ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুছাব্বির হত্যার ঘটনায় প্রধান শ্যুটারসহ গ্রেফতার ৩ নির্বাচন বানচালে সীমান্তের ওপারে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: আদিলুর রহমান উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ৪ অধ্যাদেশ অনুমোদন ভারতের দালাল পাকিস্তানের দালাল, এসব বলা বাদ দিতে হবে: (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান জামায়াত ধর্মকে ব্যবহার করছে : টুকু ঋণের বিনিময়ে যুদ্ধবিমান লেনদেনে আলোচনায় সৌদি-পাকিস্তান ‘দুষ্কৃতকারীরা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ফায়দা হাসিলের অপতৎপরতায় লিপ্ত’: মির্জা ফখরুল আজকের ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল দিতে হবে আগামী ১০ বছর: তামিম ইকবাল নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে : ইইউ পর্যবেক্ষণ প্রধান ভারতীয়দের দুঃসংবাদ দিল বাংলাদেশ

৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৫টিতেই নিপাহ ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাট জেলায়।

বুধবার রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক এক সভায় এ তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক তাহমিনা শিরীন।

আইইডিসিআর জানায়, ২০২৪ সালে দেশে নিপাহ ভাইরাসে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া গত বছর (২০২৫) দেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

সভায় আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাসকে নিপাহর মৌসুম ধরা হয়। কিন্তু ২০২৫ সালের আগস্ট মাসেও নিপাহ রোগী পাওয়া গেছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, খেজুরের কাঁচা রস ছাড়াও সংক্রমণের অন্য কোনো উৎস থাকতে পারে। এছাড়া গত বছর প্রথমবারের মতো ভোলায় রোগী শনাক্ত হয়েছে, যেখানে আগে কখনো এই ভাইরাসের অস্তিত্ব ছিল না।

তিনি আরও বলেন, নিপাহ ভাইরাসের জন্য এখনও কার্যকর কোনো চিকিৎসা বা টিকা আবিষ্কৃত হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইইডিসিআর) সংক্রামক রোগ বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী ও নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার বলেন, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত জেলার মধ্যে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি।

তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে, সেগুলো হলো—জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বমি, কাশি, অসংলগ্ন আচরণ, প্রলাপ বকা, ঘাড় ও পেশিতে ব্যথা, খিঁচুনি ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।

নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে খেজুরের কাঁচা রস খাওয়া থেকে পুরোপুরি বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও পাখি বা প্রাণীর আধা খাওয়া কোনো ফল খাওয়া যাবে না এবং যেকোনো ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মুছাব্বির হত্যার ঘটনায় প্রধান শ্যুটারসহ গ্রেফতার ৩

৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ

আপডেট সময় ০৫:২০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৫টিতেই নিপাহ ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাট জেলায়।

বুধবার রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক এক সভায় এ তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক তাহমিনা শিরীন।

আইইডিসিআর জানায়, ২০২৪ সালে দেশে নিপাহ ভাইরাসে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া গত বছর (২০২৫) দেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

সভায় আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাসকে নিপাহর মৌসুম ধরা হয়। কিন্তু ২০২৫ সালের আগস্ট মাসেও নিপাহ রোগী পাওয়া গেছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, খেজুরের কাঁচা রস ছাড়াও সংক্রমণের অন্য কোনো উৎস থাকতে পারে। এছাড়া গত বছর প্রথমবারের মতো ভোলায় রোগী শনাক্ত হয়েছে, যেখানে আগে কখনো এই ভাইরাসের অস্তিত্ব ছিল না।

তিনি আরও বলেন, নিপাহ ভাইরাসের জন্য এখনও কার্যকর কোনো চিকিৎসা বা টিকা আবিষ্কৃত হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইইডিসিআর) সংক্রামক রোগ বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী ও নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার বলেন, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত জেলার মধ্যে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি।

তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে, সেগুলো হলো—জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বমি, কাশি, অসংলগ্ন আচরণ, প্রলাপ বকা, ঘাড় ও পেশিতে ব্যথা, খিঁচুনি ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।

নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে খেজুরের কাঁচা রস খাওয়া থেকে পুরোপুরি বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও পাখি বা প্রাণীর আধা খাওয়া কোনো ফল খাওয়া যাবে না এবং যেকোনো ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে।