ঢাকা ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

ইরানি জনগণই স্বৈরশাসকদের ক্ষমতাচ্যুত করবে: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। একই সঙ্গে ইরানি জনগণের একটি গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গড়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ক্যানবেরায় এক সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতার নিন্দা জানান।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরানি জনগণ বর্তমান সরকারকে অপসারণ করে একটি গণতান্ত্রিক ইরান প্রতিষ্ঠা করবে, যেখানে মানবাধিকার সমুন্নত থাকবে।

অ্যালবানিজ বলেন, ‘আমরা ইরানের জনগণের পাশে আছি যারা একটি স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এই সরকার নিজ দেশের মানুষের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে এবং আমি আশা করি দেশটির জনগণই এদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেবে।’

এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেছেন, বর্তমান ইরান সরকারের কোনো ‘বৈধতা নেই’, কারণ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তারা নিজেদের নাগরিকদের হত্যা করছে।

তিনি বলেন, ‘আমি এই সরকারকে বলতে চাই—শুধু বিশ্বই আপনাদের মানুষ মারা বন্ধ করতে বলছে না, বরং যে সরকারকে নিজের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে নিজ দেশের নাগরিকদের হত্যা করতে হয়, সেই শাসনের কোনো বৈধতা থাকতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই শাসকগোষ্ঠীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—যেমনটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং বিশ্ব নেতারাও করেছেন—নিজেদের জনগণের ওপর এই নৃশংস নিপীড়ন অবিলম্বে বন্ধ করুন।’

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে পড়েছে ইরান। মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক দুরবস্থার প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ শুরু হলেও দ্রুত তা রাজনৈতিক রূপ নেয়। গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া বিক্ষোভ এরই মধ্যে দেশটির বড় অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা বর্তমান শাসনের অবসান দাবি করছেন। ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

চলমান এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানে ‘হস্তক্ষেপের’ হুমকি দিয়েছেন। ইরানি নেতৃত্বকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ না করার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। গত শনিবারও ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের ‘সহায়তা দিতে প্রস্তুত’।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববার দেশের অর্থনীতি ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, তার সরকার জনগণের কথা শোনার জন্য প্রস্তুত।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানি জনগণই স্বৈরশাসকদের ক্ষমতাচ্যুত করবে: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:৩০:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। একই সঙ্গে ইরানি জনগণের একটি গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গড়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ক্যানবেরায় এক সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতার নিন্দা জানান।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরানি জনগণ বর্তমান সরকারকে অপসারণ করে একটি গণতান্ত্রিক ইরান প্রতিষ্ঠা করবে, যেখানে মানবাধিকার সমুন্নত থাকবে।

অ্যালবানিজ বলেন, ‘আমরা ইরানের জনগণের পাশে আছি যারা একটি স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এই সরকার নিজ দেশের মানুষের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে এবং আমি আশা করি দেশটির জনগণই এদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেবে।’

এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেছেন, বর্তমান ইরান সরকারের কোনো ‘বৈধতা নেই’, কারণ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তারা নিজেদের নাগরিকদের হত্যা করছে।

তিনি বলেন, ‘আমি এই সরকারকে বলতে চাই—শুধু বিশ্বই আপনাদের মানুষ মারা বন্ধ করতে বলছে না, বরং যে সরকারকে নিজের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে নিজ দেশের নাগরিকদের হত্যা করতে হয়, সেই শাসনের কোনো বৈধতা থাকতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই শাসকগোষ্ঠীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—যেমনটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং বিশ্ব নেতারাও করেছেন—নিজেদের জনগণের ওপর এই নৃশংস নিপীড়ন অবিলম্বে বন্ধ করুন।’

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে পড়েছে ইরান। মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক দুরবস্থার প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ শুরু হলেও দ্রুত তা রাজনৈতিক রূপ নেয়। গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া বিক্ষোভ এরই মধ্যে দেশটির বড় অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা বর্তমান শাসনের অবসান দাবি করছেন। ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

চলমান এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানে ‘হস্তক্ষেপের’ হুমকি দিয়েছেন। ইরানি নেতৃত্বকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ না করার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। গত শনিবারও ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের ‘সহায়তা দিতে প্রস্তুত’।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববার দেশের অর্থনীতি ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, তার সরকার জনগণের কথা শোনার জন্য প্রস্তুত।