ঢাকা ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের অর্জন বিশ্ববাসীর দৃষ্টি কেড়েছে: রাষ্ট্রপতি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের অর্জন বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে। দেশে মাথাপিছু আয় বাড়ছে, কমেছে দারিদ্র্যের হার। বৈদেশিক বিনিয়োগ ও রেমিটেন্স প্রবাহও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, নারীর ক্ষমতায়ন বিদ্যুৎ, তথ্য প্রযুক্তিসহ আর্থ সামাজিক নানা খাতে বিপুল অর্জন কেবল দেশে নয়, বিশ্ববাসীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোলার বাংলাবাজারে স্বাধীনতা জাদুঘর উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

নাগরিক ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের অপেক্ষায় রয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ আর কল্পনা নয়, তা বাস্তব। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ আগামী ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য-আয়ের এবং ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।

ফাতেমা খানম ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত সমাবেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘স্বাধীনতা হঠাৎ করে একদিনে অর্জিত হয়নি। এর পেছনে রয়েছে অনেক বঞ্চনা ও সংগ্রামের ইতিহাস। ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৫৮ এর সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬ এর ছয় দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জাতিসত্তার বিকাশ এবং বাঙালি জাতির চূড়ান্ত উন্মেষ ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতির পিতা ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। তাতে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনার চিত্র ফুটে উঠে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল হামিদ বলেন, ইউনেস্কো সম্প্রতি এ ভাষণটিকে বিশ্বপ্রামাণ্য দলিল হিসেবে মেমোরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভূক্ত করেছে। বঙ্গবন্ধুর আহবানে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। এরপর দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লাখ মা-বোনের চরম আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা অর্জন করি চূড়ান্ত বিজয়।

তোফায়েল আহমেদকে অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশবরেণ্য রাজনীতিবিদ, বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য ও ঘনিষ্ঠ সহচর তোফায়েল আহমেদ ভোলায় স্বাধীনতা জাদুঘর স্থাপন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাঁর এ মহতি উদ্যোগের জন্য আমি তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

সুধী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক অধ্যক্ষ পারভীন আখতার। অন্যান্যর মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও বনউপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন, রাষ্ট্রপতির ছেলে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহমেদ তৌফিক, ভোলা-২ আসনের আলী আজম মুকুলসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এর আগে সকালে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ চরফ্যাশনের কুকরী-মুকরীতে ইকো পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও অসহায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের অর্জন বিশ্ববাসীর দৃষ্টি কেড়েছে: রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় ০৬:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের অর্জন বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে। দেশে মাথাপিছু আয় বাড়ছে, কমেছে দারিদ্র্যের হার। বৈদেশিক বিনিয়োগ ও রেমিটেন্স প্রবাহও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, নারীর ক্ষমতায়ন বিদ্যুৎ, তথ্য প্রযুক্তিসহ আর্থ সামাজিক নানা খাতে বিপুল অর্জন কেবল দেশে নয়, বিশ্ববাসীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোলার বাংলাবাজারে স্বাধীনতা জাদুঘর উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

নাগরিক ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের অপেক্ষায় রয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ আর কল্পনা নয়, তা বাস্তব। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ আগামী ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য-আয়ের এবং ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।

ফাতেমা খানম ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত সমাবেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘স্বাধীনতা হঠাৎ করে একদিনে অর্জিত হয়নি। এর পেছনে রয়েছে অনেক বঞ্চনা ও সংগ্রামের ইতিহাস। ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৫৮ এর সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬ এর ছয় দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জাতিসত্তার বিকাশ এবং বাঙালি জাতির চূড়ান্ত উন্মেষ ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতির পিতা ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। তাতে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনার চিত্র ফুটে উঠে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল হামিদ বলেন, ইউনেস্কো সম্প্রতি এ ভাষণটিকে বিশ্বপ্রামাণ্য দলিল হিসেবে মেমোরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভূক্ত করেছে। বঙ্গবন্ধুর আহবানে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। এরপর দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লাখ মা-বোনের চরম আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা অর্জন করি চূড়ান্ত বিজয়।

তোফায়েল আহমেদকে অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশবরেণ্য রাজনীতিবিদ, বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য ও ঘনিষ্ঠ সহচর তোফায়েল আহমেদ ভোলায় স্বাধীনতা জাদুঘর স্থাপন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাঁর এ মহতি উদ্যোগের জন্য আমি তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

সুধী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক অধ্যক্ষ পারভীন আখতার। অন্যান্যর মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও বনউপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন, রাষ্ট্রপতির ছেলে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহমেদ তৌফিক, ভোলা-২ আসনের আলী আজম মুকুলসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এর আগে সকালে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ চরফ্যাশনের কুকরী-মুকরীতে ইকো পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও অসহায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।