ঢাকা ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ প্রতারণা করে অর্থ আদায়, ৫১ হাজার সিমসহ ৫ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি

বোনকে খেলা দেখাতে গিয়ে মৃত্যু

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ছয় বছরের শিশুটি মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিল। জড়ানো গলায় কী যেন বলছিল সে। কিছু বুঝতে না পেরে মেয়েকে আদর করে ফের কাজ করতে থাকেন মা। কিন্তু কাজ সেরে বাড়ি ফিরে প্রায় সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন তিনি। দেখেন মশারির দড়ি জড়িয়ে তাঁর বড় মেয়ে প্রায় নিথর অবস্থায় শুয়ে আছে।

নিয়তির এমন পরিহাস হয়েছে ডায়মন্ডহারবার থানার লেনিননগরে। বোনের সঙ্গে খেলতে খেলতে এই দুর্ঘটনা। প্রাণ হারিয়েছে আট বছরের দিদি। দুর্ঘটনায় মৃত বালিকার নাম অঙ্কিতা দলুই। শনিবার দুপুরে বোনের সঙ্গে ঘরের ভিতরে বিছানায় খেলা করছিল সে। দিদিই ছিল বোনের খেলার সাথী। দিনভর তারা ঘরময় দৌড়ে বেড়াত। কখনও উঠোনে। কখনও বারান্দায়। আবার কখনও তাদের গাঁয়ের রাস্তায় দেখা যেত। কাদামাটি মেখে ঘরে ফিরে বকুনিও জুটতো।

ঘটনার দিন ঘরে বাড়ির বড়রা কেউ ছিলেন না। মহা আনন্দে দুই বোন দুষ্টুমি করছিল। বিছানা থেকে লাফ দিয়ে মেঝেতে পড়ছিল দিদি। একরত্তি ছোট বোন তা দেখে খুশিতে ডগোমগো। কিন্তু খেলার মাঝে গলায় মশারির দড়ি জড়িয়ে যায় দিদির। ছটফট করতে থাকে সে। বোন প্রথমে ভাবে এটাও খেলার অংশ। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে গোঙাতে থাকে দিদি। তখন মায়ের কাছে ছুটে যায় সে। জড়ানো গলায় কেঁদে মাকে জানায়। কিন্তু কিছু বুঝে উঠতে পারেননি মা।

যখন মা ঘরে আসেন তখন যা হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে। মা মাঠে কাজ করছিলেন। ঠাকুমা পুকুরে স্নানে গিয়েছিলেন। বাড়িতে আর কেউ ছিলেন না। খেলতে খেলতে আচমকা মশারির দড়ির সঙ্গে গলায় ফাঁস লেগে যায় অঙ্কিতার। সামলাতে না পেরে খাট থেকে পড়ে যায় সে। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে ছোট্ট মেয়েটি। দড়ির ফাঁস আরও শক্ত হয়ে চেপে বসে গলায়। দিদির ছটফটানির এমন দৃশ্য দেখে অঙ্কিতার বোন ছুটে যায় মায়ের কাছে। কিন্তু ছয় বছরের মেয়ে স্পষ্ট করে সব কথা বলতে পারেনি।

মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে। মা খুব বেশি গুরুত্ব দেননি ছোট্ট মেয়ের কান্নায়। কিন্তু পরে কাজ সেরে ঘরে এসে হতচকিত হয়ে পড়েন তিনি। চিৎকার করতে থাকেন। তাঁর কান্না শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। সঙ্গে সঙ্গে অঙ্কিতাকে খাট থেকে নামানো হয়। তবে ততক্ষণে ছটফটানি থেমে গিয়েছে তার। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্যে ডায়মন্ডহারবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আট বছরের ওই বালিকাকে। ওই রাতেই মৃত্যু হয় তার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বোনকে খেলা দেখাতে গিয়ে মৃত্যু

আপডেট সময় ০৩:৪৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ছয় বছরের শিশুটি মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিল। জড়ানো গলায় কী যেন বলছিল সে। কিছু বুঝতে না পেরে মেয়েকে আদর করে ফের কাজ করতে থাকেন মা। কিন্তু কাজ সেরে বাড়ি ফিরে প্রায় সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন তিনি। দেখেন মশারির দড়ি জড়িয়ে তাঁর বড় মেয়ে প্রায় নিথর অবস্থায় শুয়ে আছে।

নিয়তির এমন পরিহাস হয়েছে ডায়মন্ডহারবার থানার লেনিননগরে। বোনের সঙ্গে খেলতে খেলতে এই দুর্ঘটনা। প্রাণ হারিয়েছে আট বছরের দিদি। দুর্ঘটনায় মৃত বালিকার নাম অঙ্কিতা দলুই। শনিবার দুপুরে বোনের সঙ্গে ঘরের ভিতরে বিছানায় খেলা করছিল সে। দিদিই ছিল বোনের খেলার সাথী। দিনভর তারা ঘরময় দৌড়ে বেড়াত। কখনও উঠোনে। কখনও বারান্দায়। আবার কখনও তাদের গাঁয়ের রাস্তায় দেখা যেত। কাদামাটি মেখে ঘরে ফিরে বকুনিও জুটতো।

ঘটনার দিন ঘরে বাড়ির বড়রা কেউ ছিলেন না। মহা আনন্দে দুই বোন দুষ্টুমি করছিল। বিছানা থেকে লাফ দিয়ে মেঝেতে পড়ছিল দিদি। একরত্তি ছোট বোন তা দেখে খুশিতে ডগোমগো। কিন্তু খেলার মাঝে গলায় মশারির দড়ি জড়িয়ে যায় দিদির। ছটফট করতে থাকে সে। বোন প্রথমে ভাবে এটাও খেলার অংশ। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে গোঙাতে থাকে দিদি। তখন মায়ের কাছে ছুটে যায় সে। জড়ানো গলায় কেঁদে মাকে জানায়। কিন্তু কিছু বুঝে উঠতে পারেননি মা।

যখন মা ঘরে আসেন তখন যা হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে। মা মাঠে কাজ করছিলেন। ঠাকুমা পুকুরে স্নানে গিয়েছিলেন। বাড়িতে আর কেউ ছিলেন না। খেলতে খেলতে আচমকা মশারির দড়ির সঙ্গে গলায় ফাঁস লেগে যায় অঙ্কিতার। সামলাতে না পেরে খাট থেকে পড়ে যায় সে। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে ছোট্ট মেয়েটি। দড়ির ফাঁস আরও শক্ত হয়ে চেপে বসে গলায়। দিদির ছটফটানির এমন দৃশ্য দেখে অঙ্কিতার বোন ছুটে যায় মায়ের কাছে। কিন্তু ছয় বছরের মেয়ে স্পষ্ট করে সব কথা বলতে পারেনি।

মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে। মা খুব বেশি গুরুত্ব দেননি ছোট্ট মেয়ের কান্নায়। কিন্তু পরে কাজ সেরে ঘরে এসে হতচকিত হয়ে পড়েন তিনি। চিৎকার করতে থাকেন। তাঁর কান্না শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। সঙ্গে সঙ্গে অঙ্কিতাকে খাট থেকে নামানো হয়। তবে ততক্ষণে ছটফটানি থেমে গিয়েছে তার। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্যে ডায়মন্ডহারবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আট বছরের ওই বালিকাকে। ওই রাতেই মৃত্যু হয় তার।