ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পে স্কেল বাস্তবায়ন পে কমিশনের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে :অর্থ উপদেষ্টা প্লট দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনা টিউলিপসহ ১৮ জনের মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গায় সেনাবাহিনীর হাতে আটকের পর বিএনপি নেতার মৃত্যু ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: ড. মুহাম্মদ ইউনূস ব্যক্তির স্বৈরাচার হওয়া রোধেই আইনসভার উচ্চকক্ষ : আলী রীয়াজ ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারের দমন-পীড়ন, কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি জনগণই স্বৈরশাসকদের ক্ষমতাচ্যুত করবে: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক

রসুনের উপকারিতা

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ রসুনকে নানা কাজে ব্যবহার করেছে। এই সব কাজের মধ্যে চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহারই বেশী হতো। রসুনে প্রচুর পরিমাণে সালফার যুক্ত থাকে যাকে অ্যালিসিন বলে থাকি। এই অ্যালিসিশ শুধু মাত্র কাঁচা রসুনেই পাওয়া যায়। অ্যালিসিনের নানা গুণ রয়েছে।

প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা রসুনে প্রায় ১৫০ ক্যালোরি এবং ৩৩ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৬.৩৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে। এছাড়া রসুনে রয়েছে ভিটামিন বি ১, বি ২, বি ৩ ও বি ৬, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম ফোলেট, আর জিঙ্ক থাকে।

রোজ সকালে উঠে খালি পেটে এক বা দু’কোয়া রসুন আপনিগন্ধ সহ্য করে চোখ বন্ধ করে খেয়ে ফেলার অভ্যেস যদি করতে পারেন, তাহলে অনকে উপকারই পাবেন! চলুন জেনেনি রসুন আমাদের কি কি উপকার করতে পর।

রক্তকে পরিশুদ্ধ: কাঁচা রসুন আপনার রক্তকে পরিশুদ্ধ করে, তার ফলে আপনার ত্বক ভেতর থেকে পরিষ্কার হয়। সকালে উঠে খালি পেটে দু’কোয়া রসুন খান আর প্রচুর পরিমাণে জল খান দেখবেন ব্রণর সমস্যার সমাধান খানিক হয়েছে।

সর্দিকাশিত: সকালে উঠে ২-৩ কোয়া রসুন খান, বা রসুন থেঁতো করে চা বানিয়ে খান, দেখবেন বন্ধ নাকের সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়ে গেছেন। এছাড়া নিয়ম করে রসুন খেয়ে গেলে সর্দিকাশি আর আপনার কাছেও ঘেঁষতে পারবে না।

অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল: প্রাচীনকালে রসুন অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। রসুনে থাকা অ্যালিসিন প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে, তাই রসুনকে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-বায়োটিক বলা হয়। বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়াল, প্যারাসাইটিক ইনফেকশন সারানোর জন্য রসুন ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

মুখের ব্যাকটেরিয়া: রসুনের মাউথওয়াশ আপনার দাঁতে ক্যাভিটি সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে। তাই দাঁতের পোকা তাড়াতে আর দাঁতকে সুস্থ রাখতে রসুন খান। রসুনের মাউথওয়াশ—শুনতে আপনার আজব লাগছে নিশ্চয়ই।

কৃমি দূর: কৃমির সমস্যা ছোটবেলায় কম-বেশী সব বাচ্চারই থাকে। বিভিন্ন রিসার্চ থেকে জানা গেছে রসুন বাচ্ছাদের কৃমি দূর করতে সাহায্য করে। ওষুধ খাওয়ানোর বদলে এবার আপনার বাচ্ছাকে কাঁচা রসুন খাওয়ান। দেখবেন কৃমি বাপ বাপ করে পালিয়েছে।

ক্যান্সার: নিয়ম করে কাঁচা রসুন খেলে স্টমাক আর কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমে। এছাড়া রসুনে থাকা অ্যালাইল সালফাইড কোলন ক্যান্সার, প্রস্টেটের ক্যান্সার, স্তন ও ফুসফুসের ক্যান্সারের সম্ভাবনাকেও কমায়।

ত্বকের যত্ন: ত্বকের সারফেসে থাকা ব্যাকটেরিয়াকেও রসুন ধ্বংস করে ও ব্রণর সম্ভাবনা কমায়। ফ্রি-র‍্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব ও কোলাজেনের ভাঙ্গন থেকে রসুন আমাদের ত্বককে রক্ষা করে। কোলাজেনের ভাঙনের ফলে আমাদের ত্বক বয়স্ক দেখায়। রসুন আমাদের ত্বকের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-এজিং-এর কাজ করে ও ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা রক্ষা করে।

শ্বাসকষ্ট: আপনার যদি শ্বাসকষ্ট থাকে, তাহলে রসুন আপনার জন্যও একদম যথার্থ ওষুধ হতে পারে। শ্বাসকষ্টের ধাত কমানোর জন্য রোজ সকালে উঠে রসুন খান। উপকার পাবেন। তাছাড়া নিউমোনিয়া, ফুসফুসের সমস্যা, ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদি গুরুতর রোগের চিকিৎসাতেও রসুন ব্যবহার হয়।

হার্ট ঠিক রাখতে: রসুন হাইপার-টেনশন কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া রসুন রক্তের ঘনত্বকে কমায় ও রক্ত সঞ্চালনকে স্বাভাবিক রাখে। ফলে হার্টও সুস্থ থাকে। ধমনীর প্রাচীর শক্ত হয়ে গেলেও হার্টের নানা রোগ দেখা যেতে পারে। রসুনে থাকা সালফারের যৌগ ধমনীর প্রাচীরকে সুস্থ রাখে। ফলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। আর জমাট বাধা রক্ত পাতলা করতেও রসুন ব্যবহার করা হয়। যার ফলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকের সম্ভাবনা কমে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রিয়ালের নতুন কোচ আরবেলোয়া

রসুনের উপকারিতা

আপডেট সময় ১১:২৪:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ রসুনকে নানা কাজে ব্যবহার করেছে। এই সব কাজের মধ্যে চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহারই বেশী হতো। রসুনে প্রচুর পরিমাণে সালফার যুক্ত থাকে যাকে অ্যালিসিন বলে থাকি। এই অ্যালিসিশ শুধু মাত্র কাঁচা রসুনেই পাওয়া যায়। অ্যালিসিনের নানা গুণ রয়েছে।

প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা রসুনে প্রায় ১৫০ ক্যালোরি এবং ৩৩ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৬.৩৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে। এছাড়া রসুনে রয়েছে ভিটামিন বি ১, বি ২, বি ৩ ও বি ৬, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম ফোলেট, আর জিঙ্ক থাকে।

রোজ সকালে উঠে খালি পেটে এক বা দু’কোয়া রসুন আপনিগন্ধ সহ্য করে চোখ বন্ধ করে খেয়ে ফেলার অভ্যেস যদি করতে পারেন, তাহলে অনকে উপকারই পাবেন! চলুন জেনেনি রসুন আমাদের কি কি উপকার করতে পর।

রক্তকে পরিশুদ্ধ: কাঁচা রসুন আপনার রক্তকে পরিশুদ্ধ করে, তার ফলে আপনার ত্বক ভেতর থেকে পরিষ্কার হয়। সকালে উঠে খালি পেটে দু’কোয়া রসুন খান আর প্রচুর পরিমাণে জল খান দেখবেন ব্রণর সমস্যার সমাধান খানিক হয়েছে।

সর্দিকাশিত: সকালে উঠে ২-৩ কোয়া রসুন খান, বা রসুন থেঁতো করে চা বানিয়ে খান, দেখবেন বন্ধ নাকের সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়ে গেছেন। এছাড়া নিয়ম করে রসুন খেয়ে গেলে সর্দিকাশি আর আপনার কাছেও ঘেঁষতে পারবে না।

অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল: প্রাচীনকালে রসুন অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। রসুনে থাকা অ্যালিসিন প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে, তাই রসুনকে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-বায়োটিক বলা হয়। বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়াল, প্যারাসাইটিক ইনফেকশন সারানোর জন্য রসুন ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

মুখের ব্যাকটেরিয়া: রসুনের মাউথওয়াশ আপনার দাঁতে ক্যাভিটি সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে। তাই দাঁতের পোকা তাড়াতে আর দাঁতকে সুস্থ রাখতে রসুন খান। রসুনের মাউথওয়াশ—শুনতে আপনার আজব লাগছে নিশ্চয়ই।

কৃমি দূর: কৃমির সমস্যা ছোটবেলায় কম-বেশী সব বাচ্চারই থাকে। বিভিন্ন রিসার্চ থেকে জানা গেছে রসুন বাচ্ছাদের কৃমি দূর করতে সাহায্য করে। ওষুধ খাওয়ানোর বদলে এবার আপনার বাচ্ছাকে কাঁচা রসুন খাওয়ান। দেখবেন কৃমি বাপ বাপ করে পালিয়েছে।

ক্যান্সার: নিয়ম করে কাঁচা রসুন খেলে স্টমাক আর কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমে। এছাড়া রসুনে থাকা অ্যালাইল সালফাইড কোলন ক্যান্সার, প্রস্টেটের ক্যান্সার, স্তন ও ফুসফুসের ক্যান্সারের সম্ভাবনাকেও কমায়।

ত্বকের যত্ন: ত্বকের সারফেসে থাকা ব্যাকটেরিয়াকেও রসুন ধ্বংস করে ও ব্রণর সম্ভাবনা কমায়। ফ্রি-র‍্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব ও কোলাজেনের ভাঙ্গন থেকে রসুন আমাদের ত্বককে রক্ষা করে। কোলাজেনের ভাঙনের ফলে আমাদের ত্বক বয়স্ক দেখায়। রসুন আমাদের ত্বকের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-এজিং-এর কাজ করে ও ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা রক্ষা করে।

শ্বাসকষ্ট: আপনার যদি শ্বাসকষ্ট থাকে, তাহলে রসুন আপনার জন্যও একদম যথার্থ ওষুধ হতে পারে। শ্বাসকষ্টের ধাত কমানোর জন্য রোজ সকালে উঠে রসুন খান। উপকার পাবেন। তাছাড়া নিউমোনিয়া, ফুসফুসের সমস্যা, ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদি গুরুতর রোগের চিকিৎসাতেও রসুন ব্যবহার হয়।

হার্ট ঠিক রাখতে: রসুন হাইপার-টেনশন কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া রসুন রক্তের ঘনত্বকে কমায় ও রক্ত সঞ্চালনকে স্বাভাবিক রাখে। ফলে হার্টও সুস্থ থাকে। ধমনীর প্রাচীর শক্ত হয়ে গেলেও হার্টের নানা রোগ দেখা যেতে পারে। রসুনে থাকা সালফারের যৌগ ধমনীর প্রাচীরকে সুস্থ রাখে। ফলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। আর জমাট বাধা রক্ত পাতলা করতেও রসুন ব্যবহার করা হয়। যার ফলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকের সম্ভাবনা কমে।