ঢাকা ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ

৫৩ বছরে ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’

আকাশ বিনোদন ডেস্ক:

বলিউডের তিন খানের অন্যতম ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ খ্যাত নায়ক আমির খান। ৫২ পেরিয়ে আজ ৫৩ বছর বয়সে পা দিলেন এই অভিনেতা। ১৯৬৫ সালের ১৪ মার্চ তিনি ভারতের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। অভিনেতার জন্মদিনে বুধবার সকাল সকালই টুইট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

৫৩ বছর বয়সী এ অভিনেতার ৪৫ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। ১৯৭৩ সালে মাত্র আট বছর বয়সে অভিনয়ে হাতেখড়ি হয়েছিল তার। শিশুশিল্পী হিসেবে ওই বছর তিনি প্রথম অভিনয় করেন ‘ইয়াদুন কি বারাত’ নামের একটি ছবিতে। তবে নায়ক হিসেবে তার ক্যারিয়ার শুরু হয় ১১ বছর পরে। ১৯৮৪ সালে প্রাপ্তবয়স্ক অভিনেতা হিসাবে কেতন মেহতার ‘হোলি’ ছবিতে অভিনয় করেন আমির খান।

কিন্তু প্রথম ছবিতে নায়ক হিসেবে তেমন সাড়া ফেলতে পারেননি মিস্টার পারফেকশনিস্ট। ক্যারিয়ারের প্রথম উল্লেখযোগ্য ছবি হিসেবে ১৯৮৮ সালে মুক্তি পায় তার ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’। যেটি পরিচালনা করেন তার চাচাতো ভাই মনসুর খান। এতে আমিরের বিপরীতে অভিনয় করেন জুহি চাওলা। ছবিটি বিরাট সাফল্য পায়। জনপ্রিয় হয়ে ওঠে আমির খান ও জুহি চাওলা জুটিও।

এর পরের অধ্যায় শুধুই ইতিহাস। ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’-এর পরে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আমির খানকে। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি উপহার দিয়েছেন অসংখ্য হিট ও ব্যবসাসফল ছবি। বয়স যতই বেড়েছে তার অভিনয়ের ধারও তত বেড়েছে। আমির খান অভিনীত উল্লেখ্যযোগ্য ছবিগুলো হচ্ছে দিল, দিল হ্যায় কে মানতা নেহি, জো জিতা ওহি সিকান্দার, আন্দাজ আপনা আপনা, রাজা হিন্দুস্থানি, ইশক, মান, লগান, রাং দে বাসন্তি, ফানা, তারে জমিন পার, গজনী, থ্রি ইডিয়টস, ধুম থ্রি, পিকে ও দঙ্গল।

হিট ছবির সংখ্যার বিচারে পুরস্কার প্রাপ্তির সংখ্যা খুব একটা সমৃদ্ধ নয় বলিউডের বিখ্যাত এই অভিনেতার। ‘রাজা হিন্দস্থানি’ ছবির সুবাদে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে ক্যারিয়ারে মাত্র একবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার হাতে তুলতে পেরেছেন তিনি। যদিও এই ক্যাটাগরিতে তিনি মনোনিত হয়েছেন সাত বারেরও বেশি। তবে তার ঝুলিতে রয়েছে চারটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ২০০৩ সালে ভারত সরকারের কাছ থেকে তিনি পেয়েছেন ‘পদ্মশ্রী’ এবং ২০১০ সালে ‘পদ্মভূষণ’। সঙ্গে পেয়েছেন অসংখ্য ভক্তের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। ২০১৩ সালের এপ্রিলে টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায়ও স্থান পেয়েছিলেন তিনি।

পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবেও বেশ খ্যাতি রয়েছে আমির খানের। ২০০৭ সালে প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। ওই বছর তার প্রযোজনায় ‘তারে জমিন পার’ ছবির মাধ্যমে একটি ডিজলেক্সিয়ায় আক্রান্ত বাচ্চার গল্প সকলের সামনে তুলে ধরেন আমির খান। এছাড়া টিভি টক শো ‘সত্যমেব জয়’ সঞ্চালনা করেও বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন অভিনেতা। বর্তমানে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন ‘ঠগস অব হিন্দস্থান’ ছবির শুটিং নিয়ে। যে ছবিতে রয়েছেন বলিউডের আরেক মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চনও।

ইসলাম ধর্মের অনুসারী আমির খান ১৯৮৬ সালে হিন্দু ধর্মাবলম্বী রীনা দত্তকে বিয়ে করেন। ২০০২ সালে তাদের ডিভোর্স হয়। এরপর ২০০৫ সালে তিনি কিরণ রাওকে বিয়ে করেন। আমির খানের দুই ছেলে জুনায়েদ খান ও আজাদ রাও খান। ইরা খান নামে একটি মেয়েও রয়েছে তার। বর্তমানে দ্বিতীয় স্ত্রী কিরণ রাও ও সন্তানদের নিয়ে সুখে সংসার করছেন এই অভিনেতা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ

৫৩ বছরে ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’

আপডেট সময় ০৯:৩৯:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মার্চ ২০১৮

আকাশ বিনোদন ডেস্ক:

বলিউডের তিন খানের অন্যতম ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ খ্যাত নায়ক আমির খান। ৫২ পেরিয়ে আজ ৫৩ বছর বয়সে পা দিলেন এই অভিনেতা। ১৯৬৫ সালের ১৪ মার্চ তিনি ভারতের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। অভিনেতার জন্মদিনে বুধবার সকাল সকালই টুইট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

৫৩ বছর বয়সী এ অভিনেতার ৪৫ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। ১৯৭৩ সালে মাত্র আট বছর বয়সে অভিনয়ে হাতেখড়ি হয়েছিল তার। শিশুশিল্পী হিসেবে ওই বছর তিনি প্রথম অভিনয় করেন ‘ইয়াদুন কি বারাত’ নামের একটি ছবিতে। তবে নায়ক হিসেবে তার ক্যারিয়ার শুরু হয় ১১ বছর পরে। ১৯৮৪ সালে প্রাপ্তবয়স্ক অভিনেতা হিসাবে কেতন মেহতার ‘হোলি’ ছবিতে অভিনয় করেন আমির খান।

কিন্তু প্রথম ছবিতে নায়ক হিসেবে তেমন সাড়া ফেলতে পারেননি মিস্টার পারফেকশনিস্ট। ক্যারিয়ারের প্রথম উল্লেখযোগ্য ছবি হিসেবে ১৯৮৮ সালে মুক্তি পায় তার ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’। যেটি পরিচালনা করেন তার চাচাতো ভাই মনসুর খান। এতে আমিরের বিপরীতে অভিনয় করেন জুহি চাওলা। ছবিটি বিরাট সাফল্য পায়। জনপ্রিয় হয়ে ওঠে আমির খান ও জুহি চাওলা জুটিও।

এর পরের অধ্যায় শুধুই ইতিহাস। ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’-এর পরে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আমির খানকে। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি উপহার দিয়েছেন অসংখ্য হিট ও ব্যবসাসফল ছবি। বয়স যতই বেড়েছে তার অভিনয়ের ধারও তত বেড়েছে। আমির খান অভিনীত উল্লেখ্যযোগ্য ছবিগুলো হচ্ছে দিল, দিল হ্যায় কে মানতা নেহি, জো জিতা ওহি সিকান্দার, আন্দাজ আপনা আপনা, রাজা হিন্দুস্থানি, ইশক, মান, লগান, রাং দে বাসন্তি, ফানা, তারে জমিন পার, গজনী, থ্রি ইডিয়টস, ধুম থ্রি, পিকে ও দঙ্গল।

হিট ছবির সংখ্যার বিচারে পুরস্কার প্রাপ্তির সংখ্যা খুব একটা সমৃদ্ধ নয় বলিউডের বিখ্যাত এই অভিনেতার। ‘রাজা হিন্দস্থানি’ ছবির সুবাদে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে ক্যারিয়ারে মাত্র একবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার হাতে তুলতে পেরেছেন তিনি। যদিও এই ক্যাটাগরিতে তিনি মনোনিত হয়েছেন সাত বারেরও বেশি। তবে তার ঝুলিতে রয়েছে চারটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ২০০৩ সালে ভারত সরকারের কাছ থেকে তিনি পেয়েছেন ‘পদ্মশ্রী’ এবং ২০১০ সালে ‘পদ্মভূষণ’। সঙ্গে পেয়েছেন অসংখ্য ভক্তের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। ২০১৩ সালের এপ্রিলে টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায়ও স্থান পেয়েছিলেন তিনি।

পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবেও বেশ খ্যাতি রয়েছে আমির খানের। ২০০৭ সালে প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। ওই বছর তার প্রযোজনায় ‘তারে জমিন পার’ ছবির মাধ্যমে একটি ডিজলেক্সিয়ায় আক্রান্ত বাচ্চার গল্প সকলের সামনে তুলে ধরেন আমির খান। এছাড়া টিভি টক শো ‘সত্যমেব জয়’ সঞ্চালনা করেও বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন অভিনেতা। বর্তমানে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন ‘ঠগস অব হিন্দস্থান’ ছবির শুটিং নিয়ে। যে ছবিতে রয়েছেন বলিউডের আরেক মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চনও।

ইসলাম ধর্মের অনুসারী আমির খান ১৯৮৬ সালে হিন্দু ধর্মাবলম্বী রীনা দত্তকে বিয়ে করেন। ২০০২ সালে তাদের ডিভোর্স হয়। এরপর ২০০৫ সালে তিনি কিরণ রাওকে বিয়ে করেন। আমির খানের দুই ছেলে জুনায়েদ খান ও আজাদ রাও খান। ইরা খান নামে একটি মেয়েও রয়েছে তার। বর্তমানে দ্বিতীয় স্ত্রী কিরণ রাও ও সন্তানদের নিয়ে সুখে সংসার করছেন এই অভিনেতা।