ঢাকা ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুকুর-কুমির ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর লিখিত প্রস্তাব বিনিময় করেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় টাউন হল সভা চালু থাকবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট সরকার দেশে ভঙ্গুর অর্থনীতি রেখে গেছে: প্রতিমন্ত্রী ‘এক-এগারোর’ মাসুদ উদ্দিন ফের ৪ দিনের রিমান্ডে কাল থেকে ৪ সিটিতে হামের টিকা শুরু, যাদের না দেয়ার পরামর্শ জনগণের অধিকার আদায়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির ‘নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়’ কক্সবাজারের পর্যটন স্পটে মিলবে ফ্রি ইন্টারনেট: তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী তেল আছে শুধু সংসদে: জামায়াত আমির

বাঁচা-মরার ঝুঁকি মাথায় নিয়ে ফুটবল খেলছেন আফগান নারীরা

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

তাদের লক্ষ্য করে থুথু ছোড়া হতো, ঢিল মারা হতো, পথের পাশে বোমা পুঁতে রাখা হতো। এসবই করা হতো কারণ আফগানিস্তানের এই নারীরা ফুটবল খেলতে চাইতেন। তাদের কোচ হলেন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক নারী ফুটবল দলের সাবেক তারকা কেলি লিন্ডসে।কিন্তু প্রাণভয়ে জীবনে কোনদিন আফগানিস্তানে পা রাখতে পারেননি তিনি।

এই স্কোয়াড গঠিত হয় ২০১০ সালে। কিন্তু দল গঠনের আগে এর কোন কোন সদস্য জীবনেও কোন পূর্ণাঙ্গ দলের সদস্য হয়ে ফুটবল খেলেননি। কিন্তু লিন্ডসে দায়িত্ব নেয়ার দু’বছরের মধ্যে ফিফা র‍্যাংকিং-এ আফগান নারী দল ১২৬তম অবস্থান থেকে উঠে এসেছে ১০৬-এ। কিন্তু এই সাফল্যের পরও তার দায়িত্বটা এতই ঝুঁকিপূর্ণ যে এই নারী ফুটবলারদের ট্রেনিং এবং ম্যাচগুলোর সবাই আয়োজন করতে হয় বিদেশের মাটিতে।
লিন্ডসে যে স্কোয়াডটি গঠন করেছেন তাতে যেমন আফগানিস্তানের বর্তমান বাসিন্দা নারীরা রয়েছেন, তেমনি রয়েছে প্রবাসী আফগানরা। আফগান দলের মূল লক্ষ্য বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা।কিন্তু দেশে থেকে যারা এতে খেলছেন তাদের মাথার ওপর ঝুলছে নানা ধরনের সহিংসতার হুমকি।

ঘরের নারীরা বাইরে ফুটবল খেলবেন, আফগান সংস্কৃতিতে এটা এখনও অনেকের পক্ষেই মেনে নেয়া কঠিন। লিন্ডসে বলেন, নারী যদি ফুটবল খেলে, তাহলে তার বাবা, মা, ভাই-সবাই সমাজের চোখে দোষী বলে বিবেচিত হয়। আফগান নারী ফুটবলের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর খালিদা পোপালের ভাইকে ছুরি মেরে প্রায় মেরেই ফেলা হয়েছিল। তার অপরাধ ছিল তার বোন ফুটবলের সাথে জড়িত। শুধু ফুটবলের জন্য এদের প্রতিদিন যা ভোগ করতে হয়, তা অবাক করার মতো।

নারী ফুটবল দলের জন্য আফগানিস্তানের বাইরে ট্রেনিং ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। কোচ লিন্ডসে ফোন কিংবা ইমেইলের মাধ্যমে কোচিং করান। তিনি বলেন, দুই সপ্তাহ অন্তর আমরা ফোনে কথা বলি। প্রশিক্ষণ, পুষ্টি, দলের ভেতরের এবং দলের বাইরের অবস্থা নিয়ে কথাবার্তা হয়। তাদের ট্রেনিং ভিডিও পাঠাই, শরীরচর্চার নির্দেশাবলী পাঠাই, ট্যাকটিকাল পাওয়ারপয়েন্ট পাঠাই যাতে তারা এগুলো বাড়িতে দেখে এসে প্রশিক্ষণে যোগ দিতে পারে। এই মেয়েগুলো প্রশিক্ষণে যোগদান করে প্রচণ্ড মানসিক শক্তি নিয়ে এবং নিজের দেশ সম্পর্কে গর্ব নিয়ে।

এপ্রিল মাসে শুরু হবে নারীদের এশিয়া কাপ। এতে একমাত্র মুসলিম দেশ হচ্ছে স্বাগতিক জর্ডান। এই টুর্নামেন্টটি ২০১৯ সালের নারী বিশ্বকাপ ফুটবলের কোয়ালিফাইং টুর্নামেন্ট হিসেবে কাজ করবে। সেই পথও যে আফগান নারীদের জন্য সহজ হবে না তা বলাই বাহুল্য।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

কুকুর-কুমির ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর

বাঁচা-মরার ঝুঁকি মাথায় নিয়ে ফুটবল খেলছেন আফগান নারীরা

আপডেট সময় ০৭:২৪:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

তাদের লক্ষ্য করে থুথু ছোড়া হতো, ঢিল মারা হতো, পথের পাশে বোমা পুঁতে রাখা হতো। এসবই করা হতো কারণ আফগানিস্তানের এই নারীরা ফুটবল খেলতে চাইতেন। তাদের কোচ হলেন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক নারী ফুটবল দলের সাবেক তারকা কেলি লিন্ডসে।কিন্তু প্রাণভয়ে জীবনে কোনদিন আফগানিস্তানে পা রাখতে পারেননি তিনি।

এই স্কোয়াড গঠিত হয় ২০১০ সালে। কিন্তু দল গঠনের আগে এর কোন কোন সদস্য জীবনেও কোন পূর্ণাঙ্গ দলের সদস্য হয়ে ফুটবল খেলেননি। কিন্তু লিন্ডসে দায়িত্ব নেয়ার দু’বছরের মধ্যে ফিফা র‍্যাংকিং-এ আফগান নারী দল ১২৬তম অবস্থান থেকে উঠে এসেছে ১০৬-এ। কিন্তু এই সাফল্যের পরও তার দায়িত্বটা এতই ঝুঁকিপূর্ণ যে এই নারী ফুটবলারদের ট্রেনিং এবং ম্যাচগুলোর সবাই আয়োজন করতে হয় বিদেশের মাটিতে।
লিন্ডসে যে স্কোয়াডটি গঠন করেছেন তাতে যেমন আফগানিস্তানের বর্তমান বাসিন্দা নারীরা রয়েছেন, তেমনি রয়েছে প্রবাসী আফগানরা। আফগান দলের মূল লক্ষ্য বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা।কিন্তু দেশে থেকে যারা এতে খেলছেন তাদের মাথার ওপর ঝুলছে নানা ধরনের সহিংসতার হুমকি।

ঘরের নারীরা বাইরে ফুটবল খেলবেন, আফগান সংস্কৃতিতে এটা এখনও অনেকের পক্ষেই মেনে নেয়া কঠিন। লিন্ডসে বলেন, নারী যদি ফুটবল খেলে, তাহলে তার বাবা, মা, ভাই-সবাই সমাজের চোখে দোষী বলে বিবেচিত হয়। আফগান নারী ফুটবলের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর খালিদা পোপালের ভাইকে ছুরি মেরে প্রায় মেরেই ফেলা হয়েছিল। তার অপরাধ ছিল তার বোন ফুটবলের সাথে জড়িত। শুধু ফুটবলের জন্য এদের প্রতিদিন যা ভোগ করতে হয়, তা অবাক করার মতো।

নারী ফুটবল দলের জন্য আফগানিস্তানের বাইরে ট্রেনিং ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। কোচ লিন্ডসে ফোন কিংবা ইমেইলের মাধ্যমে কোচিং করান। তিনি বলেন, দুই সপ্তাহ অন্তর আমরা ফোনে কথা বলি। প্রশিক্ষণ, পুষ্টি, দলের ভেতরের এবং দলের বাইরের অবস্থা নিয়ে কথাবার্তা হয়। তাদের ট্রেনিং ভিডিও পাঠাই, শরীরচর্চার নির্দেশাবলী পাঠাই, ট্যাকটিকাল পাওয়ারপয়েন্ট পাঠাই যাতে তারা এগুলো বাড়িতে দেখে এসে প্রশিক্ষণে যোগ দিতে পারে। এই মেয়েগুলো প্রশিক্ষণে যোগদান করে প্রচণ্ড মানসিক শক্তি নিয়ে এবং নিজের দেশ সম্পর্কে গর্ব নিয়ে।

এপ্রিল মাসে শুরু হবে নারীদের এশিয়া কাপ। এতে একমাত্র মুসলিম দেশ হচ্ছে স্বাগতিক জর্ডান। এই টুর্নামেন্টটি ২০১৯ সালের নারী বিশ্বকাপ ফুটবলের কোয়ালিফাইং টুর্নামেন্ট হিসেবে কাজ করবে। সেই পথও যে আফগান নারীদের জন্য সহজ হবে না তা বলাই বাহুল্য।