ঢাকা ০১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচির বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণ অসত্য: আন্তঃশিক্ষা বোর্ড মামলাজট নিরসনে মধ্যস্থতা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে: আইনমন্ত্রী কুয়েতে মার্কিন রাডার ও স্যাটেলাইট ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি ইরানের লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের দুই প্যাকেজ ঘোষণা রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে রেলপথ অবরোধ, ট্রেন চলাচল বন্ধ ভাটারায় গ্যাসলাইন বিস্ফোরণ, একই পরিবারের শিশুসহ দগ্ধ ৩ ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার:জাতিসংঘে সড়কমন্ত্রী রাজধানীর ১২০ মোড়ে বসছে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী

শ্যালিকার প্রেমিককে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই কারাগারে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

শ্যালিকার প্রেমিককে ফাঁসাতে গিয়ে ইয়াবা ব্যবসার মামলায় কারাগারে যেতে হলো কয়লা ব্যবসায়ী দুলাভাইকে। সোমবার তাহিরপুর থানা পুলিশ উপজেলার মন্দিয়াতা গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে কয়লা ব্যবসায়ী আলাল মিয়াকে (৩৮) ইয়াবা ব্যবসার মামলা দিয়ে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার শ্রীপুর উর ইউনিয়নের মন্দিয়াতা গ্রামের কয়লা ব্যবসায়ী আলালের শ্যালিকা সুজিনা বেগমের (১৯) সঙ্গে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার কিসমত মৌকরন গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে গণি আমির (২৭)। এ সুবাদে তাদের মধ্যে দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

বিষয়টি টের কৌশলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে চতুর দুলাভাই আলাল শনিবার সকালে পটুয়াখালী থেকে গণি আমিরকে তাহিরপুরে ডেকে আনেন। পরে দুই সহযোগীর মাধ্যমে তার ব্যাগে ইয়াবার একটি প্যাকেট ঢুকিয়ে দিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরের নিরাপত্তা কাজে থাকা মন্দিয়াতা আনসার ক্যাম্পের এপিসি সেবুলের মাধ্যমে ফাঁসিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করে।

গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথে ৬-৭ জন আনসার সদস্যরা ট্রলারে উঠে মাদক ব্যবসায়ী বলে গণিকে হাত বেঁধে ফেলে। এরপর মন্দিয়াতা ক্যাম্পে নিয়ে গণির ব্যাগ তল্লাশি করে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে থানা পুলিশে খবর দেয়।

তাহিরপুর থানার ট্যাকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা সন্ধ্যায় খবর পেয়ে মন্দিয়াতা আনসার ক্যাম্পে গিয়ে ঘটনা জেনে এপিসি সেবুল, আলাল ও গণিকে ইয়াবাসহ থানায় নিয়ে যায়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে আলাল স্বীকার করেন, দুই ইয়াবা ব্যবসায়ীর সহযোগিতায় আলাল নিজেই ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে এপিসি সেবুলকে আগাম সংবাদ দিয়ে ফাঁদ তৈরি করে গণিকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন।

প্রতারণার শিকার পটুয়াখালী থেকে আসা গণি আমির সোমবার সকালে থানা ভবনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে দৈনিক আকাশকে বলেন, ভাই আমাকে নৌকায় (ট্রলারে) তোলার পর যখন অচেনা লোকজন হাত-পা বেঁধে ফেলে তখন আমি ধরে নিয়েছি হয়তো আমাকে জানে মেরে লাশ হাওরেই ভাসিয়ে দেবে। এরপর তারা আমাকে আনসার ক্যাম্পে নিয়ে মারপিট করে আমার ব্যাগে তাদের রাখা ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের নাটক সাজায়।

তাহিরপুর থানার ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধর সোমবার দৈনিক আকাশকে বলেন, গণি আমির নিরপরাধ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ছেড়ে দিয়ে রোববার রাতে আলালসহ তার অপর দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। সোমবার আলালকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচির বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণ অসত্য: আন্তঃশিক্ষা বোর্ড

শ্যালিকার প্রেমিককে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই কারাগারে

আপডেট সময় ১২:২৯:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

শ্যালিকার প্রেমিককে ফাঁসাতে গিয়ে ইয়াবা ব্যবসার মামলায় কারাগারে যেতে হলো কয়লা ব্যবসায়ী দুলাভাইকে। সোমবার তাহিরপুর থানা পুলিশ উপজেলার মন্দিয়াতা গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে কয়লা ব্যবসায়ী আলাল মিয়াকে (৩৮) ইয়াবা ব্যবসার মামলা দিয়ে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার শ্রীপুর উর ইউনিয়নের মন্দিয়াতা গ্রামের কয়লা ব্যবসায়ী আলালের শ্যালিকা সুজিনা বেগমের (১৯) সঙ্গে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার কিসমত মৌকরন গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে গণি আমির (২৭)। এ সুবাদে তাদের মধ্যে দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

বিষয়টি টের কৌশলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে চতুর দুলাভাই আলাল শনিবার সকালে পটুয়াখালী থেকে গণি আমিরকে তাহিরপুরে ডেকে আনেন। পরে দুই সহযোগীর মাধ্যমে তার ব্যাগে ইয়াবার একটি প্যাকেট ঢুকিয়ে দিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরের নিরাপত্তা কাজে থাকা মন্দিয়াতা আনসার ক্যাম্পের এপিসি সেবুলের মাধ্যমে ফাঁসিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করে।

গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথে ৬-৭ জন আনসার সদস্যরা ট্রলারে উঠে মাদক ব্যবসায়ী বলে গণিকে হাত বেঁধে ফেলে। এরপর মন্দিয়াতা ক্যাম্পে নিয়ে গণির ব্যাগ তল্লাশি করে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে থানা পুলিশে খবর দেয়।

তাহিরপুর থানার ট্যাকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা সন্ধ্যায় খবর পেয়ে মন্দিয়াতা আনসার ক্যাম্পে গিয়ে ঘটনা জেনে এপিসি সেবুল, আলাল ও গণিকে ইয়াবাসহ থানায় নিয়ে যায়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে আলাল স্বীকার করেন, দুই ইয়াবা ব্যবসায়ীর সহযোগিতায় আলাল নিজেই ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে এপিসি সেবুলকে আগাম সংবাদ দিয়ে ফাঁদ তৈরি করে গণিকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন।

প্রতারণার শিকার পটুয়াখালী থেকে আসা গণি আমির সোমবার সকালে থানা ভবনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে দৈনিক আকাশকে বলেন, ভাই আমাকে নৌকায় (ট্রলারে) তোলার পর যখন অচেনা লোকজন হাত-পা বেঁধে ফেলে তখন আমি ধরে নিয়েছি হয়তো আমাকে জানে মেরে লাশ হাওরেই ভাসিয়ে দেবে। এরপর তারা আমাকে আনসার ক্যাম্পে নিয়ে মারপিট করে আমার ব্যাগে তাদের রাখা ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের নাটক সাজায়।

তাহিরপুর থানার ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধর সোমবার দৈনিক আকাশকে বলেন, গণি আমির নিরপরাধ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ছেড়ে দিয়ে রোববার রাতে আলালসহ তার অপর দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। সোমবার আলালকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।