ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা উচিত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ বরগুনায় ডাকবাংলো থেকে দুই শিশু ও মায়ের মরদেহ উদ্ধার মায়ের প্রতি অবহেলা: শাস্তি পাবেন সেই যুগ্ম সচিব বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক এমপিদের সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির জ্ঞান থাকা আবশ্যক : স্পিকার ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান ট্রাম্প ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, দাবি ট্রাম্পের

শ্যালিকার প্রেমিককে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই কারাগারে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

শ্যালিকার প্রেমিককে ফাঁসাতে গিয়ে ইয়াবা ব্যবসার মামলায় কারাগারে যেতে হলো কয়লা ব্যবসায়ী দুলাভাইকে। সোমবার তাহিরপুর থানা পুলিশ উপজেলার মন্দিয়াতা গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে কয়লা ব্যবসায়ী আলাল মিয়াকে (৩৮) ইয়াবা ব্যবসার মামলা দিয়ে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার শ্রীপুর উর ইউনিয়নের মন্দিয়াতা গ্রামের কয়লা ব্যবসায়ী আলালের শ্যালিকা সুজিনা বেগমের (১৯) সঙ্গে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার কিসমত মৌকরন গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে গণি আমির (২৭)। এ সুবাদে তাদের মধ্যে দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

বিষয়টি টের কৌশলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে চতুর দুলাভাই আলাল শনিবার সকালে পটুয়াখালী থেকে গণি আমিরকে তাহিরপুরে ডেকে আনেন। পরে দুই সহযোগীর মাধ্যমে তার ব্যাগে ইয়াবার একটি প্যাকেট ঢুকিয়ে দিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরের নিরাপত্তা কাজে থাকা মন্দিয়াতা আনসার ক্যাম্পের এপিসি সেবুলের মাধ্যমে ফাঁসিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করে।

গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথে ৬-৭ জন আনসার সদস্যরা ট্রলারে উঠে মাদক ব্যবসায়ী বলে গণিকে হাত বেঁধে ফেলে। এরপর মন্দিয়াতা ক্যাম্পে নিয়ে গণির ব্যাগ তল্লাশি করে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে থানা পুলিশে খবর দেয়।

তাহিরপুর থানার ট্যাকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা সন্ধ্যায় খবর পেয়ে মন্দিয়াতা আনসার ক্যাম্পে গিয়ে ঘটনা জেনে এপিসি সেবুল, আলাল ও গণিকে ইয়াবাসহ থানায় নিয়ে যায়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে আলাল স্বীকার করেন, দুই ইয়াবা ব্যবসায়ীর সহযোগিতায় আলাল নিজেই ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে এপিসি সেবুলকে আগাম সংবাদ দিয়ে ফাঁদ তৈরি করে গণিকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন।

প্রতারণার শিকার পটুয়াখালী থেকে আসা গণি আমির সোমবার সকালে থানা ভবনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে দৈনিক আকাশকে বলেন, ভাই আমাকে নৌকায় (ট্রলারে) তোলার পর যখন অচেনা লোকজন হাত-পা বেঁধে ফেলে তখন আমি ধরে নিয়েছি হয়তো আমাকে জানে মেরে লাশ হাওরেই ভাসিয়ে দেবে। এরপর তারা আমাকে আনসার ক্যাম্পে নিয়ে মারপিট করে আমার ব্যাগে তাদের রাখা ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের নাটক সাজায়।

তাহিরপুর থানার ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধর সোমবার দৈনিক আকাশকে বলেন, গণি আমির নিরপরাধ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ছেড়ে দিয়ে রোববার রাতে আলালসহ তার অপর দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। সোমবার আলালকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্যালিকার প্রেমিককে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই কারাগারে

আপডেট সময় ১২:২৯:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

শ্যালিকার প্রেমিককে ফাঁসাতে গিয়ে ইয়াবা ব্যবসার মামলায় কারাগারে যেতে হলো কয়লা ব্যবসায়ী দুলাভাইকে। সোমবার তাহিরপুর থানা পুলিশ উপজেলার মন্দিয়াতা গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে কয়লা ব্যবসায়ী আলাল মিয়াকে (৩৮) ইয়াবা ব্যবসার মামলা দিয়ে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার শ্রীপুর উর ইউনিয়নের মন্দিয়াতা গ্রামের কয়লা ব্যবসায়ী আলালের শ্যালিকা সুজিনা বেগমের (১৯) সঙ্গে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার কিসমত মৌকরন গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে গণি আমির (২৭)। এ সুবাদে তাদের মধ্যে দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

বিষয়টি টের কৌশলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে চতুর দুলাভাই আলাল শনিবার সকালে পটুয়াখালী থেকে গণি আমিরকে তাহিরপুরে ডেকে আনেন। পরে দুই সহযোগীর মাধ্যমে তার ব্যাগে ইয়াবার একটি প্যাকেট ঢুকিয়ে দিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরের নিরাপত্তা কাজে থাকা মন্দিয়াতা আনসার ক্যাম্পের এপিসি সেবুলের মাধ্যমে ফাঁসিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করে।

গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথে ৬-৭ জন আনসার সদস্যরা ট্রলারে উঠে মাদক ব্যবসায়ী বলে গণিকে হাত বেঁধে ফেলে। এরপর মন্দিয়াতা ক্যাম্পে নিয়ে গণির ব্যাগ তল্লাশি করে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে থানা পুলিশে খবর দেয়।

তাহিরপুর থানার ট্যাকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা সন্ধ্যায় খবর পেয়ে মন্দিয়াতা আনসার ক্যাম্পে গিয়ে ঘটনা জেনে এপিসি সেবুল, আলাল ও গণিকে ইয়াবাসহ থানায় নিয়ে যায়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে আলাল স্বীকার করেন, দুই ইয়াবা ব্যবসায়ীর সহযোগিতায় আলাল নিজেই ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে এপিসি সেবুলকে আগাম সংবাদ দিয়ে ফাঁদ তৈরি করে গণিকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন।

প্রতারণার শিকার পটুয়াখালী থেকে আসা গণি আমির সোমবার সকালে থানা ভবনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে দৈনিক আকাশকে বলেন, ভাই আমাকে নৌকায় (ট্রলারে) তোলার পর যখন অচেনা লোকজন হাত-পা বেঁধে ফেলে তখন আমি ধরে নিয়েছি হয়তো আমাকে জানে মেরে লাশ হাওরেই ভাসিয়ে দেবে। এরপর তারা আমাকে আনসার ক্যাম্পে নিয়ে মারপিট করে আমার ব্যাগে তাদের রাখা ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের নাটক সাজায়।

তাহিরপুর থানার ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধর সোমবার দৈনিক আকাশকে বলেন, গণি আমির নিরপরাধ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ছেড়ে দিয়ে রোববার রাতে আলালসহ তার অপর দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। সোমবার আলালকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।