বৃহস্পতির মতোই।

এবং আকারে বৃহস্পতির মতোই বড়। আর তার পুরোটাই গ্যাসে ভরা। পৃথিবীর মতো পাথুরে গ্রহ এটা নয়। দুটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করা ভিন গ্রহগুলোকে বলা হয় ‘সারকাম-বাইনারি প্ল্যানেট’। তবে এই গ্রহটি রয়েছে তার সূর্যের চেয়ে অনেকটা দূরে। যাকে বলা হয় ‘হ্যাবিটেব্ল জোন’।

যদিও এই গ্রহটিতে প্রাণের সম্ভাবনা কম, সেটি গ্যাসে ভরা বলে। তবে এ গ্রহের যদি বড় কোনো চাঁদ থাকে, যদি তার সন্ধান মেলে কোনোদিন, তাহলে সেই চাঁদে প্রাণের সম্ভাবনা থাকতে পারে। দুই সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে বলে এই গ্রহে সূর্যাস্ত হয় না।

এই গ্রহটি যখন চেহারায় এত বড়, তখন তার অস্তিত্বের প্রমাণ পেতে এত দেরি হল কেন? এর জবাবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এর কারণ হল, গ্রহটি তার দুটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে অনেক বেশি সময় নেয়। আর এদের কক্ষপথও খুব জটিল। তাই সহজে এদের হদিস মেলে না।

তবে এই আবিষ্কারের অভিনবত্বটা হল এখানেই, সূর্যকে এত দীর্ঘ কক্ষপথে প্রদক্ষিণ (লঙ্গেস্ট অরবিটাল পিরিয়ড) করা কোনো ভিন গ্রহের সন্ধান মিলল এই প্রথম। এত বড় ভিন গ্রহ এর আগে পাওয়া যায়নি। এই গ্রহটির আবিষ্কার হয়েছে কিলোডিগ্রি এক্সট্রিমলি লিট্ল টেলিস্কোপের (কেইএলটি) মাধ্যমে। এর দুটি অংশ রয়েছে। একটি আমেরিকার আরিজোনায়। অন্যটি দক্ষিণ আফ্রিকায়।

সূত্র: ইন্টারনেট