ঢাকা ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছাত্রশিবিরকে তরুণ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান সন্তানেরা যুগ্মসচিব-বুয়েট শিক্ষক, তবুও একা ঘরে মরতে হলো বৃদ্ধ মাকে ‘ইরান সরকারের ভিত্তি নড়ে গেছে, এটি ভেঙে পড়তে বাধ্য’ খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত ঈদের দিন স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৭৭ বর্তমান সরকার সব মানুষের ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: মঈন খান জাতীয় ঐক্য ও দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফেসবুকে নিজের অশ্লীল ছবি দেখে তরুণীর আত্মহত্যা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফেসবুকে অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দেয়ার অপমান সইতে না পেরে কুমিল্লার লাকসামে স্মৃতি আক্তার (১৮) নামে এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছে।তার মৃত্যুর জন্য আলম নামে এক যুবককে দায়ী করে কয়েকটি চিরকুট লিখে গেছেন ওই তরুণী।নিহত স্মৃতি আক্তার উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের অশ্বতলা গ্রামের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। তিনি লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ২য় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।পারিবারিক সূত্র জানায়, স্মৃতি আক্তার শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজ ঘরে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। ডাকতে গিয়ে মেয়ের ঝুলন্ত লাশ দেখে তার মা চিৎকার দেয়। আশপাশের লোকজন এসে ওড়না কেটে স্মৃতির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন শনিবার বিকালে স্মৃতির লাশ দাফন করা হয়। পরে পরিবারের লোকজন স্মৃতির কলেজ ব্যাগে তার লিখে যাওয়া কয়েকটি চিরকুট উদ্ধার করে।চিরকুট থেকে জানা যায়, আলম নামের এক যুবক তাকে প্রায় উত্ত্যক্ত করত। একসময় আলম তাকে হত্যা করারও হুমকি দেয়। বিষয়টি স্মৃতি তার মাকে জানালে তার মা আলমের পরিবারের লোকজনকে বিষয়টি জানায়।এতে আলম ক্ষিপ্ত হয়ে স্মৃতির নামে ফেসবুকে একটি ভুয়া আইডি খুলে বিভিন্ন অপপ্রচার চালায়। একসময় স্মৃতির ছবি অশ্লীলভাবে এডিট করে তা ফেসবুকে পোস্ট করে। এ বিষয়টি স্মৃতি জানার পর লজ্জায় অপমানে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

স্মৃতির মা অহিদা বেগম বলেন, পৌরএলাকার পশ্চিমগাঁও গ্রামের (রাজঘাট) লাল মিয়ার ছেলে লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ২য় বর্ষের ছাত্র আলম তার বন্ধুদের নিয়ে কলেজে যাওয়ার পথে বিভিন্ন সময় আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত। একসময় আলম স্মৃতিকে হত্যার হুমকি দিলে সে ভয়ে বিষয়টি আমাকে জানায়।তিনি বলেন, আমি আলমের পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করলে আলমকে তার বাবা নিষেধ করে। আলম এতে আরও বেপরোয়া হয়ে স্মৃতির নামে ফেসবুকে ভুয়া একটি আইডি খুলে অশ্লীল ছবিসহ বিভিন্ন অপপ্রচার চালায়।

স্মৃতির বাবা বেলাল হোসেন জানান, স্মৃতির ছবি অশ্লীলভাবে এডিট করে তা ফেসবুকে পোস্ট করার অপমানে সে গত কিছুদিন থেকে কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। কলেজে না যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে সে কিছুই বলত না। আলমের কারণেই আমার মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। আমরা ওই ছেলের বিচার চাই।পুলিশ জানায়, ওই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বোরহান উদ্দিন জানান, আমরা সুইসাইড নোটের হাতের লেখার সঙ্গে স্মৃতির হাতের লেখার মিল রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছি। ওই চিরকুট স্মৃতির লেখা হয়ে থাকলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি

ফেসবুকে নিজের অশ্লীল ছবি দেখে তরুণীর আত্মহত্যা

আপডেট সময় ১১:৩৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুলাই ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফেসবুকে অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দেয়ার অপমান সইতে না পেরে কুমিল্লার লাকসামে স্মৃতি আক্তার (১৮) নামে এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছে।তার মৃত্যুর জন্য আলম নামে এক যুবককে দায়ী করে কয়েকটি চিরকুট লিখে গেছেন ওই তরুণী।নিহত স্মৃতি আক্তার উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের অশ্বতলা গ্রামের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। তিনি লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ২য় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।পারিবারিক সূত্র জানায়, স্মৃতি আক্তার শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজ ঘরে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। ডাকতে গিয়ে মেয়ের ঝুলন্ত লাশ দেখে তার মা চিৎকার দেয়। আশপাশের লোকজন এসে ওড়না কেটে স্মৃতির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন শনিবার বিকালে স্মৃতির লাশ দাফন করা হয়। পরে পরিবারের লোকজন স্মৃতির কলেজ ব্যাগে তার লিখে যাওয়া কয়েকটি চিরকুট উদ্ধার করে।চিরকুট থেকে জানা যায়, আলম নামের এক যুবক তাকে প্রায় উত্ত্যক্ত করত। একসময় আলম তাকে হত্যা করারও হুমকি দেয়। বিষয়টি স্মৃতি তার মাকে জানালে তার মা আলমের পরিবারের লোকজনকে বিষয়টি জানায়।এতে আলম ক্ষিপ্ত হয়ে স্মৃতির নামে ফেসবুকে একটি ভুয়া আইডি খুলে বিভিন্ন অপপ্রচার চালায়। একসময় স্মৃতির ছবি অশ্লীলভাবে এডিট করে তা ফেসবুকে পোস্ট করে। এ বিষয়টি স্মৃতি জানার পর লজ্জায় অপমানে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

স্মৃতির মা অহিদা বেগম বলেন, পৌরএলাকার পশ্চিমগাঁও গ্রামের (রাজঘাট) লাল মিয়ার ছেলে লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ২য় বর্ষের ছাত্র আলম তার বন্ধুদের নিয়ে কলেজে যাওয়ার পথে বিভিন্ন সময় আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত। একসময় আলম স্মৃতিকে হত্যার হুমকি দিলে সে ভয়ে বিষয়টি আমাকে জানায়।তিনি বলেন, আমি আলমের পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করলে আলমকে তার বাবা নিষেধ করে। আলম এতে আরও বেপরোয়া হয়ে স্মৃতির নামে ফেসবুকে ভুয়া একটি আইডি খুলে অশ্লীল ছবিসহ বিভিন্ন অপপ্রচার চালায়।

স্মৃতির বাবা বেলাল হোসেন জানান, স্মৃতির ছবি অশ্লীলভাবে এডিট করে তা ফেসবুকে পোস্ট করার অপমানে সে গত কিছুদিন থেকে কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। কলেজে না যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে সে কিছুই বলত না। আলমের কারণেই আমার মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। আমরা ওই ছেলের বিচার চাই।পুলিশ জানায়, ওই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বোরহান উদ্দিন জানান, আমরা সুইসাইড নোটের হাতের লেখার সঙ্গে স্মৃতির হাতের লেখার মিল রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছি। ওই চিরকুট স্মৃতির লেখা হয়ে থাকলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।