ঢাকা ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

দেশ-বিদেশের যুদ্ধভিত্তিক সিনেমা

আকাশ বিনোদন ডেস্ক: 

ছবি নির্মাণ কেমন হবে তা গল্পই বলে দেয়। দেশে এবং দেশের বাইরে প্রতি মাসে বিষয়ভিত্তিক এবং বৈচিত্র্যময় সিনেমা নির্মিত হয়। মুক্তিযুদ্ধ অথবা যুদ্ধ নিয়েও নির্মিত হয় সিনেমা। বিভিন্ন সময় বিশ্বের নানা প্রান্তে ছোট-বড় অনেক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। অনেক যুদ্ধ চলছে।

আবার ধারণা করা হয় এই বুঝি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হল! যুদ্ধভিত্তিক এ চলচ্চিত্রগুলো ইতিহাসের বিভিন্ন জয়-পরাজয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়, রূপকভাবে দেখিয়ে দেয় অতীতের যুদ্ধে কী ঘটেছিল? চলচ্চিত্রের ইতিহাসে বহির্বিশ্বে নির্মিত বিশ্বখ্যাত ও জনপ্রিয় সেরা ১০ যুদ্ধ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের বিষয় নিয়ে তৈরি হয়েছে এ প্রতিবেদন

অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট : চলচ্চিত্রটি এরিক মারিয়া রেমার্কের বিখ্যাত উপন্যাস ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’ অবলম্বনে ১৯৩০ সালে নির্মিত হয়েছে। পরিচালনা করেছিলেন লেউইস মাইলস্টোন। এটিকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আদর্শ রূপায়ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

যুদ্ধের মূলধারাকে নিষ্ঠার সঙ্গে অনুসরণ করার জন্যই এ চলচ্চিত্র ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছে। অ্যামেরিকান ফিল্ম ইন্সটিটিউট তাদের সর্বকালের সেরা ১০০ মার্কিন চলচ্চিত্রের তালিকায় এটিকে ৫৪ নম্বরে স্থান দিয়েছিল। অবশ্য ২০০৭ সালে নতুনভাবে প্রকাশিত তালিকা থেকে এটি বাদ পড়েছে। পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালে এএফআই ১৫শ’ চলচ্চিত্রপ্রেমীর ভোটাভুটির ভিত্তিতে সেরা ১০টি মার্কিন ক্লাসিক সিনেমার নাম প্রকাশ করে। এ তালিকায় ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’ ৭ নম্বরে স্থান পেয়েছে।

কৃতিত্ব : ছবিটি ১৯৩০ সালে শ্রেষ্ঠ ছবি, শ্রেষ্ঠ পরিচালক ও শ্রেষ্ঠ সিনেম্যাটোগ্রাফি ক্যাটাগরিতে অস্কার জিতে।

রোম, ওপেন সিটি : ১৯৪৪ সালে নাৎসি বাহিনী অধিকৃত রোমের প্রেক্ষাপট বিস্তৃত হয়েছে ১৯৪৬ সালে নির্মিত ‘রোম, ওপেন সিটি’ চলচ্চিত্রে। রোমা, চিত্তা আপের্তা বা রোম, উন্মুক্ত শহর ১৯৪৫ সালের ইতালীয় নাট্য চলচ্চিত্র এটি।

সের্গিও এমিইডি ও আলবার্তো কনসিগলিওর গল্প অবলম্বনে রোবার্তো রোসেলিনি পরিচালিত এ চলচ্চিত্রে অভিনয়ে ছিলেন আলডো ফ্যাবরিজি, আনা মাগনানি, মার্সেলো পাগলিরো ও হ্যারি ফিয়েস্ট। ইংরেজি সাবটাইটেলসহ মুক্তির নাম ছিল ‘ওপেন সিটি’। ইতালীয় নয়া বাস্তববাদের নতুন দিগন্তের সূচনা হয় এ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে।

কৃতিত্ব : কান চলচ্চিত্র উৎসবে গ্র্যান্ড প্রাইজ, ইতালীয় ন্যাশনাল সিন্ডিকেট অব ফিল্ম জার্নালিস্ট থেকে সিলভার রিবনসহ বিভিন্ন পুরস্কার জেতে এ চলচ্চিত্র।

ব্যালাড অব অ্যা সোলজার : ১৯৫৯ সালে নির্মিত গ্রেগরি শুখরাই পরিচালিত ‘ব্যালাড অব আ সোলজার’ ছবির পটভূমি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। কিন্তু আসলে প্রেম। এ প্রেম ছিল তরুণ-তরুণী, দম্পতি এবং মা ও ছেলের। শেষোক্তটিই ব্যাপ্তি পেয়েছে বেশি।

হিটলার আক্রান্ত রাশিয়ার এক যোদ্ধা আলেক্সি দুটো জার্মান ট্যাঙ্ক ধ্বংসের কৃতিত্ব দেখিয়ে ছয় দিনের ছুটি পায়। তার ইচ্ছা মাকে দেখবে আর মায়ের ঘরের চালাটা ঠিক করবে। পরে তাকে ঘিরে ঘটে আরও ভয়াবহ কাহিনী। সোভিয়েত ইউনিয়নের (বর্তমান রাশিয়া) পরিচালক গ্রেগরি চুখরাজ ‘ব্যালাড অব আ সোলজার’ শীর্ষক এ ছবিটি নির্মাণ করেন।

কৃতিত্ব : ১৯৬২ সালে শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যের জন্য ছবিটি অস্কার পুরস্কার লাভ করে।

অ্যাপোক্যালিপস নাও : জোসফে কনরাডরে উপন্যাস হার্ট অব ডার্কনেসের অনুপ্রেরণায় ১৯৭৯ সালে ‘অ্যাপোক্যালিপস নাউ’ ছবিটি বানিয়েছেন ফ্রানসসি ফোর্ড কপুলা। টিএস এলয়িটরে হলোম্যানরে অনুপ্রেরণাও আছে। ১৯৬৯ সালের ভিয়েতনামের প্রেক্ষাপট নিয়েই ছবিটি বানানো হয়। ছবির শেষভাগে মার্লোন ব্র্যান্ডোর যুদ্ধংদেহী উপস্থিতিই বোধহয় ছবিটিকে অমর করে তুলেছে!

কৃতিত্ব : ছবিটি পাঁচটি ক্যাটাগরিতে অস্কার পুরস্কার লাভ করে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করে।

দাস বুট : ‘দাস বুট’ ছবিটি নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা উলফগ্যাং পিটারসেন। মুক্তি পায় ১৯৮১ সালে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘিরে নির্মিত হয় এ ছবি। এটি যুদ্ধের সিনেমা হলেও এতে আছে নানা চমক। সাবমেরিন নিয়ে যুদ্ধ করার টান টান উত্তেজনা, সাবমেরিনে আটকে যাওয়ার ভয়, সাহসী প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধা- এসবকিছু দেখতে পাওয়া যায় এ ছবিতে। এটি নির্মাণ করতে খরচ হয় ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মুক্তির পর আয় করে ৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি।

কৃতিত্ব : এ ছবি ছয়টি বিভাগে অস্কার পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছিল। এ ছাড়া ছবিটি বহু চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়েছে।

গুড মর্নিং ভিয়েতনাম : ১৯৮৭ সালে নির্মিত ‘গুড মর্নিং ভিয়েতনাম’ চলচ্চিত্রের পরিচালক ব্যারি লেভিন্সন অসাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরেছেন। এ চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট ভিয়েতনামের একজন রেডিও উপস্থাপকের বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়। প্রখ্যাত অভিনেতা রবিন উইলিয়ামস এতে অভিনয় করেন।

কৃতিত্ব : এ ছবির অভিনেতা শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে অস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

শিন্ডলার্স লিস্ট : ১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি ঐতিহাসিক মার্কিন চলচ্চিত্র ‘শিন্ডলার্স লিস্ট’। এতে যুদ্ধের ভয়ঙ্কর সব চিত্র উঠে এসেছে। স্টিভেন স্পিলবার্গ ছবিটি পরিচালনা করেন। নোবেল বিজয়ী অস্ট্রেলিয়ান থমাস কেনিয়েলির লেখা ‘শিন্ডলার্স আর্ক’ বই অবলম্বনে এ ছবি তৈরি করা হয়েছে। চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম যুদ্ধবিরোধী ছবি এটি।

কৃতিত্ব : শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ মোট সাতটি ক্যাটাগরিতে অস্কার জিতে নিয়েছে ‘শিন্ডলার্স লিস্ট’।

ব্রেভহার্ট : একটি ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র। এর পরিচালক ও প্রযোজক মেল গিবসন, যিনি প্রধান চরিত্রে অভিনয়ও করেছেন। চিত্রনাট্য রচয়িতা রাগুল ওয়ালেস পরে কাহিনীটি নিয়ে একটি উপন্যাস রচনা করেন। গিবসন একটি ঐতিহাসিক স্কট উইলিয়াম ওয়ালেসের চরিত্র রূপদান করেন, যিনি ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম অ্যাডওয়ার্ডের বিরুদ্ধে স্কটিশ স্বাধীনতার প্রথম যুদ্ধে অবতীর্ণ হন।

কৃতিত্ব : ৬৮তম অস্কারে ব্রেভহাট পাঁচটি পুরস্কার লাভ করে, যার মধ্যে রয়েছে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ও শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার।

স্কিন্ডলারস লিস্ট : স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত ‘স্কিন্ডলারস লিস্ট’ ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৯৩ সালে। এটিকে বলা হয় সবচেয়ে পুরনো ও জনপ্রিয় যুদ্ধবিষয়ক ছবি। এর গল্প অস্কার স্কিন্ডলার নামে একজন জার্মান ব্যবসায়ীকে নিয়ে, যে ইহুদিদের বাঁচানোর জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের কাজে নিযুক্ত করেন।

কৃতিত্ব : স্কিল্ডলারস লিস্ট জিতে নেয় সাতটি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড।

দ্য হার্ট লকার : ক্যাথরিন বিগেলো ২০০৪ সালে বাগদাদে মার্কিন সেনাবাহিনীর তিন সদস্যের একটি ইওডি (এক্সপ্লোসিভ অর্ডন্যান্স ডিসপোজাল) বা বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের কার্যক্রমের ওপর নির্মাণ করেন ‘দ্য হার্ট লকার’, যা ব্যাপক আলোচিত হয়।

‘দ্য হার্ট লকার’ বিশ্ব চলচ্চিত্রের আসরে ইরাক যুদ্ধের ওপর নির্মিত সেরা চলচ্চিত্রগুলোর একটি হিসেবেই বিবেচ্য। এ ছবির জন্যই অস্কার অ্যাওয়ার্ডের নব্বই বছরের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত বিগেলোই একমাত্র অস্কারজয়ী কোনো চলচ্চিত্র নির্মাতা, যিনি নারী। ছবিটিকে বেশ কয়েকজন সমালোচকই ‘নিখুঁত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

কৃতিত্ব : ২০১০ সালে ৮২তম অস্কারে ছবিটি ৯টি বিভাগে মনোনয়ন লাভ এবং সেরা ছবি, পরিচালক, সম্পাদনা ও চিত্রনাট্যসহ ছয়টি পুরস্কার পায়।

স্বাধীন বাংলার প্রথম যুদ্ধের ছবি : ওরা ১১ জন

ওরা ১১ জন ১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশি চলচ্চিত্র। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত, স্বাধীনতাত্তোর প্রথম চলচ্চিত্র এটি। ছবিটি পরিচালনা করেছেন চাষী নজরুল ইসলাম। এ ছবিতে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা অভিনয় করেছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন খসরু, মুরাদ, হেলাল ও নান্টু। এ ছাড়া ছবির প্রধান চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন রাজ্জাক, শাবানা, নূতন, হাসান ইমাম, আলতাফ, মুরাদ, নান্টু, বেবী, আবু, খলিলউল্লাহ খানসহ আরও অনেকে। স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রথম এবং পূর্ণাঙ্গ এ চলচ্চিত্রের জনক হিসেবে নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামের স্মৃতিও তাই চির অম্লান হয়ে থাকবে সিনেমাপ্রেমীদের মনে।

কৃতিত্ব : ওরা ১১ জন ১৯৭২ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কৃত হয়

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

দেশ-বিদেশের যুদ্ধভিত্তিক সিনেমা

আপডেট সময় ০৫:৪১:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মার্চ ২০১৮

আকাশ বিনোদন ডেস্ক: 

ছবি নির্মাণ কেমন হবে তা গল্পই বলে দেয়। দেশে এবং দেশের বাইরে প্রতি মাসে বিষয়ভিত্তিক এবং বৈচিত্র্যময় সিনেমা নির্মিত হয়। মুক্তিযুদ্ধ অথবা যুদ্ধ নিয়েও নির্মিত হয় সিনেমা। বিভিন্ন সময় বিশ্বের নানা প্রান্তে ছোট-বড় অনেক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। অনেক যুদ্ধ চলছে।

আবার ধারণা করা হয় এই বুঝি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হল! যুদ্ধভিত্তিক এ চলচ্চিত্রগুলো ইতিহাসের বিভিন্ন জয়-পরাজয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়, রূপকভাবে দেখিয়ে দেয় অতীতের যুদ্ধে কী ঘটেছিল? চলচ্চিত্রের ইতিহাসে বহির্বিশ্বে নির্মিত বিশ্বখ্যাত ও জনপ্রিয় সেরা ১০ যুদ্ধ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের বিষয় নিয়ে তৈরি হয়েছে এ প্রতিবেদন

অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট : চলচ্চিত্রটি এরিক মারিয়া রেমার্কের বিখ্যাত উপন্যাস ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’ অবলম্বনে ১৯৩০ সালে নির্মিত হয়েছে। পরিচালনা করেছিলেন লেউইস মাইলস্টোন। এটিকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আদর্শ রূপায়ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

যুদ্ধের মূলধারাকে নিষ্ঠার সঙ্গে অনুসরণ করার জন্যই এ চলচ্চিত্র ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছে। অ্যামেরিকান ফিল্ম ইন্সটিটিউট তাদের সর্বকালের সেরা ১০০ মার্কিন চলচ্চিত্রের তালিকায় এটিকে ৫৪ নম্বরে স্থান দিয়েছিল। অবশ্য ২০০৭ সালে নতুনভাবে প্রকাশিত তালিকা থেকে এটি বাদ পড়েছে। পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালে এএফআই ১৫শ’ চলচ্চিত্রপ্রেমীর ভোটাভুটির ভিত্তিতে সেরা ১০টি মার্কিন ক্লাসিক সিনেমার নাম প্রকাশ করে। এ তালিকায় ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’ ৭ নম্বরে স্থান পেয়েছে।

কৃতিত্ব : ছবিটি ১৯৩০ সালে শ্রেষ্ঠ ছবি, শ্রেষ্ঠ পরিচালক ও শ্রেষ্ঠ সিনেম্যাটোগ্রাফি ক্যাটাগরিতে অস্কার জিতে।

রোম, ওপেন সিটি : ১৯৪৪ সালে নাৎসি বাহিনী অধিকৃত রোমের প্রেক্ষাপট বিস্তৃত হয়েছে ১৯৪৬ সালে নির্মিত ‘রোম, ওপেন সিটি’ চলচ্চিত্রে। রোমা, চিত্তা আপের্তা বা রোম, উন্মুক্ত শহর ১৯৪৫ সালের ইতালীয় নাট্য চলচ্চিত্র এটি।

সের্গিও এমিইডি ও আলবার্তো কনসিগলিওর গল্প অবলম্বনে রোবার্তো রোসেলিনি পরিচালিত এ চলচ্চিত্রে অভিনয়ে ছিলেন আলডো ফ্যাবরিজি, আনা মাগনানি, মার্সেলো পাগলিরো ও হ্যারি ফিয়েস্ট। ইংরেজি সাবটাইটেলসহ মুক্তির নাম ছিল ‘ওপেন সিটি’। ইতালীয় নয়া বাস্তববাদের নতুন দিগন্তের সূচনা হয় এ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে।

কৃতিত্ব : কান চলচ্চিত্র উৎসবে গ্র্যান্ড প্রাইজ, ইতালীয় ন্যাশনাল সিন্ডিকেট অব ফিল্ম জার্নালিস্ট থেকে সিলভার রিবনসহ বিভিন্ন পুরস্কার জেতে এ চলচ্চিত্র।

ব্যালাড অব অ্যা সোলজার : ১৯৫৯ সালে নির্মিত গ্রেগরি শুখরাই পরিচালিত ‘ব্যালাড অব আ সোলজার’ ছবির পটভূমি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। কিন্তু আসলে প্রেম। এ প্রেম ছিল তরুণ-তরুণী, দম্পতি এবং মা ও ছেলের। শেষোক্তটিই ব্যাপ্তি পেয়েছে বেশি।

হিটলার আক্রান্ত রাশিয়ার এক যোদ্ধা আলেক্সি দুটো জার্মান ট্যাঙ্ক ধ্বংসের কৃতিত্ব দেখিয়ে ছয় দিনের ছুটি পায়। তার ইচ্ছা মাকে দেখবে আর মায়ের ঘরের চালাটা ঠিক করবে। পরে তাকে ঘিরে ঘটে আরও ভয়াবহ কাহিনী। সোভিয়েত ইউনিয়নের (বর্তমান রাশিয়া) পরিচালক গ্রেগরি চুখরাজ ‘ব্যালাড অব আ সোলজার’ শীর্ষক এ ছবিটি নির্মাণ করেন।

কৃতিত্ব : ১৯৬২ সালে শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যের জন্য ছবিটি অস্কার পুরস্কার লাভ করে।

অ্যাপোক্যালিপস নাও : জোসফে কনরাডরে উপন্যাস হার্ট অব ডার্কনেসের অনুপ্রেরণায় ১৯৭৯ সালে ‘অ্যাপোক্যালিপস নাউ’ ছবিটি বানিয়েছেন ফ্রানসসি ফোর্ড কপুলা। টিএস এলয়িটরে হলোম্যানরে অনুপ্রেরণাও আছে। ১৯৬৯ সালের ভিয়েতনামের প্রেক্ষাপট নিয়েই ছবিটি বানানো হয়। ছবির শেষভাগে মার্লোন ব্র্যান্ডোর যুদ্ধংদেহী উপস্থিতিই বোধহয় ছবিটিকে অমর করে তুলেছে!

কৃতিত্ব : ছবিটি পাঁচটি ক্যাটাগরিতে অস্কার পুরস্কার লাভ করে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করে।

দাস বুট : ‘দাস বুট’ ছবিটি নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা উলফগ্যাং পিটারসেন। মুক্তি পায় ১৯৮১ সালে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘিরে নির্মিত হয় এ ছবি। এটি যুদ্ধের সিনেমা হলেও এতে আছে নানা চমক। সাবমেরিন নিয়ে যুদ্ধ করার টান টান উত্তেজনা, সাবমেরিনে আটকে যাওয়ার ভয়, সাহসী প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধা- এসবকিছু দেখতে পাওয়া যায় এ ছবিতে। এটি নির্মাণ করতে খরচ হয় ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মুক্তির পর আয় করে ৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি।

কৃতিত্ব : এ ছবি ছয়টি বিভাগে অস্কার পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছিল। এ ছাড়া ছবিটি বহু চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়েছে।

গুড মর্নিং ভিয়েতনাম : ১৯৮৭ সালে নির্মিত ‘গুড মর্নিং ভিয়েতনাম’ চলচ্চিত্রের পরিচালক ব্যারি লেভিন্সন অসাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরেছেন। এ চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট ভিয়েতনামের একজন রেডিও উপস্থাপকের বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়। প্রখ্যাত অভিনেতা রবিন উইলিয়ামস এতে অভিনয় করেন।

কৃতিত্ব : এ ছবির অভিনেতা শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে অস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

শিন্ডলার্স লিস্ট : ১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি ঐতিহাসিক মার্কিন চলচ্চিত্র ‘শিন্ডলার্স লিস্ট’। এতে যুদ্ধের ভয়ঙ্কর সব চিত্র উঠে এসেছে। স্টিভেন স্পিলবার্গ ছবিটি পরিচালনা করেন। নোবেল বিজয়ী অস্ট্রেলিয়ান থমাস কেনিয়েলির লেখা ‘শিন্ডলার্স আর্ক’ বই অবলম্বনে এ ছবি তৈরি করা হয়েছে। চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম যুদ্ধবিরোধী ছবি এটি।

কৃতিত্ব : শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ মোট সাতটি ক্যাটাগরিতে অস্কার জিতে নিয়েছে ‘শিন্ডলার্স লিস্ট’।

ব্রেভহার্ট : একটি ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র। এর পরিচালক ও প্রযোজক মেল গিবসন, যিনি প্রধান চরিত্রে অভিনয়ও করেছেন। চিত্রনাট্য রচয়িতা রাগুল ওয়ালেস পরে কাহিনীটি নিয়ে একটি উপন্যাস রচনা করেন। গিবসন একটি ঐতিহাসিক স্কট উইলিয়াম ওয়ালেসের চরিত্র রূপদান করেন, যিনি ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম অ্যাডওয়ার্ডের বিরুদ্ধে স্কটিশ স্বাধীনতার প্রথম যুদ্ধে অবতীর্ণ হন।

কৃতিত্ব : ৬৮তম অস্কারে ব্রেভহাট পাঁচটি পুরস্কার লাভ করে, যার মধ্যে রয়েছে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ও শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার।

স্কিন্ডলারস লিস্ট : স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত ‘স্কিন্ডলারস লিস্ট’ ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৯৩ সালে। এটিকে বলা হয় সবচেয়ে পুরনো ও জনপ্রিয় যুদ্ধবিষয়ক ছবি। এর গল্প অস্কার স্কিন্ডলার নামে একজন জার্মান ব্যবসায়ীকে নিয়ে, যে ইহুদিদের বাঁচানোর জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের কাজে নিযুক্ত করেন।

কৃতিত্ব : স্কিল্ডলারস লিস্ট জিতে নেয় সাতটি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড।

দ্য হার্ট লকার : ক্যাথরিন বিগেলো ২০০৪ সালে বাগদাদে মার্কিন সেনাবাহিনীর তিন সদস্যের একটি ইওডি (এক্সপ্লোসিভ অর্ডন্যান্স ডিসপোজাল) বা বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের কার্যক্রমের ওপর নির্মাণ করেন ‘দ্য হার্ট লকার’, যা ব্যাপক আলোচিত হয়।

‘দ্য হার্ট লকার’ বিশ্ব চলচ্চিত্রের আসরে ইরাক যুদ্ধের ওপর নির্মিত সেরা চলচ্চিত্রগুলোর একটি হিসেবেই বিবেচ্য। এ ছবির জন্যই অস্কার অ্যাওয়ার্ডের নব্বই বছরের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত বিগেলোই একমাত্র অস্কারজয়ী কোনো চলচ্চিত্র নির্মাতা, যিনি নারী। ছবিটিকে বেশ কয়েকজন সমালোচকই ‘নিখুঁত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

কৃতিত্ব : ২০১০ সালে ৮২তম অস্কারে ছবিটি ৯টি বিভাগে মনোনয়ন লাভ এবং সেরা ছবি, পরিচালক, সম্পাদনা ও চিত্রনাট্যসহ ছয়টি পুরস্কার পায়।

স্বাধীন বাংলার প্রথম যুদ্ধের ছবি : ওরা ১১ জন

ওরা ১১ জন ১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশি চলচ্চিত্র। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত, স্বাধীনতাত্তোর প্রথম চলচ্চিত্র এটি। ছবিটি পরিচালনা করেছেন চাষী নজরুল ইসলাম। এ ছবিতে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা অভিনয় করেছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন খসরু, মুরাদ, হেলাল ও নান্টু। এ ছাড়া ছবির প্রধান চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন রাজ্জাক, শাবানা, নূতন, হাসান ইমাম, আলতাফ, মুরাদ, নান্টু, বেবী, আবু, খলিলউল্লাহ খানসহ আরও অনেকে। স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রথম এবং পূর্ণাঙ্গ এ চলচ্চিত্রের জনক হিসেবে নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামের স্মৃতিও তাই চির অম্লান হয়ে থাকবে সিনেমাপ্রেমীদের মনে।

কৃতিত্ব : ওরা ১১ জন ১৯৭২ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কৃত হয়