অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বিয়ের চার মাস যেতে না যেতেই স্বামীর হাতে প্রাণ হারালেন স্ত্রী মারুফা আক্তার (১৬)। বৃহস্পতিবার রাতে শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের ডুমাইন পশ্চিমপাড়া গ্রামে তাকে গলা টিপে হত্যা করে স্বামী সাইফুল ইসলাম। পরে স্থানীয়রা সাদ্দামকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চার মাস আগে মধুখালী উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের মৃত আহম্মদ আলী শেখের ছেলে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয় ডুমাইন ইউনিয়নের ডুমাইন গ্রামের মৃত জাফর শেখের মেয়ে মারুফা আক্তারের। বিয়ের পর থেকেই মারুফাকে নির্যাতন করতেন সাদ্দাম।
কয়েক দিন আগে মারুফা তার বাবার বাড়ি চলে আসেন। তিন দিন আগে মারুফাদের বাড়িতে আসেনসাদ্দাম। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে সাদ্দাম স্ত্রী মারুফাকে গলা টিপে হত্যা করে। পরে মারুফার লাশটি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন।
পাশের রুমে থাকা মারুফার মা দিপালী বেগম মেয়ের লাশ ঝুলতে দেখে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। এ সময় সাদ্দাম পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মারুফার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় এবং সাদ্দামকে আটক করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাদ্দাম মারুফাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।
নিহতের মা দিপালী বেগম জানান, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে নির্যাতন করত সাদ্দাম। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার দুই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথাও হয়। আমার মেয়ের ওপর আর কোনো নির্যাতন হবে না এ মর্মে সাদ্দাম আমাকে আশ্বস্ত করে।
নিহতের চাচা কামাল জানান, সাইফুল ইসলাম সাদ্দামকে প্রধান আসামি করে মধুখালী থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলম মাসুম বলেন, আলামত দেখে মনে হয়েছে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করি।
মধুখালী থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, নিহতের লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রির্পোট না আসা পর্যন্ত প্রকৃত ঘটনা বলা যাচ্ছে না। ঘটনার পর স্বামী সাদ্দামকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























